default-image

প্রতিটি দেশের জনসংখ্যার ২০ শতাংশের চিকিত্সার জন্য করোনার টিকা বিতরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার কঠোর সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক নীতিবিদদের একটি গ্রুপ। তারা এর বদলে টিকা বিতরণের আরও ন্যায়সংগত ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এজেকিয়েল ইমানুয়েলসহ যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে ও সিঙ্গাপুরের এক ডজনের বেশি গবেষক একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তাতে যেসব দেশে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে মারাত্মক, সেখানে বেশি গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল এথিকস ও হেলথ পলিসি বিভাগের চেয়ারম্যান ইমানুয়েল বলেন, ‘প্রথম কাজ হচ্ছে অকালমৃত্যুর বিষয়টি কমানো।’
নীতিবিদদের এ দল কোনো দেশে চিকিৎসাকর্মী বা প্রবীণদের সংখ্যার নিরিখে টিকা বরাদ্দ করার ধারণাটিও বাতিল করে দেন। এতে উন্নত দেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাবে বলে মনে করেন তাঁরা।

ইমানুয়েল বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর্মী আর বয়স্ক ব্যক্তি কাদের আছে? অবশ্যই তা ধনী দেশগুলোয়।’

বিজ্ঞাপন


ইমানুয়েল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যসেবা খাত পুনর্গঠনের কারিগর ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা টিকা বিতরণে নতুন যে সিস্টেমের কথা বলছেন, তাকে মূলত ‘ফেয়ার প্রায়োরিটি মডেল’ বা যৌক্তিক অগ্রাধিকার মডেল বলা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পেরু বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে যেখানে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি, তারা টিকায় অগ্রাধিকার পাবে। ইমানুয়েল প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডকে দেখুন। তাদের ১০ লাখের বেশি ডোজ দেওয়া হচ্ছে। সেখানে এক থেকে দুজনকে রক্ষা করা সম্ভব। তাই তাদের অগ্রাধিকার কম থাকতে পারে।’

অবশ্য নীতিবিদদের মডেল নিয়ে বিতর্কের জায়গাও আছে। তাদের নীতিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের করোনাভাইরাস ব্যবস্থাপনায় বাজে পরিস্থিতি সত্ত্বেও পুরস্কৃত করার বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ প্রসঙ্গে ইমানুয়েল বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাস ঠিকমতো ব্যবস্থাপনা করতে পারেননি বলে মার্কিন জনগণকে শাস্তি দেওয়া যায় না। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সবার প্রতি সমান আচরণের কথা বলা যায় না। যাদের পরিস্থিতি খারাপ, তাদের আগে চিকিৎসা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার হিসেবে শুধু স্বাস্থ্যকর্মী নয়, বরং যারা বাড়ি, চাকরি ও বয়স নিয়ে ঝুঁকিতে আছে, তাদের দিকটা আগে ভাবতে হবে।’

মার্কিন এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেকেই এখন সংক্রমিত হচ্ছেন না। কারণ, তাঁরা জানেন কীভাবে ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে নিরাপদে থাকা যাবে। তাই অগ্রাধিকারের তালিকায় তাঁদের শীর্ষে না রাখলেও চলবে। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে টিকা ঠিকমতো কাজ করবে কি না, এর নিশ্চয়তা নেই। তাই যাঁরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তাঁদেরই টিকা দেওয়া উচিত।’

বিশ্বের ধনী দেশগুলো ইতিমধ্যে টিকা পেতে কোটি কোটি ডোজের আগাম ফরমাশ দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে আরও ন্যায়সংগত বিতরণপদ্ধতি ‘কোভ্যাক্স’ উদ্যোগ এখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। কোভ্যাক্স উদ্যোগে সই করা ৯২টি দরিদ্র দেশের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা পেতে এখন তহবিল জোগাড় করতে পারেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিজ্ঞাপন
প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন