জীববিজ্ঞান

 সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর: অধ্যায়-১০

প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ জীববিজ্ঞান বিষয় থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তরের নমুনা দেওয়া হলো। 

ফরহাদের খেতের লাউগাছের ডগাগুলো ছাগলে খেয়ে ফেলে। কয়েক দিন পর সে লক্ষ করে, খেয়ে ফেলা ডগাগুলো থেকে পার্শ্বমুকুলের মাধ্যমে শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি হয়ে ফুল ধরতে শুরু করেছে। ফরহাদ অবশিষ্ট গাছগুলোর শীর্ষভাগ কেটে দেয়। এতে অল্প দিনের মধ্যেই লাউগাছগুলো শাখা-প্রশাখায় ভরে যায় এবং লাউয়ের উত্পাদন বৃদ্ধি পায়।

ক. শীর্ষ প্রকটতা কাকে বলে?

খ. ভার্নালাইজেশন বলতে কী বোঝায়?

গ. বর্ণিত উদ্ভিদের দ্রুত শাখা-প্রশাখা সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ফরহাদের উল্লিখিত পদ্ধতি সব উদ্ভিদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে? মতামত দাও।

উত্তর: ক. কাণ্ডের শীর্ষভাগের বৃদ্ধির প্রকটতাকে শীর্ষ প্রকটতা বলে।

উত্তর: খ. শৈত্য প্রদান করে উদ্ভিদে ফুল ধারণকে ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে। অঙ্কুরিত বীজ বা ছোট চারাগাছকে শৈত্য প্রদান করে ভার্নালাইজেশন করা হয়। রাশিয়ায় ভার্নালাইজেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করে দ্বিবার্ষিক গমকে বর্ষজীবী গমে পরিণত করা হয়েছে। আমাদের দেশে প্রতিবছর বন্যায় অনেক ধান নষ্ট হয়ে যায়। ভার্নালাইজেশন পদ্ধতি প্রয়োগ করে যদি ধানে ফুল ধারণক্ষমতা ৫-১০ দিন এগিয়ে আনা যায়, তাহলে বন্যার কবল থেকে কোটি কোটি টাকার ধান রক্ষা করা যাবে।

উত্তর: গ. ফরহাদের লাউগাছের ডগাগুলো ছাগলে খেয়ে ফেলে। খেয়ে ফেলা অংশগুলো থেকে পার্শ্বমুকুল সৃষ্টি হয়। পরে সে অবশিষ্ট গাছগুলোর শীর্ষভাগও কেটে দেয়। যেকোনো গাছের অগ্রমুকুলের তুলনায় পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধি কম হয়। অক্সিন নামক বৃদ্ধিবর্ধক রাসায়নিক পদার্থ অগ্রমুকুলে অধিক মাত্রায় থাকার কারণে অগ্রমুকুলের বৃদ্ধি দ্রুত হয়। সে জন্য পার্শ্বমুকুলের বৃদ্ধি হয় না। কিন্তু অগ্রমুকুল কেটে দিলে কক্ষমুকুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। কারণ, অগ্রমুকুল কেটে নিলে অক্সিন নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। ফরহাদ লাউগাছের অগ্রমুকুল কেটে না দিলে কেবল অগ্রমুকুলই বৃদ্ধি পেত, কক্ষমুকুল বৃদ্ধি পেত না। ফলে কোনো শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি হতো না। কিন্তু অগ্রমুকুল বা শীর্ষভাগ কেটে দেওয়ার পর দ্রুত পার্শ্বমুকুলের মাধ্যমে শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি হয়।

উত্তর: ঘ. ফরহাদ তার লাউগাছের অগ্রমুকুল কেটে দিয়েছিল। লাউগাছের মতো সব উদ্ভিদের অগ্রমুকুল কেটে দিলে প্রতিক্ষেত্রেই সুফল পাওয়া যাবে না। সাধারণত যেসব উদ্ভিদের অধিক শাখা প্রয়োজন এবং পার্শ্বের তুলনায় অনেক দীর্ঘ হয়ে থাকে, সেসব গুল্ম ও বীরুত্-জাতীয় উদ্ভিদের অগ্রমুকুল কেটে দেওয়া হয়। ফলে শীর্ষের অক্সিনের প্রভাবে কোষগুলো দ্রুত বিভাজিত হয়, দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং অনেক শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি হয়। কয়েকটি উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অগ্রমুকুল কেটে দেওয়ার প্রভাব নিচে আলোচনা করা হলো:

চা-গাছ: চা-গাছের পাতা ও কুঁড়ি সংগ্রহ করে চা উত্পাদন করা হয়। তাই অধিক নতুন পাতা ও কুঁড়ি জন্ম নেওয়ার জন্য অগ্রমুকুল কেটে দেওয়া হয়। চা-গাছের অগ্রমুকুল কেটে দিলে নিচ থেকে অনেক কক্ষমুকুল সৃষ্টি হয়। ফলে চায়ের কুঁড়ি তথা উত্পাদন বৃদ্ধি পায়।

মরিচগাছ: মরিচগাছের আগা, অর্থাত্ অগ্রমুকুল কেটে দিলে গাছের কাণ্ডের পার্শ্বমুকুলগুলো শাখা-প্রশাখায় পরিণত হয়। অধিক শাখা-প্রশাখাযুক্ত মরিচগাছ থেকে অধিক ফলন পাওয়া যায়।

কাষ্ঠল উদ্ভিদ: যেসব উদ্ভিদ থেকে কাঠ সংগ্রহ করা হয়, সেসব গাছকে সোজা রাখতে হয় এবং গাছের পার্শ্ব বৃদ্ধিরও প্রয়োজন হয়। তাই এসব উদ্ভিদের অগ্রমুকুল কেটে দিলে গাছ তেমন লম্বা হবে না, বরং শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে ঝোপ আকৃতির হয়ে যাবে এবং পার্শ্ববৃদ্ধিও বেড়ে যাবে।

একক কাণ্ডবিশিষ্ট উদ্ভিদ: একক কাণ্ডবিশিষ্ট উদ্ভিদে (যেমন: সুপারি, নারকেল, তাল) অগ্রমুকুল কেটে দিলে উদ্ভিদটিই মারা যাবে।

সুতরাং, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয়, উপকারিতা এবং অপকারিতা বিচার করে যেসব উদ্ভিদের জন্য অগ্রমুকুল কেটে দেওয়া সুবিধাজনক, কেবল সেসব উদ্ভিদের ক্ষেত্রেই অগ্রমুকুল কেটে ফেলা যুক্তিযুক্ত। সব উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অগ্রমুকুল কেটে ফেলা যুক্তিযুক্ত নয়।

প্রভাষক

রূপনগর মডেল স্কুল ও কলেজ, ঢাকা