default-image

আগে ধারণা করা হতো, পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী চাঁদ একেবারেই শুষ্ক। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষকেরা বলছেন, আগের ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। আগের ধারণার চেয়ে চাঁদে বেশি পানির অস্তিত্ব থাকতে পারে। গতকাল সোমবার প্রকাশিত দুটি গবেষণা নিবন্ধে এ আশার কথা বলা হয়।

চাঁদে পানির সন্ধান পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে নভোচারীদের মহাকাশযাত্রায় বিশেষ সুবিধা হবে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এক দশক আগে পর্যন্ত ধারণা করা হতো, পৃথিবীর এই উপগ্রহ পুরোপুরি শুষ্ক। পরে একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের এই প্রতিবেশীর পৃষ্ঠদেশে পানি চিহ্ন আটকে আছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’ সাময়িকীতে দুটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, আগের ধারণার চেয়েও বেশি পানি চন্দ্রপৃষ্ঠে থাকতে পারে। চাঁদের মেরু অঞ্চলে স্থায়ী ছায়াযুক্ত ঠান্ডা ফাঁদে সঞ্চিত বরফও থাকতে পারে।

আগের গবেষণায় চাঁদের পৃষ্ঠদেশ স্ক্যান করে পানির অস্তিত্ব থাকার বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়। তবে তখন পানি (এইচটুও) ও হাইড্রক্সিলের মধ্যে পার্থক্য বের করতে পারেননি গবেষকেরা।

নতুন গবেষণায় চন্দ্রপৃষ্ঠে পানি থাকার রাসায়নিক প্রমাণ মিলেছে। গবেষকেরা দাবি করেছেন, চাঁদের যে অঞ্চলে সূর্যের আলো পড়ে, সেখানেও পানির অণু থাকতে পারে।

নাসার স্ট্র্যাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি ফর ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোনমি (সোফিয়া) এয়ারব্রোন টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা।

হাওয়াই ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিকস অ্যান্ড প্ল্যানেটোলজির গবেষক ও গবেষণা প্রবন্ধের সহলেখক ক্যাসি হ্যানিবাল বলেছেন, গবেষকেরা মনে করছেন, চাঁদের পানি কাচের গোলক বা অন্য কোনো পদার্থে আটকা পড়েছে। যা সেখানকার রুক্ষ পরিবেশ থেকে পানিকে রক্ষা করছে। তবে পানি কোথা থেকে এল বা কীভাবে সংরক্ষিত আছে, তা জানতে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন।

হ্যানিবাল বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট অঞ্চলে যদি যথেষ্ট পানির সন্ধান পাই, তবে আমরা মহাকাশ অভিযানের সময় তা ব্যবহার করতে পারব। এই পানি পান করার পাশাপাশি অক্সিজেন, এমনকি রকেটের জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।’

মন্তব্য পড়ুন 0