শিক্ষায় প্রযুক্তির উদ্ভাবন ‘ফিউচার বুক’ নিয়ে এল ‘শিখো’

‘ফিউচার বুক’ নিয়ে এসেছে শীর্ষস্থানীয় এডটেক প্রতিষ্ঠান ‘শিখো’ছবি: বিজ্ঞপ্তি

কাগজ-কলমের বই আর স্মার্টফোনের অ্যাপ—এত দিন শিক্ষার্থীদের জন্য এই দুটো ছিল সম্পূর্ণ আলাদা দুটি জগৎ। ছাপা বই পড়ার সময় কোনো কিছু বুঝতে না পারলে অ্যাপে গিয়ে সেটি খুঁজে বের করা ছিল সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য।

এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘প্রিন্ট’ ও ‘ডিজিটাল’ লার্নিংয়ের মাঝামাঝি সমাধান হিসেবে অত্যাধুনিক উদ্ভাবন ‘ফিউচার বুক’ নিয়ে এসেছে এডটেক প্রতিষ্ঠান ‘শিখো’।

ফিউচার বুকের মূল চালিকাশক্তি হলো এর ‘ফিউচার লিংক’ প্রযুক্তি। বাজারে প্রচলিত বইগুলোতে মাঝেমধ্যে কিউআর কোড দেখা যায়, যা স্ক্যান করলে সাধারণত কোনো ওয়েবসাইটের হোমপেজ বা একটি পিডিএফ ফাইল ওপেন হয়। কিন্তু শিখোর উদ্ভাবিত ‘ফিউচার লিংক’ কাজ করে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। এটি ‘ডিপ লিংকিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে।

বইয়ের প্রতিটি প্যারাগ্রাফ, গাণিতিক সমস্যা বা কনসেপ্টের পাশে অত্যন্ত কৌশলগতভাবে এই লিংকগুলো বসানো হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী যখন বইয়ের কোনো নির্দিষ্ট টপিক পড়ছে এবং সেখানে আটকে যাচ্ছে, তখন ফিউচার লিংক স্ক্যান করার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপটি তাকে ঠিক ওই টপিকের ভিডিও লেসন বা সমাধানের জায়গায় নিয়ে যাবে। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীকে অ্যাপে ঢুকে মেনু ঘেঁটে বা সার্চ করে সময় নষ্ট করতে হবে না। ফিজিক্যাল বইয়ের ঠিক যে লাইনে শিক্ষার্থীর আঙুল আছে, অ্যাপের স্ক্রিনেও ঠিক সেই কন্টেন্ট ভেসে উঠবে। এই ‘কনটেক্সট-অ্যাওয়্যার’ প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং শেখার গতি বাড়াতে সাহায্য করবে।

‘শিখো’র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শাহীর চৌধুরী বলেন, ‘এটি কেবল একটি বই নয়, একটি হাইব্রিড লার্নিং এক্সপেরিয়েন্স। আমাদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এখানে এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে, যেখানে বই ও অ্যাপ একে অপরের পরিপূরক। বাংলাদেশে শিক্ষার ভ্যালু চেইনে এ ধরনের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এই প্রথম।’

ফিউচার বুকের প্রতিটি অধ্যায় সাজানো হয়েছে শিক্ষার্থীদের সাইকোলজি বা মনস্তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে। এতে রয়েছে ‘এক্সপ্লোর’, ‘রিফ্লেক্ট’ এবং ‘চ্যাপ্টার চ্যালেঞ্জ’ সেকশন। বইয়ের পাতায় কুইজ বা প্রশ্ন থাকলেও উত্তর দেওয়ার জন্য ফিউচার লিংক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা অ্যাপে চলে যেতে পারবে, যেখানে তারা তাৎক্ষণিক ফলাফল ও ব্যাখ্যা পাবে।

‘শিখো’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ইশমাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল এমন একটি বই তৈরি করা, যা দেখতে সাধারণ বইয়ের মতো হলেও কাজ করবে স্মার্ট ডিভাইসের মতো।...প্রযুক্তির জটিলতা যেন শিক্ষার্থীর পড়ার ফোকাস নষ্ট না করে, বরং তা পড়ার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তোলে।’