কম সিজিপিএ নিয়েও উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে চাইলে...
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল হয়তো মনের মতো হয়নি, কিন্তু উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটা এখনো রয়ে গেছে। পছন্দের বিষয়ে আরও পড়তে চান, দেশের বাইরে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, অথচ কম সিজিপিএ দেখে আবেদন করার আগেই পিছিয়ে যাচ্ছেন? মনে রাখা জরুরি, একটি ফলাফলই আপনার পুরো যোগ্যতা নির্ধারণ করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভর্তির শর্ত আলাদা, আর কিছু প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও অন্যান্য অর্জনও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তাই নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই সুযোগ খুঁজে বের করা এবং পরিকল্পিতভাবে আবেদন করাই হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ।
সিজিপিএ কম হলে কী করবেন
প্রথমেই নিজের একাডেমিক রেজাল্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। অনেক প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সিজিপিএর শর্তে ছাড় বা বিকল্প যোগ্যতা বিবেচনার সুযোগ থাকতে পারে। তবে ন্যূনতম শর্ত পূরণ না করেও ভর্তি নিশ্চিত হবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
একাডেমিক রেজাল্টের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা, পেশাগত প্রশিক্ষণ, গবেষণা, ভালো মানের পোর্টফোলিও কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা তুলে ধরা যেতে পারে। পাশাপাশি শক্তিশালী স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), সুপারিশপত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আবেদনকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।
আইইএলটিএস ছাড়া কি বিদেশে পড়া সম্ভব
বিদেশে ভর্তির ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বা টোয়েফলের মতো ইংরেজি ভাষাদক্ষতার পরীক্ষা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজন হয়। তবে সব প্রতিষ্ঠানে একই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ববর্তী শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হলে তার প্রমাণ, বিকল্প ভাষা পরীক্ষা কিংবা নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে শর্ত আলাদা।
কম সিজিপিএ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আবেদন, বিকল্প ভর্তির সুযোগ এবং আইইএলটিএস ছাড়াই ভর্তির শর্ত কেমন? এ বিষয়ে স্টাডি অ্যাব্রোড কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান এএইচজেডের কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ) ওয়াহিদ জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কম সিজিপিএ থাকলেই বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স বাছাই করতে হবে।’
ওয়াহিদ জামান আরও বলেন, ‘পাথওয়ে বা প্রি–মাস্টার্স প্রোগ্রামের শর্ত, টিউশন ফি এবং পরবর্তী ডিগ্রিতে ভর্তির যোগ্যতা যাচাই জরুরি। আইইএলটিএসের বিকল্প হিসেবে এমওআই সনদ বা অন্য পরীক্ষা গ্রহণযোগ্য কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে হবে। পাশাপাশি ভর্তি ও ভিসার শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত।’
বিকল্প পথ ও প্রস্তুতিও হতে পারে সমাধান
পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি ভর্তির শর্ত পূরণ করতে না পারলে বিকল্প পথও খুঁজে দেখা যেতে পারে। কিছু প্রতিষ্ঠানে ফাউন্ডেশন, প্রি–মাস্টার্স বা পাথওয়ে প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে মূল কোর্সে যাওয়ার সুযোগ থাকে। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত সাপেক্ষে ভর্তি কিংবা অতিরিক্ত প্রস্তুতিমূলক কোর্সের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব সুযোগ সব দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা স্তরে পাওয়া যায় না। তাই আবেদন করার আগে প্রোগ্রামের যোগ্যতা, অতিরিক্ত খরচ, মেয়াদ ও পরবর্তী ডিগ্রিতে যাওয়ার শর্ত যাচাই করা জরুরি।
আবেদনের আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন
শুধু আইইএলটিএস ছাড়াই ভর্তি কিংবা কম সিজিপিএতে সুযোগের বিজ্ঞাপন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, কোর্সের মান, টিউশন ফি, বৃত্তির শর্ত ও ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ভাষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রে বিকল্প ভাষাগত যোগ্যতা গ্রহণ করলেও ভিসা বা বৃত্তির আবেদনে আলাদা শর্ত থাকতে পারে।
তাই যাঁদের সিজিপিএ কম, তাঁদের নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন ও সময় নিয়ে আবেদন প্রস্তুত করাই হতে পারে স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ।