শিক্ষামন্ত্রীর এসব বক্তব্যের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, ইউজিসির বর্তমান সদস্য মুহাম্মদ আলমগীর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। তাঁদের মতামত নিয়েছেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদক মোশতাক আহমেদ

default-image

ভর্তি পরীক্ষা দুবারের বিষয়ে আপত্তি থাকা উচিত নয়

ইউজিসি সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত। ভর্তির জন্য বয়সের সীমারেখার দরকার নেই। কারণ, ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই তো ভর্তি হবেন। কেউ যদি বেশি বয়সে পড়তে চান, তাহলে অসুবিধা কোথায়? তবে খুব কম লোকই চাইবেন এটি। যিনি মনে করেন পারবেন, তাহলে তাঁদের জন্য সুযোগটি হোক। আর ভর্তি পরীক্ষা একবারের জায়গায় দুবার (দুই মেয়াদ বা দুই বছর) দেওয়ার বিষয়েও আপত্তি থাকা উচিত নয়। অন্যদিকে বলব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়ে যেসব বিষয়ে দিয়ে শুরু হয়েছিল, সেটি একটি ঐতিহাসিক ব্যাপার। আমার মনে হয়, ঐতিহাসিক কারণেই এগুলো থাকা উচিত। তবে আকারটি কম বা ছোট হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোনো কোনো বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সঙ্গেও যুক্ত করা যেতে পারে।’

default-image

বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিতভাবে কাজ করতে হবে

ইউজিসির বর্তমান সদস্য মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, শিক্ষামন্ত্রী যা বলেছেন, তা যথার্থ। এটি গুরুত্ব বহন করে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে। এটি হতে পারে। ঢালাওভাবে হয়তো করা যাবে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে শুধু একবার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় একবারের বেশি ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেয় না। কিন্তু আমাদের দেশেই বেশ কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুবার ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কোথাও কোথাও তিনবারও ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আছে। সুতরাং শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে যে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন, সেটি যথার্থ। তবে এটিকে কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের আরেকটি বিষয় হলো, বিষয় পরিবর্তন, কেউ দুই বছর এক বিষয়ে পড়ার পর মনে করলে বিষয় পরিবর্তন করবেন। এ সুযোগও দিতে হবে। তবে এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিতভাবে কাজ করতে হবে।

default-image

সিদ্ধান্ত হতে হবে বাংলাদেশকেন্দ্রিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোয় শিক্ষাব্যবস্থা পরিপূর্ণভাবে প্রাতিষ্ঠানিকতা পেয়েছে এবং মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে। সেখানে কেউ মনে করল, কিছুদিন পড়ে আবার কিছুদিন অবসর নিয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন, সেটা হতে পারেন। আবার প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা না দিয়ে কিছুদিন চাকরি করে পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন, সেটিও আছে। যে সমাজ ও রাষ্ট্রে অবারিত সুবিধা আছে, সেসব দেশের আলোকে উনি (শিক্ষামন্ত্রী) কথাগুলো বলেছেন। আমাদের দেশেও যদি এই সুযোগ-সুবিধাগুলো থাকে এবং পাশাপাশি মানুষের যদি একটি মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটে, তাহলে এখানেও সে রকম করা যাতে পারে। তবে আমাদের দেশের আর্থসামাজিক পরিবেশ এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে বিবেচনায় রেখে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত হতে হবে বাংলাদেশকেন্দ্রিক, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক পরিবেশকেন্দ্রিক, যা সব মহলের জন্য কল্যাণকর হবে।’

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন