বিজ্ঞাপন

সত্যের সঙ্গে মিথ্যা মিশিয়ে ছড়ানো হচ্ছে

আরিয়ে কভলার নামের রাজনৈতিক বিশ্লেষকের সঙ্গে কথা বলেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। জেরুজালেমের ওই গবেষক মিথ্যা তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেছেন, ‘বেশির ভাগই গুজব, একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে ছড়িয়ে যায়। তবে এগুলো এখন শেয়ার করা হচ্ছে, কারণ যেকোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতির তথ্য ছড়িয়ে দিতে উন্মুখ হয়ে আছে মানুষ। তা ছাড়া মানুষের বিভ্রান্ত হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, পুরোপুরি মিথ্যা না ছড়িয়ে সত্যের সঙ্গে মিশিয়ে ছড়ানো হচ্ছে। মিথ্যাচার করা হচ্ছে স্থান কিংবা সময়ের ব্যাপারে।’

মিথ্যা তথ্যের প্রসার রোধে সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই কাজ করার দাবি করেছে এর আগে। তবে পুরোপুরি যে সফল হয়নি, এ ঘটনাগুলোই তার প্রমাণ। হোয়াটসঅ্যাপের এক মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো রোধে এক বার্তা কতবার শেয়ার করা যাবে তা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে প্ল্যাটফর্মটিতে।

টিকটক এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের কর্মীরা মিথ্যা ও সহিংসতা উদ্রেককারী তথ্য এবং আমাদের নীতিমালা ভঙ্গ করে এমন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার জন্য দ্রুত কাজ করে যাচ্ছে এবং তা করে যাবে।’

বড় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের গ্রুপগুলো

default-image

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের অঞ্চলগুলোতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোর মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে মিথ্যা তথ্য। একটি বার্তায় বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনিরা আসছে।’ সেখানে নিজের সন্তানকে রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে বাবা-মায়েদের। সুনির্দিষ্ট করে ইসরায়েলের তেল আবিবের উত্তরের অঞ্চলগুলোতে এই বার্তা ছড়ানো হয় বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপে। তবে ওই অঞ্চলগুলোতে সংঘাতের কোনো খবর এখনো মেলেনি।

গত সপ্তাহে আরবি ভাষায় লেখা আরেকটি পোস্টে বলা হয়, গাজা আক্রমণে ইসরায়েলি সৈন্যদল এই এল বলে। সেটিও একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাওয়া যায়।

দুঃখের বিষয় হলো, আরবি ও হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোও কখনো কখনো মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। বেশকিছু ইসরায়েলি গণমাধ্যমে একটি ভিডিও নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। সে ভিডিওতে দেখা যায়, কাফনে মোড়ানো মৃতদেহ বহন করে এগিয়ে যাচ্ছে একটি পরিবার, এমন সময় পুলিশের সাইরেন কানে এলে মৃতদেহটি ফেলে পালিয়ে যায় তারা। গণমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, ফিলিস্তিনিরা যে সংঘাতে মৃতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলছে, এই হলো তার প্রমাণ।

অথচ ভিডিওটি ইউটিউবে এক বছর আগেও দেখা গেছে। মূল ভিডিওর বিবরণের ঘরে জর্ডানের এক পরিবারের নকল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কথা বলা হয়েছিল।

এদিকে আরবি ভাষার কিছু সংবাদমাধ্যমেও একটি ভিডিও প্রচার করে বলা হয়, জেরুজালেমের ইহুদিরা যে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতির মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে, এই হলো প্রমাণ। তবে সেটিও মিথ্যা। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়, ভিডিওটি হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকে এর আগেও অনেকবার দেখা গেছে।

সংঘাতের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের গ্রুপগুলোতে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ইতিহাস দীর্ঘ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে ইরানের বেশ কয়েকটি প্রয়াস থামিয়ে দেয় ফেসবুক। টুইটারও ২০১৯ সালে বেশ কিছু ভুয়া অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলে।

ইসরায়েলের উদ্দেশ্যে ফিলিস্তিনি মিলিশিয়ারা রকেট ছুড়ছে উল্লেখ করে ভিডিওটি অফির গেনডেলম্যান টুইটারে শেয়ার করেন গত ১২ মে। ‘বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট’ উল্লেখ করে টুইটার সেটি পরদিন মুছে ফেলে।

এর আগেও অনেকবার ভিডিও শেয়ার করে মিথ্যা ছড়ানোর চেষ্টা করেন গেনডেলম্যান। তাঁর শেয়ার করা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন মানুষকে মাটিতে শুয়ে থাকতে বলা হচ্ছে। পাশে থাকা মানুষজন তাদের বহন করে নিয়ে যায়। গেনডেলম্যান বলেছেন, কেবল ছবি তোলার জন্য মৃতের নাটক করছে তারা।

আরিয়ে কভলার মূল ভিডিওটি খুঁজে বের করেন। গত মার্চে সেটি টিকটকে পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে লেখা ছিল, বোমায় হতাহতের মহড়া চলছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন