বাংলা

বীরের রক্তে স্বাধীন এ দেশ
প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ বাংলা বিষয়ের ‘বীরের রক্তে স্বাধীন এ দেশ’ প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করা হবে। তোমরা মনোযোগসহকারে পাঠ আলোচনাটি পড়বে।

প্রশ্ন: প্রদত্ত শব্দগুলোর অর্থ লেখো।
টহল, আসন্ন, অবধারিত, রক্তস্রোতে, রঞ্জিত, শায়িত।
উত্তর:
প্রদত্ত শব্দ অর্থ
টহল পাহারা দেওয়া
আসন্ন নিকটবর্তী
অবধারিত অনিবার্য, যা হবেই, নির্ধারিত
রক্তস্রোতে রক্তের প্রবাহে
রঞ্জিত রং করা হয়েছে এমন
শায়িত শুয়ে আছে এমন

প্রশ্ন: ঘরের ভেতরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করো।
নূর মোহাম্মদ শেখ নান্নু মিয়া শিপইয়ার্ডের
১৯৪৩, ৮ মে রুহুল আমিন
ক) ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের দলে ছিলেন অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধা —
খ) নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে — সেদিন এভাবেই রক্ষা করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন।
গ) ল্যান্সনায়েক মুন্সী আবদুর রউফ — সালের — মে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ঘ) খুলনা — কাছেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ —।

উত্তর:
ক) ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের দলে ছিলেন অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধা নান্নু মিয়া।
খ) নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে নূর মোহাম্মদ শেখ সেদিন এভাবেই রক্ষা করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন।
গ) ল্যান্সনায়েক মুন্সী আবদুর রউফ ১৯৪৩ সালের ৮ মে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ঘ) খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।
প্রশ্ন: নূর মোহাম্মদ শেখ কীভাবে নিজের জীবন তুচ্ছ করে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচিয়েছিলেন?
উত্তর: ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোরের গোয়ালহাটি গ্রামে টহল দিচ্ছিলেন পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদেরই নেতৃত্বে ছিলেন ল্যান্সনায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। পাকিস্তানি সেনারা টের পেয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান। রাজাকারদের সহায়তায় তিন দিক থেকে পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের ঘিরে ফেলে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা দমার পাত্র নন। এই দলেই ছিলেন অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধা নান্নু মিয়া। কিন্তু প্রতিপক্ষের একটি গুলি হঠাত্ এসে লাগে তাঁর গায়ে।
নূর মোহাম্মদ নান্নু মিয়াকে এক হাত দিয়ে কাঁধে তুলে নিলেন আর অন্য হাত দিয়ে গুলি চালাতে থাকলেন। কৌশল হিসেবে বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকলেন তিনি। উদ্দেশ্য একজন নন, অনেক মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করছেন—শত্রুদের এ রকম একটা ধারণা দেওয়া। সংখ্যায় কম বলে সহযোদ্ধাদের নির্দেশ দিলেন পিছিয়ে গিয়ে অবস্থান নিতে।
কিন্তু হঠাত্ মর্টারের একটি গোলা এসে লাগল নূর মোহাম্মদ শেখের পায়ে। গোলার আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল তাঁর পা। তিনি বুঝতে পারলেন মৃত্যু আসন্ন। যতক্ষণ সম্ভব গুলি চালাতে চালাতে তিনি শহিদ হলেন। নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে নূর মোহাম্মদ শেখ এভাবেই মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচিয়েছিলেন।

প্রশ্ন: বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিন কীভাবে শহিদ হয়েছিলেন?
উত্তর: ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের ১০ তারিখ। মুক্তিযোদ্ধাদের নৌজাহাজ বিএনএস পলাশ ও বিএনএস পদ্মা মংলা বন্দর দখল করে নেয়। এবার তাঁদের লক্ষ্য খুলনা দখল করা। ভৈরব নদ বেয়ে তাঁরা ধেয়ে আসছিলেন খুলনার দিকে। জাহাজ দুটি খুলনার কাছাকাছি আসতেই একটি বোমারু বিমান থেকে জাহাজ দুটির ওপর বোমা এসে পড়ল। রুহুল আমিন বিএনএস পলাশের ইঞ্জিনরুমে ছিলেন। বোমা ইঞ্জিনরুমের ওপর পড়ায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে আগুন ধরে গিয়েছিল বিএনএস পলাশে। রুহুল আমিনের ডান হাতটি উড়ে গেলেও আহতাবস্থায় ঝাঁপ দিয়ে নদী সাঁতরে পাড়ে ওঠেন। বোমার আঘাত থেকে রক্ষা পেলেও রাজাকারদের হাতে নির্মমভাবে মৃত্যু হলো তাঁর। এভাবে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে এসে রাজাকারদের হাতে তিনি শহিদ হন।

প্রশ্ন: বিপরীত শব্দ লেখো এবং তা দিয়ে একটি করে বাক্য লেখো।
দুরন্ত, অসীম, সুনাম, বীর, জয়, জীবন
উত্তর
প্রদত্ত শব্দ বিপরীত শব্দ বাক্য
দুরন্ত শান্ত শান্ত ছেলেটি শুধু পড়তে ভালোবাসে।
অসীম সসীম আবুলের কর্মধারা সসীম।
সুনাম দুর্নাম ভালো মানুষেরা কখনো কারও দুর্নাম করে না।
বীর ভিতু রাকিবের মতো ভিতু ছেলে আমি আর দেখিনি।
জয় পরাজয় খেলায় দুর্বল প্রতিপক্ষের পরাজয় সুনিশ্চিত।
জীবন মরণ বীরেরা মরণকে তুচ্ছজ্ঞান করে।
বাকি অংশ ছাপা হবে আগামীকাল
সিনিয়র শিক্ষক
আন-নাফ গ্রিন মডেল স্কুল, ঢাকা