দরিদ্র পরিবারের সব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করার প্রস্তাবসহ শিক্ষা খাত বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন ডিসিরা। সব শিশুর শিখন নিশ্চিত করতে একীভূত শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়নব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা।
চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হবে আগামী ৩ মে, যা চলবে ৬ মে পর্যন্ত। এ সম্মেলন উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা সারা দেশ থেকে ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। এর মধ্যে থেকে বাছাই করে আলোচনার জন্য ৪৯৮টি প্রস্তাব নির্ধারণ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সম্মেলনে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রী ও সচিবদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ–সংক্রান্ত বিষয়ে ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ডিসিরা নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাঁদের প্রস্তাব ও এই সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। এ কারণে এবারের সম্মেলনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও এ সম্মেলন থেকে আসতে পারে।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনের এ সম্মেলনের উদ্বোধন করতে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হলেও কার্য অধিবেশন হতো ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। এবার উদ্বোধনসহ পুরো আয়োজনই ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
নিয়মানুযায়ী উদ্বোধনের পর মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী প্রস্তাবগুলোও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সাজানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যেন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেন সে জন্য আইন পরিবর্তন করা, কওমি মাদ্রাসা স্থাপনে নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব–পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ভাষায় শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবও দিয়েছেন ডিসিরা। ২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো ও ওঁরাও (সাদরি)—এই পাঁচটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশু মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে নিজস্ব ভাষার দক্ষ শিক্ষকের অভাবে কার্যকর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এ ছাড়া ফরিদপুরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করাসহ শিক্ষা বিষয়ে আরও বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকেরা।