একটা ভাইভার জন্য এক বছর আটকে আছি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। ক্যাম্পাসে ফেরা হয় না অনেকদিন হলো। কীভাবে কাটছে শিক্ষার্থীদের সময়? সেটাই ছাত্রছাত্রীরা লিখে জানাচ্ছেন ‘স্বপ্ন নিয়ে’তে। আপনিও লেখা পাঠাতে পারেন এই ইমেইলে: [email protected]। অথবা যোগাযোগ করুন স্বপ্ন নিয়ের ফেসবুক পেজে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিকে কারও নজর নেই
দেলোয়ার হোসেন, চতুর্থ বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
চতুর্থ বর্ষের সবগুলো লিখিত পরীক্ষা শেষ। শুধু একটি ভাইভার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের ফলাফল আটকে আছে। আদৌ ফলাফল পাব কি না তাও জানি না। শুরুতে বই পড়া হতো। কিন্তু কবে ভাইবা হবে, আদৌ হবে কি না, ভেবে ভেবে এখন আর বইয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। অথচ করোনার অজুহাতে আমাদের পরীক্ষা আটকে থাকলেও অন্যান্য অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ঠিকই চলছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পড়ালেখা করে এগিয়ে যাচ্ছে। উচ্চমাধ্যমিক পাসের সনদ নিয়ে কোথাও চাকরির জন্য আবেদনও করতে পারছি না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিকে কারও কোনো নজর নেই। পরিবারে ভাইবোনের সংখ্যা বেশি হলে, মা-বাবা মারা যাওয়ার পর সবচেয়ে ছোট সন্তানের অবস্থা যা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবস্থাও তা-ই। এদের দেখার কেউ নেই। আমরা এই অবস্থার সমাধান চাই। সরাসরি সম্ভব না হলে অনলাইনে আমাদের পরীক্ষা নিয়ে ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা হোক।
এক রকম অনিশ্চয়তায় কাটছে দিনগুলো
ইয়াছিন খন্দকার, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ
শেষ কবে ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি মনে পড়ছে না। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার অবস্থা খুবই করুণ। উদ্যমহীন মন নিয়ে পড়ার টেবিলে বসতেও তেমন ইচ্ছা করে না। ক্লাসগুলো খুলবে কি না? পরীক্ষা হবে কি না? এ রকম অনিশ্চয়তায় কাটছে দিন।
ঘরে বসেই সময় যাচ্ছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া হয় না। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ধরনের সাহিত্যের বই পড়ার চেষ্টা করি। দিনের অনেকটা সময় মুঠোফোনের দিকে তাকিয়ে থেকে পেরিয়ে যায়।
এখনো আশা আছে, মহামারির দিন শেষ হবে। ক্লাসে, ক্যাম্পাসে আবার মেতে উঠব আমরা। হয়তো সেদিন আর শুনতে হবে না—‘মাস্ক পরো, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখো’। সে রকম সুন্দর একটা ভোরের অপেক্ষায় আছি...