
অধ্যায়-৪ ও ৫
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের অধ্যায়-৪ ও ৫ থেকে প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের গুরুত্ব বর্ণনা করো।
উত্তর: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মোট জাতীয় আয়ে শিল্পের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হলো পোশাকশিল্প।
পোশাকশিল্পের গুরুত্ব:
১. বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় পোশাক তৈরি হয়
২. এ পোশাকের বেশির ভাগ বিদেশে রপ্তানি হয়। পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতিবছর অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
৩. বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কয়েক লাখ নারী ও পুরুষ কাজ করেন।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে নানা ধরনের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প রয়েছে। এগুলোর মধ্যে চামড়াশিল্প, সাবানশিল্প, তামাকশিল্প, তাঁতশিল্প, রেশমশিল্প, মৃৎশিল্প, কাঁসাশিল্প ও কাঠশিল্প উল্লেখযোগ্য।
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের গুরুত্ব:
১. সারা দেশে শত শত বছর ধরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে আসছে।
২. সব শিল্পের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে।
৩. এ দেশে উৎপাদিত চামড়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
৪. সাবান কারখানা দেশের সাবানের চাহিদা পূরণ করে।
৫. তামাকজাত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি হয়।
৬. এ দেশের বস্ত্রচাহিদার বড় অংশ এ দেশের তাঁতে বোনা কাপড়ে পূরণ হয়।
৭. মাটি ও কাঁসার তৈরি জিনিসপত্র বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রধান প্রধান আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যের নাম লেখো।
উত্তর: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমদানি ও রপ্তানির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিবছর বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে নানা ধরনের পণ্য আমদানি করে। আবার বিভিন্ন দেশে অনেক ধরনের পণ্য রপ্তানি করে।
আমদানি দ্রব্য : বাংলাদেশকে প্রতিবছর অনেক পণ্য আমদানি করতে হয়। প্রধান আমদানি পণ্যগুলো হচ্ছে বিভিন্ন রকম যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য, পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য।
রপ্তানি দ্রব্য : বাংলাদেশ প্রতিবছর বেশ কিছু দ্রব্য রপ্তানি করে। এগুলোর মধ্যে হিমায়িত খাদ্য, তৈরি পোশাক, কাঁচা পাট, পাটজাত দ্রব্য, চামড়া, চা ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হয়। ফলে আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীন অবস্থা বিরাজ করছে।
অধ্যায়-৫
প্রশ্ন: মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো কী?
উত্তর: মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো হলো খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। অতিরিক্ত জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা পূরণ করা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্রায়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর এর প্রভাব পড়ে দেশের সমগ্র জনগণের ওপর।
প্রশ্ন: জনসম্পদ কাকে বলে?
উত্তর: একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের তিনটি উপাদানের মধ্যে দুটি হচ্ছে জনসম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদ। তৃতীয়টি হচ্ছে মূলধন। তবে প্রাকৃতিক সম্পদ ও মূলধনকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজন জনসম্পদ।
জনসম্পদ হচ্ছে কোনো দেশের শ্রমশক্তি। বাংলাদেশে মূলধন কম হলেও প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনসম্পদে সমৃদ্ধ। তবে এ দেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
# বাকি অংশ ছাপা হবে আগামীকাল
শিক্ষক
বিয়াম ল্যবরেটরি স্কুল, ঢাকা