নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
পৃথিবীর সব মানুষই সাধারণত মায়ের মুখ থেকে ভাষা শেখে। মায়ের মুখ থেকে যে ভাষা শেখে, সেটাই তার মাতৃভাষা। যেমন বাঙালি সন্তানের মাতৃভাষা বাংলা, ইংরেজ–অধ্যুষিত অঞ্চলের মাতৃভাষা ইংরেজি, আরব অঞ্চলের মাতৃভাষা আরবি। মানুষের জীবনে মাতৃভাষার গুরুত্ব অনেক বেশি। মানুষ তার মাতৃভাষায় আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করে। ফলে মাতৃভাষাকে বাদ দিয়ে পৃথিবীর কোনো মানুষই চলতে পারে না। একমাত্র বাঙালি ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশ বা জাতি তাদের মাতৃভাষার জন্য লড়াই করেনি। পাকিস্তানি শাসকেরা বাঙালি জাতির ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাষার প্রতি বাঙালির যে ভালোবাসা, তা তারা প্রথমে অনুধাবন করতে পারেনি। মূলত বাঙালির ভাষার প্রতি ভালোবাসাকে স্বীকৃতি জানিয়ে ইউনেসকোর ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
৩. উপযুক্ত শব্দ বাছাই করে নিচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করে উত্তরপত্রে লেখো।
শব্দ শব্দার্থ
অনুভূতি অনুভব, উপলব্ধি
রপ্ত আয়ত্ত
মাতৃভাষা মায়ের ভাষা
অঞ্চল এলাকা
ব্যাপক বিশাল
মমত্ববোধ স্নেহবোধ
ক. ব্যাকরণ করলে ভালো লিখতে পারবে।
খ. সে ডাকাতের ভয় আছে।
গ. সন্তানের প্রতি মায়ের আছে।
ঘ. ভাষার মাধ্যমে আমরা প্রকাশ করি।
ঙ. বাংলা আমাদের ।
৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. রপ্ত, খ. অঞ্চলে, গ. মমত্ববোধ
ঘ. অনুভূতি, ঙ. মাতৃভাষা
৪. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো।
ক. মানুষের জীবনে কোন ভাষার গুরুত্ব বেশি? কেন, তা চারটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: মানুষের জীবনে মাতৃভাষার গুরুত্ব বেশি। মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য মানুষ মাতৃভাষা ব্যবহার করে। এ ভাষা সবচেয়ে সহজ। হৃদয়ের যেকোনো অনুভূতি সুন্দরভাবে প্রকাশ পায় মাতৃভাষার মাধ্যমেই। এ কারণে মানুষের জীবনে মাতৃভাষার গুরুত্ব ব্যাপক।
খ. ভাষা আন্দোলন কেন হয়েছে?
উত্তর: ১৯৫২ সালে ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন হয়েছে। বাঙালির মাতৃভাষা বাংলা। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ঘোষণা করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের মতো, সব বাঙালির ভাষাও হবে উর্দু। বাঙালি এ অন্যায়কে মেনে নিতে পারেনি। তাই মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ভাষা আন্দোলন হয়।
গ. সারা পৃথিবীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখে পালিত হয় কেন?
উত্তর: ইউনেসকো ঘোষণা করায় ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯৫২ সালে বাঙালিরা ভাষার জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করেছিল। বাঙালি বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মান রক্ষা করেছিল। শহিদ হন সালাম, রফিক, জব্বারসহ আরও অনেকে। এ জন্যই ইউনেসকোর ঘোষণা অনুযায়ী সারা বিশ্বের মানুষ ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করছে।
খন্দকার আতিক, শিক্ষক
উইল্স লিট্ল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা