ইউজিসি বলছে, ২০২০ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল ৭৬৭ জন। পরের বছর কমে দাঁড়ায় ৬৭৭ জনে। তবে ২০১৯ সালের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২০ সালে বিদেশি শিক্ষার্থী বেড়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০১৮ সাল থেকে ধারাবাহিক বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়ছে। ২০১৮ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ৩৮৬ জন। পরের বছর বেড়ে ১ হাজার ৪৬৭, ২০২০ সালে ১ হাজারে ৫৫০ এবং ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬০৪ জনে।

৩৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমবেশি বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, চীন, জাপান, ইয়েমেন, ফিলিস্তিন, গাম্বিয়া, নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, ঘানা, মরক্কো, কোরিয়া, ইরান, তানজানিয়া, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, সোমালিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

আবাসিক সুবিধা

ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশের সরকারি (জাতীয়, উন্মুক্ত ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক সুবিধা পাওয়া শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিসংখ্যানও তুলে দেওয়া হয়েছে।

২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী সরকারি ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪৫ জন। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬০টি আবাসিক হল বা ডরমিটরিতে আবাসিক সুবিধা পান ১ লাখ ৪ হাজার ৮৫২ বা ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬১ হাজার ৭০১ ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ১৫১ ছাত্রী।

অবশ্য হলগুলোর বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কারণ, হলে প্রকৃত আসনের বাইরেও অসংখ্য শিক্ষার্থী থাকেন। বিশেষ করে ছাত্রদের আবাসিক হলগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। এগুলো মূলত ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতারা নিয়ন্ত্রণ করেন। এখন যেমন আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের নেতারা এসব নিয়ন্ত্রণ করেন। অনেক হলে ‘গণরুম’ রয়েছে। ফলে আবাসিক কক্ষে পড়ার সুবিধা খুবই অপ্রতুল। এ জন্য বিনিয়োগ বাড়িয়ে আবাসিক সুবিধা বাড়ানোর দাবি দীর্ঘদিনের।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পান। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষার্থী ৩ লাখ ১০ হাজার ১০৭ জন। তাঁদের মধ্যে আবাসিক সুবিধা পান ১০ হাজার ৮৪৬ শিক্ষার্থী।