তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর: অধ্যায়-১
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অধ্যায়-১ থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো। এগুলো সংগ্রহ করে পড়বে।

প্রশ্ন: টেলিমেডিসিন কী? চিকিৎসাক্ষেত্রে আইসিটি কীভাবে ভূমিকা রাখছে, লেখো।
উত্তর: টেলিমেডিসিন হলো যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহাযে্য দূর থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণপদ্ধতি। এ ব্যবস্থায় পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ যেকোনো সমস্যায় যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে এবং চিকিৎসাসেবা নিতে পারে।
বিজ্ঞানের যে কয়টি শাখা দ্রুত উন্নতি করেছে, চিকিৎসাবিজ্ঞান তার মধ্যে অন্যতম। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের যেকোনো স্থানে বসেই এখন চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা সম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে চিকিৎসকেরা আর অনুমানের ওপর নির্ভর করে না। একজন রোগী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শরীরকে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা এবং রোগ নির্ণয় তথ্যপ্রযুক্তির সাহাযে্য করা যায়। শুধু তা-ই নয়, প্রাপ্ত তথ্যগুলো ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। যখন কোনো ওষুধের প্রেসক্রিপশন করতে হয়, সেটাও তথ্যপ্রযুক্তির কারণে সঠিক হয়। চিকিৎসার প্রয়োজনে নতুন নতুন যন্ত্রপাতিও তৈরি হচ্ছে।
দেশের কোটি কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি সম্ভব হয় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে নিখঁুত পরিকল্পনা আর তা কার্যকরের মাধ্যমে। তথ্যপ্রযুক্তির কারণে অন্য মাত্রায় গবেষণা সম্ভব হয়েছে। আগে শুধু রোগের উপসর্গ কমানো হতো। এখন সত্যিকারভাবে রোগের কারণটিই খুঁজে বের করে সেটিকে অপসারণ করা হয়। শুধু তা-ই নয়, এখন যেমন সব মানুষ একই ওষুধ খায়, ভবিষ্যতে প্রত্যেক মানুষের জন্য আলাদা করে তার শরীরের উপযোগী ওষুধ তৈরি হবে। এমনকি ভবিষ্যতে হাজার মাইল দূরে থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্জনরা রোগীর অপারেশন করতে পারবেন। তাই বলা যায়, চিকিৎসাক্ষেত্রে আইসিটির ভূমিকা অপরিসীম।
প্রশ্ন: গবেষণা কাজে আইসিটির ক্ষেত্র উল্লেখ করে ৩টি ক্ষেত্রের বর্ণনা দাও।
উত্তর: গবেষণাকাজে আইসিটির ৩টি ক্ষেত্রের বর্ণনা দেওয়া হলো:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা ধরনের উৎকর্ষ সাধনে গবেষণার প্রয়োজন। মানুষ সাহিত্য, শিল্প, সমাজবিজ্ঞান, গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যা নিয়েই গবেষণা করুক না কেন, তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া চিন্তাই করা যায় না।
তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে : গবেষণার জন্য প্রয়োজন নানা ধরনের তথ্য। আর এসব তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, প্রক্রিয়া করতে হয়, বিশ্লেষণ করতে হয় এবং গবেষণা শেষে তথ্যকে সুন্দরভাবে প্রদর্শন করতে হয়। আগে মানুষকে এসব কাজ দৈহিক পরিশ্রম করে করতে হতো, কিন্তু কম্পিউটার চলে আসার পর এসব কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে।
তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক গবেষণা : তাত্ত্বিক গবেষণায় গবেষকেরা একটা বিষয়ের তাত্ত্বিক অংশটুকু নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন এ জন্য তাঁরা কম্পিউটারের ওপর নির্ভর করে। ল্যাবরেটরিতে ব্যবহারিক গবেষণা নানা রকম যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়।
প্রভাষক, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা