default-image

করোনাভাইরাস নিয়ে অনলাইনকেন্দ্রিক প্রতারণা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও মেইল ব্যবহার করে সাইবার দুর্বৃত্তরা প্রতারণামূলক মেইল পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, অনেকেই দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে লোভনীয় অফারসহ নানা বার্তা পাচ্ছেন। করোনা মহামারির এ সময়ে অনলাইনে চাঁদাবাজির স্ক্যাম বা প্রতারণার কৌশল খাটাচ্ছে তারা।

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ অন্য মাধ্যমগুলোয় এই অপরাধের প্রবণতা বেশি। এ ধরনের সাইবার প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

কিছুদিন ধরে ফেসবুকে অনেক ব্যবহারকারী ‘কোভিড-১৯ রিলিফ ফান্ড’ বা করোনার ত্রাণ তহবিলসংক্রান্ত বার্তা পাচ্ছেন। সাইবার প্রতারকেরা পরিচিতজন বা আত্মীয় সেজে বা তার প্রোফাইল ব্যবহার করে এ ধরনের প্রতারণা করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুকে মেসেঞ্জারে প্রলুব্ধকারী লিংক পাঠিয়ে তাতে ক্লিক করতে বলা হয়। এটি একধরনের ফিশিং আক্রমণ। এতে ফেসবুক ব্যবহারকারীকে ত্রাণ তহবিল থেকে অর্থ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখানো হয়। তবে অর্থ পাইয়ে দিতে আগেভাগে কিছু অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়।

একবার অর্থ পরিশোধ করা হলে দুর্বৃত্তরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় বা কৌশলে আরও অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এ ধরনের প্রতারণা করতে পরিচিতজনের নকল বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। অথবা কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেটি ব্যবহার করে থাকে দুর্বৃত্তরা। তাদের পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক করা হলে তা ম্যালওয়্যারভর্তি কোনো সাইটে নিয়ে যেতে পারে। এতে ফোন বা অন্য কোনো ডিভাইসে ভাইরাস চলে আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে করোনাভাইরাস–সংক্রান্ত তথ্যের জন্য প্রকৃত উৎসের বাইরে কোনো তথ্য বিশ্বাস করা উচিত নয়। এ ধরনের ভুয়া প্রোফাইল দেখলে ফেসবুকে রিপোর্ট করতে হবে।

করোনাকালে আরেকটি প্রতারণা বেড়েছে মেইলে। অনেকেই মেইলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী (সিইও) বা বড় পদের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নানা রকম অফার পাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নামে ভুয়া মেইল পাঠিয়ে চাকরিসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘বিজনেস ই–মেইল কম্প্রোমাইজ’ বা বিইসি নামের বিশেষ কৌশল খাটায় দুর্বৃত্তরা।

লিংকডইনসহ বিভিন্ন সাইট থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করে তা কাজে লাগায় তারা। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হয়। তাই কেউ যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগ, সিইও, ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে বিশেষ মেইল পান, তবে সতর্ক হতে হবে।

এসব মেইলের অ্যাটাচমেন্টের সঙ্গে ম্যালওয়্যার যুক্ত থাকতে পারে। তাই কোনো লিংকে ক্লিক করার আগেও সচেতন থাকতে হবে। অনেক সময় সাইবার দুর্বৃত্তরা অনেক সূক্ষ্মভাবে ই–মেইল তৈরি করে বলে সহজে পার্থক্য ধরা পড়ে না।

বিজ্ঞাপন

সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলেন, করোনাভাইরাসের আতঙ্ক কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সাইবার দুর্বৃত্তরা। এ সময় ভুয়া মেইলে আপনার ইনবক্স ভরে উঠতে পারে। কোনোটিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার কথা বলতে পারে, কোনোটিতে ভয় দেখাতে পারে, আবার কোনোটিতে প্রলোভন দেখিয়ে লিংকে ক্লিক করতে বলতে পারে। এখন করোনাভাইরাস-সম্পর্কিত লিংকযুক্ত মেইলে ক্লিক করা মানেই বিপদ।

টেক জায়ান্ট গুগল বলছে, সম্প্রতি তারা ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি ম্যালওয়্যার ও ফিশিং মেইল দেখেছে। এসব মেইল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯-সংক্রান্ত স্ক্যাম মেইল।

গুগলের এক অফিশিয়াল পোস্টে বলা হয়েছে, মেইল ব্যবহারকারীদের প্রলোভন দেখিয়ে ফিশিং আক্রমণ ও স্ক্যাম মেইল ছড়ানো হচ্ছে। মেইল ব্যবহারকারীকে ভয় দেখানো বা আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে দ্রুত সাড়া দিতে বলছে সাইবার দুর্বৃত্তরা। অনেক মেইলের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতো বিশ্বাসযোগ্য সংস্থার ছদ্মবেশ নেওয়া হচ্ছে। এসব মেইলে দান করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিছু কিছু মেইলে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব মেইলের কোনো লিংকে ক্লিক করা হলে ম্যালওয়্যারযুক্ত ফাইল ডাউনলোড হয়ে ব্যাকডোর ইনস্টল হয়ে যেতে পারে, যাতে দূরে বসেই ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে সাইবার দুর্বৃত্তরা।

এ ধরনের স্ক্যাম থেকে রক্ষা পেতে গুগলের পরামর্শ
১. ই-মেইলে আসা কোনো লিংকে নিশ্চিত না হয়ে ক্লিক করবেন না। যে ধরনের মেইল সচরাচর আপনি প্রত্যাশা করেন না, এমন মেইলে কোনো প্রলোভন বা হুমকি দেওয়া হলে সেসব মেইল খুলেও দেখবেন না।

২. কোনো মেইল স্ক্যাম বা ফিশিং মেইল হিসেবে সন্দেহ হলে তা রিপোর্ট করুন। জিমেইলে সন্দেহজনক মেইলটি নির্বাচন করে রিপোর্ট স্প্যামে পাঠিয়ে দিন।

৩. কোনো মেইলের প্রেরক সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। মেইলে পাঠানো কোনো লিংক বা ইউআরএলের সত্যতা পরীক্ষা করুন।

মন্তব্য পড়ুন 0