শিক্ষা খাত নিয়ে ‘টাস্কফোর্স’ গঠনসহ নির্বাচিত সরকারের কাছে একগুচ্ছ প্রত্যাশা গণসাক্ষরতা অভিযানের

‘এসডিজি-৪ ও বাংলাদেশ: ‘কোথায় আছি, কোথায় যেতে চাই আমরা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ। আগারগাঁও, ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ছবি: প্রথম আলো

শিক্ষার উন্নয়নে অবিলম্বে ‘টাস্কফোর্স’ করে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা করা, জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বা জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া, শিক্ষার্থীপ্রতি উপবৃত্তি মাসে কমপক্ষে ৫০০ টাকা করা এবং উচ্চশিক্ষার আগপর্যন্ত শিক্ষাকে একই মন্ত্রণালয়ের আনাসহ স্বল্প (অবিলম্বে), মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে কাজ করতে আসন্ন নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে গণসাক্ষরতা অভিযান।

আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মোর্চা গণসাক্ষরতা অভিযানের পক্ষ থেকে এসব দাবি করা হয়েছে। ‘এসডিজি-৪ ও বাংলাদেশ: কোথায় আছি, কোথায় যেতে চাই আমরা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে এসডিজি বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে; যেখানে ইতিবাচক-নেতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ।

শিক্ষা খাত নিয়ে পরিকল্পনা করতে অভিজ্ঞ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের নিয়ে শিক্ষা খাতের জন্য একটি টাস্কফোর্স করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মনজুর আহমদ। তিনি বলেন, শিক্ষা কমিশনের দাবি আছে এবং তা যৌক্তিক। সেই কমিশন হবে স্থায়ী। সেটা আইন করে করতে হবে। এই টাস্কফোর্স যদি কাজ শুরু করে, তাহলে সেটা স্থায়ী শিক্ষা কমিশনে রূপান্তর হতে পারে। শিক্ষা খাতকে খণ্ডিতভাবে না দেখে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখতে হবে। এর সঙ্গে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। ধাপে ধাপে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিদ্যালয় শিক্ষাকে সর্বজনীন করতে হবে।

সব সরকারই শিক্ষাকে অবহেলা করে গেছে উল্লেখ করে প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নে করা পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক মনজুর আহমদ বলেন, তাঁরা প্রতিবেদন দেওয়ার প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও এই সুপারিশ নিয়ে সামগ্রিকভাবে চিন্তাভাবনা করে উদ্যোগ দেখা যায়নি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে এসডিজি-৪ (শিক্ষাবিষয়ক) নিয়ে মূল্যায়ন এবং আসন্ন নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন গণসাক্ষরতা অভিযানের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আবদুর রউফ। তিনি বলেন, প্রাথমিকে এখনো ঝরে পড়ার হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ (২০২৪ সালে), যা আগের চেয়ে বেড়েছে। ২০২৩ এই হার ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া মাধ্যমিকে এখনো ঝরে পড়ার হার ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। এই রকমভাবে শিক্ষার ইতিবাচক-নেতিবাচক বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি এবং আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে তাঁদের প্রত্যাশারা কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম, এডুকেশন লোকাল কনসালটেটিভের কো–চেয়ার মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, প্রবাসী চিকিৎসক নাহরীন আহমেদ, গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক তপন কুমার দাশ। এ ছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থী ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা নিজেদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।