প্রশ্নোত্তর

অধ্যায় ১

প্রশ্ন: কয়েকটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের নাম লেখো। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কী কাজ করা যায়?

উত্তর: কয়েকটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান হলো ওডেক্স, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্স ও গুরু প্রভৃতি।

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে যেসব কাজ করা হয় তা হলো:

১. বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের নিজেদের অনেক কাজ যেমন: ওয়েবসাইট উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, মাসিক বেতন, ভাতার বিল প্রস্তুতকরণ, ওয়েবসাইটে তথ্য যোগ করা, সফটওয়্যার তৈরি ইত্যাদি কাজ করতে পারে।

২. আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে যে কেউ অতি দ্রুত এবং ঘরে বসে তার মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারে।

৩. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন তৈরি ও এডিটিং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করতে পারে।

প্রশ্ন: যোগাযোগ করার পদ্ধতিকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? উদাহরণসহ বর্ণনা দাও।

উত্তর: যোগাযোগ করার পদ্ধতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো একমুখী ও দ্বিমুখী যোগাযোগ পদ্ধতি।

নিচে এই পদ্ধতি দুটি পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

একমুখী পদ্ধতি: একমুখী পদ্ধতিতে যোগাযোগ হয় একপক্ষ থেকে। যখন একজন বা একটি প্রতিষ্ঠান ‘একমুখী’ পদ্ধতিতে অনেকের সাথে যোগাযোগ করে, সেটিকে একমুখী পদ্ধতি বা ইংরেজিতে ব্রডকাস্ট বলে।

উদাহরণ: রেডিও বা টেলিভিশন হলো একমুখী পদ্ধতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এ প্রক্রিয়ায় যখন কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়, তখন তা সবার জন্য প্রচার করা হয়। এটি ব্রডকাস্ট পদ্ধতি। যাদের জন্য এ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়, তারা পাল্টা যোগাযোগ করতে পারে না বলে এটি একমুখী পদ্ধতি।

দ্বিমুখী যোগাযোগ পদ্ধতি: দ্বিমুখী যোগাযোগ করা হয় দুই পক্ষ থেকে। দুই পক্ষেরই যোগাযোগ করার সুযোগ তৈরি হয়।

উদাহরণ: এ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হলো টেলিফোন ও মোবাইল। কেননা এগুলো মাধ্যমে দুজন একই সঙ্গে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।

প্রশ্ন: টেলিমেডিসিন কি? চিকিৎসার ক্ষেত্রে এর অবদান বর্ণনা করো।

উত্তর: টেলিমেডিসিন হলো আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা গ্রহণ পদ্ধতি। এ ব্যবস্থায় পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ যেকোনো চিকিৎসা সমস্যায় অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর থেকেই বিেশষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।

বিজ্ঞানের যে কটি শাখা অনেক উন্নতি করেছে, চিকিৎসাবিজ্ঞান তার মধ্যে অন্যতম। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বিশ্বের যেকোনো স্থানে বসেই এখন চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। একজন রোগী সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা এবং রোগনির্ণয় তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে সহজে করতে পারছেন। শুধু তা-ই নয়, প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য েডটাবেইসে সংরক্ষণ করছেন। পরবর্তী সময়ে অন্য যে কোনো চিকিৎসার ক্ষেত্রে পূর্বে সংরক্ষিত েডটাবেইসের সহায়তা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

যখন কোনো ওষুধের প্রেসক্রিপশন করতে হয়, সেটাও তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে সঠিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে নতুন নতুন যন্ত্রপাতিও তৈরি হচ্ছে।

দেশের কোটি কোটি শিশুকে সঠিক সময়ে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে হাজার হাজার মাইল দূর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্জনরা অপারেশন করতে পারবেন বলে আশা করা যায়। তাই বলা যায়, চিকিৎসাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা অপরিসীম।