এমপিওভুক্ত হতে পারে ১,৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্বাচনের আগে না পরে

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ফাইল ছবি

নতুন করে এমপিওভুক্ত করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে প্রথম পর্যায়ে বিবেচনাযোগ্য এসব প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সংখ্যা ঠিক করা হলেও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম এখনো চলছে। প্রয়োজনে সরজমিন যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এখন যাচাই–বাছাইয়ের কাজটি এগিয়ে রাখা হবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই, সেটা হচ্ছেও না।

এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে বেতনের মূল অংশ ও বেশ কিছু ভাতা সরকারের কাছ থেকে পেয়ে থাকেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালার আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল। নির্ধারিত সময়ে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন পাওয়া যায়। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) পর্যায়ের ৮৫৯টি, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১ হাজার ১৭০টি, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৮৭টি, স্নাতক (পাস) পর্যায়ের ৪৪০টি, স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের ৪১৪টি এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

নীতিমালায় নির্ধারিত মাপকাঠির ভিত্তিতে আবেদনগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তির যোগ্যতা, আঞ্চলিক সাম্যসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত শর্তে পাওয়া গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রথম ধাপে বিভিন্ন পর্যায়ের ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনাযোগ্য হয়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য আর্থিক সংশ্লেষ নিরূপণ করা হয়েছে। এরপর এমপিওভুক্তির বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, প্রথম পর্যায়ে বিবেচনাযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সংখ্যা নিরূপণ করা হলেও সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম বর্তমানে চলমান। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া প্রমাণপত্রগুলো ভূমি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত তথ্য ও অনলাইন তথ্যভান্ডারের ভিত্তিতে বিস্তারিত যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সরজমিন যাচাই করা হবে।

নীতিমালায় নির্ধারিত মাপকাঠির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এমপিওভুক্তির আবেদনগুলো মূল্যায়ন এবং সংস্থাগুলোর অনলাইন তথ্য ও সরজমিন যাচাইয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর আর অসত্য তথ্য বা সংবাদ প্রচার না করে এ কাজে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে সহায়তা করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে কোনো এমপিওভুক্তির অনুমোদনের বিষয়ে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের চেষ্টা না করার জন্য অনুরোধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এমন যোগাযোগের চেষ্টা করলে কিংবা এমপিও–সংক্রান্ত অভিযোগ বা অন্য কোনো তথ্য জানা থাকলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে খুদে বার্তায় (হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: +8৮৮০১ ৩৩৯-৭৭৪৫২৮) জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।