গত বছর প্রিসিলা ইউনেসকোকে বলেছিলেন, তিনি মূলত বিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়া অল্প বয়সী মায়েদের বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে চান। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি শুধু তাঁদের কাছেই নই (তরুণী মা), বরং বিশ্বের যেসব মেয়ে বিদ্যালয়ে যায় না, তাদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে চাই। শিক্ষা ছাড়া আপনার ও একটি মুরগির মধ্যে আসলে কোনো পার্থক্য নেই।’

প্রিসিলা ২০১০ সালে স্থানীয় লিডারস ভিশন প্রিপারেটরি স্কুলে ভর্তি হন। তিনি ৬৫ বছর ধরে নিজ গ্রাম দালাতের রিফট ভ্যালি এলাকায় ধাত্রী হিসেবে সেবা দিয়েছেন। স্কুলে যারা তাঁর সহপাঠী ছিল, তাদের অনেকের জন্মই প্রিসিলার হাতে হয়েছে।

প্রিসিলা সিতিনেই ‘গোগো’ নামে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় কালেনজিন ভাষায় এর অর্থ দাদি। ২০১৫ সালে তিনি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, অবশেষে এই বেশি বয়সে তিনি পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছেন। এই সুযোগ তিনি ছোটবেলায় কখনো পাননি।

যেসব শিশু বিদ্যালয়ে যায় না, প্রায় সময় প্রিসিলা তাদের মুখোমুখি হয়ে বিদ্যালয়ে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইতেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে না যাওয়ার কারণ হিসেবে শিশুরা বলত, তাদের বয়স বেশি হয়ে গেছে বলে এখন আর স্কুলে যায় না। এর জবাবে আমি বলতাম, দেখো, এত বছর বয়সে আমি তো স্কুলে যাচ্ছি। তাহলে তোমারও তো যাওয়া উচিত।’

প্রিসিলা সে সময় বলেছিলেন, ‘আমি ঘুরে ঘুরে হারিয়ে যাওয়া শিশু, পিতৃহীন শিশুদের দেখতাম, হতাশ হতাম। তারপর তাদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতাম।’

বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় শুরুতে বয়স বিবেচনায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল প্রিসিলাকে। কিন্তু পড়ালেখা শেখার জন্য তাঁর দৃঢ় প্রচেষ্টা দেখে শেষমেশ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রাথমিক শাখায় ভর্তি করে নেয়। তাঁর জীবনের এই বাস্তব গল্প অবলম্বনে ‘গোগো’ নামে একটি ফরাসি চলচ্চিত্র তৈরি হয়। ওই চলচ্চিত্রের কারণেই তিনি ফ্রান্সে গিয়ে দেশটির ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত মাখোঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

প্রিসিলার মৃত্যুতে ‘গোগো’ সিনেমার সহস্ক্রিপ্ট লেখক প্যাট্রিক পেসিস শ্রদ্ধা জানিয়ে টুইটারে লিখেছেন, নারীশিক্ষা নিয়ে তাঁর বার্তা অমর হয়ে থাকবে।

প্রিসিলাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক শিক্ষার্থী বলা হলেও গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে এখনো এই স্থান দখল করে আছেন কেনিয়ার আরেক নাগরিক। তিনি প্রয়াত কিমানি মারুজ। ২০০৪ সালে ৮৪ বছর বয়সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করেন তিনি। এর পাঁচ বছর পর তাঁর মৃত্যু হয়।

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য হালনাগাদ করে তালিকায় প্রিসিলা সিতিয়েনেইর নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বিবিসি।