সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপব্যাখ্যা ১৯৭১ সালকে স্মরণ করিয়ে দেয়: ঢাবি উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী নানাভাবে ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে ও সভ্যতার বিভিন্ন স্মারকের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। এগুলো ১৯৭১ সালের ‘অনভিপ্রেত ঘটনাগুলোকে’ স্মরণ করিয়ে দেয়।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেলে ‘সংবাদপত্রে বিজয়গাথা’ শীর্ষক এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করে উপাচার্য এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) দিনভর এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান পদাধিকারবলে ডুজার প্রধান উপদেষ্টা। প্রদর্শনী উদ্বোধনের আগে তা ঘুরে দেখেন তিনি। উদ্বোধনের পর উপাচার্য বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চূড়ান্ত বিজয়ের গাথা কীভাবে পত্রপত্রিকায় প্রতিফলিত হয়েছিল, তার একটি সচিত্র প্রতিবেদন নিয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও তথ্য আদান-প্রদান চলমান থাকবে। কেননা, একসময় এগুলো পত্রপত্রিকায় প্রতিফলিত হয়েছিল। তখনকার পাঠকসমাজ এটি পাঠ করতেন, অনুধাবন করতেন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মে গবেষক ছাড়া কেউই এগুলো আগ্রহ নিয়ে দেখে না। এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অগণিত দর্শক, যাঁরা এগুলো দেখবেন, খানিক সময়ের জন্য হলেও তাঁরা মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে পূর্বের সেই মূল্যবোধে ফিরে যেতে পারবেন। অনেকগুলো চিত্রে দেখা গেল, সেই সময়ও ধর্মের নানা রকম অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
উপাচার্য আরও বলেন, সেদিন (১৯৭১) পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসরেরা উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল। তারা ব্যক্তিগতভাবে চিঠিপত্র লিখত, পত্রিকায় লিখত ও সভা–সমাবেশের আয়োজন করত, যেখানে ধর্মের অপব্যাখ্যা থাকত। আজও কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আছে, যারা নানাভাবে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এবং সভ্যতার স্মারকগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলে।
মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এগুলো ১৯৭১-এর অনভিপ্রেত ঘটনাগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই আমরা খেয়াল রাখব, উগ্র–অশুভ সাম্প্রদায়িক শক্তির অপব্যাখ্যার কারণে যাতে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনার উদ্রেক না হয়। বাংলাদেশ চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক শক্তির দেশ। এ দেশে প্রত্যেক মানুষ তাদের নিজের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি নিয়েই বসবাস করে। সেই সভ্যতার ধারা অব্যাহত থাকবে, সেটাই প্রত্যাশা।’
ডুজার সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবিরের সঞ্চালনায় প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. নিজামূল হক ভূইয়া বক্তব্য দেন। প্রদর্শনীতে ১৯৭১ সালজুড়ে দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকাগুলোয় মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের সংবাদসংবলিত শতাধিক আলোকচিত্র স্থান পায়।