আগামী বছর থেকে সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিশুদের সপ্তাহে ৫ দিন দেওয়া হচ্ছে বনরুটি, ডিম ও কলা। ডিম-রুটি-কলা পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। রিয়াজউদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম খাবাসপুর, ফরিদপুর, ৩০ মার্চছবি: আলীমুজ্জামান

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ নামে পরিচিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি চালু করা হবে। অর্থাৎ বিদ্যালয়ে গিয়ে খাবার পাবে শিশুরা।

আজ সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আগামীকাল ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

দেশে সরকারি–বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী দুই কোটি এক লাখের বেশি। সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এক কোটি ছয় লাখের বেশি।

পুষ্টিহীনতা ও ক্ষুধা প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম বড় বাধা, এই বাস্তবতা মাথায় রেখে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে এ কর্মসূচির আওতায় খাবার দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।

বর্তমানে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ (আলট্রা হাই টেম্পারেচার হলো দুধ সংরক্ষণের পদ্ধতি, এই দুধের প্যাকেট খুলে সরাসরি পান করা যায়) ও ফর্টিফায়েড বিস্কুট (বাড়তি পুষ্টিসমৃদ্ধ) দেওয়া হয়। দিন অনুযায়ী খাবার পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। যেমন রোববার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেওয়া হয় বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম।

আরও পড়ুন

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার আগামী বছরের মধ্যে দেশব্যাপী সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি চালু করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সব উপজেলায় একসঙ্গে কর্মসূচিটি চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতিটি ডিম ১৪ টাকা, কলা ১০ টাকা, বানরুটি ২৫ টাকা, দুধ ২৯ টাকা ও বিস্কুট ১৯ টাকা ধরে খাবারের ব্যয় হিসাব করা হয়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার সরবরাহ করছে। দুধ সরবরাহ করছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান, বিস্কুট দুটি এবং বানরুটি, ডিম ও কলার প্যাকেজ সরবরাহ করছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। সোমবার বানরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং মঙ্গলবার ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও কলা দেওয়া হয়। তবে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের বানরুটি এবং নষ্ট সেদ্ধ ডিম বিতরণের অভিযোগ সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কোরবানির ঈদের পর এ বিষয়ে অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি নিজে এক মাসে ১২ থেকে ১৪টি জেলা পরিদর্শন করেছেন। তাঁর দাবি, কর্মসূচির শুরুর দিকে যে দুর্বলতাগুলো ছিল, সেগুলো এখন প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে এসেছে।

আগামী বছর সারা দেশের বিদ্যালয়ে কর্মসূচিটি চালু হলে খাবারের ধরনে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, জানতে চাইলে ববি হাজ্জাজ বলেন, অনেক বিশেষজ্ঞ কাজ করে খাবারের ধরন নির্ধারণ করেছেন। তবে পুষ্টিমান একই রেখে অন্য কোনো ধরনের খাবার দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ১৫০ উপজেলায় বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির ৩ বছরের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এখন আরও ৩৪৮ উপজেলায়, অর্থাৎ সারা দেশে কর্মসূচি চালু করা হলে মোট ব্যয় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।