বাংলা ২য় পত্র

অনুচ্ছেদ লিখন
প্রিয় শিক্ষার্থী, অনুচ্ছেদে কোনো প্যারা করবে না। প্যারা করলে শুধু প্রথম প্যারার অংশবিশেষের নম্বর পেতে পারো। এ ক্ষেত্রে কোনো উদাহরণ ধরে আলোচনারও দরকার নেই।

আমার মা
মা শব্দটি পৃথিবীর সবচেয়ে আপন, পবিত্র ও হূদয়জাত একটি শব্দ। এর সঙ্গে আমাদের জীবনের সম্পর্ক এতই নিবিড় যে শব্দটির সঙ্গে আর কিছুরই তুলনা হতে পারে না। পৃথিবীতে মা সবচেয়ে আপনজন। আমাদের কাছেও আমাদের মা সবচেয়ে প্রিয়। মাকে ছাড়া আমি একটি দিনও ভাবতে পারি না। মা আমাকে অনেক স্নেহ করেন। সব সময় আমাকে নিয়ে ভাবেন। আমি দুপুরে স্কুল থেকে বা সন্ধ্যায় মাঠ থেকে ফিরতে দেরি করলে মা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। আমাকে না খাইয়ে মা কখনো খান না। আমার অসুখ করলে সব সময় আমার যত্ন করেন। রাত জেগে আমার পাশে বসে থাকেন। মা আমার শ্রেষ্ঠ বন্ধু। আমি মায়ের কাছে কোনো কিছুই গোপন করি না। আমার মা আমাকে শিক্ষিত করে তোলেন। তিনি আমার প্রতি এতই আন্তরিক যে তিনি নিজের কথা চিন্তা করেন না। আমাকে নিয়েই যেন তাঁর যাবতীয় ভাবনা। আমার মা আমার জীবনের চেয়ে বেশি প্রিয়। তাই আমি সব সময় মায়ের কথামতো চলতে চেষ্টা করি। মা-বাবার কথামতো চলা আমাদের সবারই উচিত কেননা তাঁদের মতো এত আপন আর কেউ হতে পারে না।

ফেরিওয়ালা
পৃথিবীতে মানুষের নানারকম পেশা রয়েছে। শহর বা গ্রামের পথে পথে, অলিতে-গলিতে, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে যারা ফেরি করে নানা রকম জিনিস বিক্রি করে, তারাই ফেরিওয়ালা। ফেরিওয়ালা আমাদের নিত্যদিনের পরিচিত মুখ। তাঁদের সবকিছুই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে বা কানে বেজে ওঠে। তাঁরা নানা স্বরে, সং সেজে, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যসামগ্রী, খেলনা, প্রসাধনসামগ্রী, বাসন-কোসনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিস আমরা ফেরিওয়ালার কাছ থেকে পেয়ে থাকি। সারা দিন ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তাঁরা ফেরি করে বেড়ান, যদি একটু ভালো বিক্রি হয়, সেদিন তাঁর সংসারে একটু ভালো খাবার রান্না হয়। সব ফেরিওয়ালার জীবনে থাকে দারিদ্র্য, অনেক দুঃখ-কষ্ট। তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে মধ্যে লুকিয়ে থাকে তাঁদের হাসি-কান্না, আনন্দ-উল্লাস আর নানা রকম স্বপ্ন। ফেরিওয়ালারা পরিশ্রমী; তাঁদের সবচেয়ে ভালো গুণ হলো তাঁরা আলস্যে সময় কাটান না, হাত পেতে বা ভিক্ষা করে খান না। পরিশ্রম করলেও তাঁদের ভাগ্যের তেমন উন্নয়ন ঘটে না, তবু জীবনযুদ্ধে তাঁদের অংশীদারত্ব আমাদের পরিশ্রমী হতে শেখায়।

আমাদের বিদ্যালয়
আমাদের বিদ্যালয়ের নাম ‘সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেতালপাড়া’। এখানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। আমাদের বিদ্যালয়টি আমাদের গ্রামে অবস্থিত। আমাদের বিদ্যালয় অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। বিদ্যালয়টির বয়স প্রায় ৪০ বছর। হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে কীর্তিমান হয়েছেন। আমাদের বিদ্যালয়টি দেখতে অনেক সুন্দর। সারি সারি সবুজ গাছের ছায়াঘেরা। এটি একটি দোতলা ভবন। ভবনটি হলুদ রঙের। নিচতলায় শিক্ষকদের কক্ষ, অফিসকক্ষ, বিজ্ঞানাগার ও পাঠাগার আছে। পাঠাগারে দেশি-বিদেশি নানা রকম বই ও পত্রপত্রিকা রাখা হয়। দোতলায় সবগুলো শ্রেণিকক্ষ। বিদ্যালয়টির সামনে একটি খেলার মাঠ এবং দুদিকে দুটি ছোট বাগান আছে। প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ছাত্রদের কোলাহলে মুখর হয়ে থাকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। প্রায় তিন হাজার ছাত্রছাত্রী ও ১৩৫ জন শিক্ষক আছেন এ বিদ্যালয়ে। শিক্ষকেরা আমাদের যত্ন নিয়ে পড়ান ও ভালোবাসেন। আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা খুবই আন্তরিক। আমাদের শিক্ষাদানের জন্য তাঁরা আপ্রাণ কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা আমাদের বিদ্যালয়কে যেমন ভালোবাসি ঠিক তেমন ভালোবাসি আমাদের শিক্ষকদেরও।
বাকি অংশ ছাপা হবে আগামীকাল
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা