প্রশ্ন

ক. সংগঠন চার্ট কী?

খ.দ্বৈত অধীনতা সংগঠনে পরিহার করতে হয় কেন? ব্যাখ্যা কর

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠন কাঠামোটি কোন ধরনের? বর্ণনা কর

ঘ. উদ্দীপক বর্ণিত সংগঠন কাঠামো প্রণয়নে বিবেচ্য বিষয়ের আলোকে জনাব রাজিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন কর।

উত্তর

ক. একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভিন্ন ব্যক্তি,
বিভাগ ও উপবিভাগের মধ্যকার সম্পর্ককে একটি চিত্রে উপস্থাপন করা হলে তাকে সংগঠন চার্জ বলে।

খ. একজন কর্মী বা বিভাগ প্রত্যক্ষভাবে একাধিক ঊর্ধ্বতনের অধীনে থাকলে তাকে দ্বৈত অধীনতা বলে। সংগঠন প্রক্রিয়ায় কার্যবিভাজনের সঙ্গে কে কার অধীন তা নির্ণীত হয়। এ ক্ষেত্রে যদি কোনো ব্যক্তি বা বিভাগকে একাধিক ঊর্ধ্বতনের কর্তৃত্বাধীন করা হয়, তবে ওই অধস্তনের পক্ষে একাধিক ঊর্ধ্বতনের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন সম্ভব হয় না। এতে কার্যক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তাই সংগঠনে দ্বৈত অধীনতা পরিহার করা উচিত।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠন কাঠামোটি সরলরৈখিক ও পদস্থকর্মী সংগঠন।

সরলরৈখিক কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা কর্মকর্তার সমন্বয়ে যে সংগঠন কাঠামো গড়ে উঠে তাকে সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন বলা হয়। এরূপ সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক নির্বাহীরা মূল দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন এবং উপদেষ্টা কর্মকর্তারা সরলরৈখিক নির্বাহীদের প্রয়োজনীয় উপদেশ ও পরামর্শ প্রদান করে থাকেন। উদ্দীপকে দেখা যায় গাজীপুর ইউনিটের ব্যবস্থাপককে সহযোগিতা প্রদানের জন্য একজন সহকারী ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব রাজিনকে সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একজন কার্য উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এখানে গাজীপুর ইউনিটের ব্যবস্থাপক ও জনাব রাজিন নির্বাহী কর্মী এবং সহকারী ব্যবস্থাপক ও কার্য উপদেষ্টা পদস্থ কর্মী। সুতরাং উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা সংগঠন।

ঘ. সংগঠন কাঠামো প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনাব রাজিন একাধিক বিবেচ্য বিষয় চিন্তা করে তাঁর সংগঠন কাঠামোটি প্রণয়নের চেষ্টা করেছেন।

প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সব ব্যক্তি, বিভাগ ও উপবিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের কাঠামো হচ্ছে সংগঠন কাঠামো।

সংগঠন কাঠামো প্রণয়নে অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হয়। এর মধ্যে কার্য বিভাগ, দায়িত্ব ও কর্তব্য, তত্ত্বাবধান পরিসর, কাজের ভারসাম্য অন্যতম কার্যবিভাগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগ গঠন করে উপযুক্ত ব্যক্তি নিয়োগ করা হয়। দায়িত্ব ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে সমতা বিধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তত্ত্বাবধান পরিচিত ক্ষেত্রে কাম্য পরিধি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, নির্বাহীদের শক্তি–সামর্থ্য ও যোগ্যতার সীমাবদ্ধতার জন্য তাঁদের অধীন কর্মীর সংখ্যা কাম্য মাত্রায় থাকা উচিত। উদ্দীপকে জনাব রাজিন দুটি ইউনিটে দুজন ব্যবস্থাপক নিয়োগ দিয়েছেন এবং ইউনিট ব্যবস্থাপককে স্ব স্ব কর্ম সম্পাদনে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েছেন, যার দ্বারা অর্পিত দায়িত্ব ও ক্ষমতার সমতা বিধান করা হয়েছে। গাজীপুর ইউনিটে শ্রমিকসংখ্যা বেশি হওয়ায় একজন সহকারী ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অধীনস্থদের সংখ্যা বিবেচনায় কাম্য তত্ত্বাবধান পরিসরের বিষয়টি চিন্তা করেই এরূপ করা হয়েছে।

আবার জনাব রাজিন নিজের পরামর্শের জন্যও একজন কার্য উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন। তবে জনাব রাজিন যদি প্রতি ইউনিটের কাজগুলোকে প্রকৃতি অনুযায়ী ভাগ করে কয়েকটি সাব ইউনিট করতেন, তাহলে কার্যবিভাগ নীতিটি আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যেত।

অতএব সামগ্রিকভাবে বলা যায়, উদ্দীপকে জনাব রাজিনের সংগঠন কাঠামো প্রণয়নে একাধিক বিবেচ্য বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে।


মো. মাজেদুল হক খান, সহকারী অধ্যাপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা