সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

আজ সোমবার রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার: কৌশলগত পথনির্দেশনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে অতিথিরাছবি: বিজ্ঞপ্তি

দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ সোমবার রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার: কৌশলগত পথনির্দেশনা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁরা সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন। বছরে একবার শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেওয়া হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দিতে সক্ষম হবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে ‘মিড ডে মিল’ চালু করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, আগামী বছরের মধ্যে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে থ্রি–সি কারিকুলাম (শিক্ষাক্রম), ক্লাসরুম, কনসিস্ট্যান্সি ঠিক করতে হবে। ক্লাসরুমের অবকাঠামো ও পরিবেশের উন্নয়ন করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষাক্রমে অনেক ঘাটতি রয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন শুরু করেছেন। কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে বিশেষ করে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই থেকে পড়তে বলার পর তিনি দেখেছেন, পড়াটা তাদের জন্য বেশ মুশকিল হয়। আসলে দেখতে হবে, তারা আসলে কী পড়ছে? পড়াগুলো, ভাষাগুলো তাদের জন্য উপযোগী কি না। সাবলীলভাবে তারা পড়তে পারবে কি না। তাঁর মনে হয়েছে, তাদের জন্য পড়াগুলো বেশ কঠিন। শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী করতে হবে।

যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক ও প্রাক্‌–প্রাথমিকে খেলাধুলাভিত্তিক ও স্টোরি টেলিং–বেজড (গল্পভিত্তিক) শিক্ষা চান। শিক্ষার্থীরা যেন পড়ার আগ্রহ পায় এমন শিক্ষাক্রম তৈরি করতে হবে। তবে তা আজকে তৈরি করে কালকেই চাপিয়ে দেওয়া হবে না। পাইলটিং করা হবে, প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারপর শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করা হবে।

শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছয়-সাতটি খেলা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন। এ ছাড়া নাচ, গান ও অভিনয় শেখার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও তাঁরা কাজ করছেন।

শিক্ষকদের কার্যকরী প্রশিক্ষণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পিটিআই থেকে প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১০ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু বেশ ভালো। কিন্তু স্কুলে এই প্রশিক্ষণের প্রয়োগ দেখতে যায় না। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণগুলো আরও কার্যকরী করা হবে।’

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ।