শিক্ষা খাতে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যর্থতা ও সিদ্ধান্তহীনতার চিত্র সামনে এসেছে। রুটিনকাজেও হিমশিম অবস্থা।
করোনাকালসহ দু-এক বছরের ব্যতিক্রম ছাড়া দেড় দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছিল। নতুন বই হাতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের স্বস্তি, উৎসবমুখর পরিবেশ—সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছিল শিক্ষাবর্ষ শুরুর একটি পরিচিত দৃশ্য। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নিয়মিতভাবে এ দায়িত্ব পালন করে এসেছে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুটি শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণের সুযোগ পেলেও একবারও বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এখনো মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যবই সরবরাহ করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এনসিটিবি। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সরবরাহ শেষ হবে। তবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী ৮৬ লাখ ৪১ হাজার ৯৬০ বই সরবরাহ বাকি ছিল। প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই অবশ্য শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই মাঠপর্যায়ে পৌঁছানো হয়েছিল। গত বছর শিক্ষাবর্ষ শুরুর পর সব বই দিতে সময় লেগেছিল প্রায় তিন মাস।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বই সরবরাহে দেরি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটায়। তাঁরা বলছেন, বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ একটি রুটিন কাজ। দরপত্র, ছাপা ও বিতরণ—সবকিছুই নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর অনেক আগেই পরিকল্পনায় থাকার কথা। এটি করতে না পারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার প্রতিফলন।
শুধু সময়মতো বই বিতরণ করতে না পারা নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা, নেতৃত্বহীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার চিত্র প্রকট হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মানুষ আশা করেছিল, শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে। বাস্তবে তা হয়নি। সংস্কারের কথা বলে বিভিন্ন খাতে কমিশন গঠন করা হলেও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কমিশন গঠন করা হয়নি। এটি শিক্ষার প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত।
সব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল না। তা সত্ত্বেও সরকার যে কাজটি করতে পারত, তা হলো শিক্ষা নিয়ে একটি সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনার সূচনা করা।মনজুর আহমেদ, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
মেয়াদের শেষদিকে এসে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের নেতৃত্বে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটি আসছে ১২ ফ্রেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগেই প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানা গেছে। তবে বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রতিবেদন অনুযায়ী কোনো কিছুর বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নীতিনির্ধারণী কাজ ছাড়াও রুটিন কাজের ব্যর্থতা অনেক। তুলনামূলকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কিছু কাজ করতে পারলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সামগ্রিকভাবে হিমশিম খাচ্ছে। যথাযথ পরিকল্পনার অভাব, বাস্তবায়নে ঢিলেমি ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই শিক্ষা খাতে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হয়ে উঠেছে।
গোড়াতেই ‘গলদ’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই সচিবালয়ের ভেতরে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে। তাদের দাবির মুখে এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হয়। এরপর ‘ভিন্ন পদ্ধতিতে’ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ এটিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক দুর্বলতার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদল শিক্ষার্থীর দাবির মুখে এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতাই প্রকাশ করে। এর প্রভাব দীর্ঘ মেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর পড়বে।
ওই ঘটনার পর থেকে শিক্ষাঙ্গনে ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণ) বেড়েছে। বেশ কয়েকজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ওপর চাপ, পদত্যাগ ও প্রশাসনিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দায় গিয়ে পড়ে শিক্ষকদের ওপর। কোথাও পদত্যাগ, কোথাও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘটনাও ঘটে, যা শিক্ষা পরিবেশকে আরও নাজুক করে তোলে। এটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্কেও অবনতি ঘটাচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় একেবারেই সীমিত। ফলে নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের বাকি মেয়াদে এ নিয়ে আর উদ্যোগের সম্ভাবনা নেই।
শিক্ষাক্রমে পিছু হাঁটা
২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দায়িত্ব নিয়ে সচিবালয়ে যাওয়ার প্রথম দিনেই পুরোনো শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। কোনো আলোচনা-পরামর্শ ছাড়াই শিক্ষাক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আকস্মিক এ সিদ্ধান্ত নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষে নানা কথা ওঠে। তখনকার বাস্তবতায় অনেকেই এটিকে সাময়িক স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা হিসেবে দেখেন। তবে এরপর কী—সে বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পরিকল্পনা নেই।
গত বছরের জুনে বর্তমান শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার) জানিয়েছিলেন, ২০২৭ সাল থেকে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চালু করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কোনো কমিটি হয়নি, কোনো রূপরেখাও তৈরি হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় একেবারেই সীমিত। ফলে নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই। এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের বাকি মেয়াদে এ নিয়ে আর উদ্যোগের সম্ভাবনা নেই।
শিক্ষাবিদদের মতে, যখন পুরো বিশ্ব দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার দিকে এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশ আবারও পুরোনো কাঠামোর ভেতরে শিক্ষার্থীদের আটকে দিচ্ছে। এর প্রভাব শুধু শিক্ষায় নয়, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।
নেতৃত্বহীন সংস্থা, কাজে স্থবিরতা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। গত বছরের ১৫ অক্টোবর থেকে সেখানে নিয়মিত মহাপরিচালক নেই। প্রায় এক মাস শূন্য ছিল পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালকের পদও। তবে ৬ জানুয়ারি এই শাখা ও আরেক শাখায় নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মাউশির একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মাউশিতে এখন একপ্রকার স্থবিরতা চলছে।
জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) মহাপরিচালকের পদও শূন্য। একজন কর্মকর্তা পরিচালক রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন। আর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাকে এভাবে নেতৃত্বহীন রেখে দেওয়া কেবল অবহেলা নয়; এটি প্রশাসনিক অযোগ্যতারও ইঙ্গিত দেয়। একাধিক শিক্ষাবিদ বলছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—এখনো কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ বা পথনকশা নেই।
সংকট থেকে আরও সংকট
ঢাকার বড় সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে সংকটের সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত হওয়ার আগেই অধিভুক্তি বাতিল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এখন নতুন আরেক কাঠামোর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো অধ্যাদেশ জারি হয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে খসড়া উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।
তবে অধ্যাদেশ করা হলেও অল্প সময়ে আনুষঙ্গিক কাজগুলো শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা যাবে কি না, সে প্রশ্ন আছে।
দেশের উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পরিবর্তে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটিও অন্তর্বর্তী সরকারের বাকি মেয়াদে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অবসর সুবিধার ভোগান্তি কমেনি
সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত (বেতন বাবদ মাসে সরকারি অনুদান) শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। এসব শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ও কল্যাণ সুবিধা দেওয়া হয় দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কল্যাণ সুবিধার অর্থ দেওয়া হয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে। আর অবসরসুবিধা দেওয়া হয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসরসুবিধা বোর্ডের মাধ্যমে।
অবসরসুবিধা বোর্ডের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষক-কর্মচারীরা ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর অবসর সুবিধা পাননি। কল্যাণ ট্রাস্টের পরিস্থিতিও একই।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সংকট সমাধানে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার গত ১২ নভেম্বর অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন। পত্রে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে অবসরসুবিধার জন্য ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ২ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এত দিন পরেও এই দুই প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অস্থায়ী ব্যবস্থায় চলছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
‘প্রত্যাশা পূরণ হয়নি’
তবে প্রাথমিকের প্রধানশিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করা, শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আটকে থাকা পদোন্নতি, বদলিসহ কিছু কাজ অবশ্য হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি এবং এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শিক্ষা খাতের পরিস্থিতি সব মিলিয়ে হতাশাজনক বলে মনে করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ সময়ে প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। প্রথম থেকেই শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে শিক্ষাকে ভালো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি—এটি সব সরকারের ক্ষেত্রেই সত্য।
অধ্যাপক মনজুর আহমেদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল যে এই ধারায় অন্তত ব্যতিক্রম ঘটবে, কিন্তু সেই প্রত্যাশা ব্যর্থ হয়েছে বলেই বলতে হয়। তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল না। তা সত্ত্বেও সরকার যে কাজটি করতে পারত, তা হলো শিক্ষা নিয়ে একটি সামগ্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা-ভাবনার সূচনা করা।