অধ্যায়-৬
প্রিয় পরীক্ষার্থী, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের অধ্যায়-৬ থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
চাঁদপুরে ‘নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট’ কর্তৃক আয়োজিত ‘নদ-নদীর নাব্যতাসংকট দূরীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য বাকের সাহেব রাজশাহী থেকে একটি প্রধান নদীর গতিপথে নৌযানে চাঁদপুরে আসেন।
ক. সারা বছর নৌ-চলাচলের উপযোগী নৌপথের দৈর্ঘ্য কত?
খ. বাংলাদেশের বাণিজ্যে নৌপথের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
গ. বাকের সাহেব যে নদী ব্যবহার করে চাঁদপুরে পৌঁছান, সেই নদীর গতিপথ বর্ণনা করো।
ঘ. বাংলাদেশের পানি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত সেমিনারের বিষয়বস্তু কতটা গুরুত্বপূর্ণ? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর-ক.
সারা বছর নৌ-চলাচলের উপযোগী নৌপথের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৮৬৫ কিলোমিটার।
উত্তর-খ.
বাংলাদেশের বাণিজ্যে নৌপথের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যাতায়াতব্যবস্থা একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের প্রায় ৭৫ ভাগই নৌপথের মাধ্যমে হয়ে থাকে। নৌপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য পৌঁছানোর জন্য নদীগুলো ব্যবহূত হয়। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে লাখ লাখ টন পণ্য দেশের বিভিন্ন দিকে নৌপথে পরিবহন করা হয়। ১৯৭২ সালে ‘বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন’ প্রতিষ্ঠার পর নৌপথের বাণিজ্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। দেশের কৃষি, শিল্প ও মত্স্যসম্পদের বিকাশ ঘটাতে নৌপরিবহনের বিকল্প নেই।
উত্তর-গ.
বাকের সাহেব পদ্মা নদীর নৌপথ ব্যবহার করে চাঁদপুরে পৌঁছান।
পদ্মা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী। এটির উত্পত্তি মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহে। উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্য অতিক্রম করে গঙ্গা নদী বাংলাদেশের রাজশাহী জেলা দিয়ে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর গঙ্গা নদী পদ্মা নামে গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়। যমুনা ও পদ্মার মিলিত প্রবাহ পদ্মা নামেই চাঁদপুরে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়। অতঃপর পদ্মার জলধারা বরিশাল ও নোয়াখালী হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। বাংলাদেশের অন্যতম এই প্রধান নদীর অনেকগুলো শাখা নদী রয়েছে, যেমন: মাথাভাঙ্গা, ইছামতী, ভৈরব, কুমার, কপোতাক্ষ, মধুমতী প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
উদ্দীপকে বাকের সাহেব রাজশাহী থেকে নৌপথে চাঁদপুরে পৌঁছান। যেহেতু দেশের অন্যতম প্রধান নদী পদ্মা রাজশাহী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং ওই নদীর গতিপথ একসময় চাঁদপুর পৌঁছায়, তাই জনাব বাকের নৌপথে পদ্মা নদী হয়েই চাঁদপুরে পৌঁছান।
উত্তর-ঘ.
বাংলাদেশের পানি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত সেমিনারের বিষয়বস্তু ‘নদ-নদীর নাব্যতাসংকট দূরীকরণ’ অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ।
পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতির দেশ হিসেবে আমাদের পানি ও খাদ্যনিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাদ্য উত্পাদন ও বৃদ্ধি আবশ্যক।
কিন্তু ভূমি, পানি, খাদ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিনিয়ত সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলোর অন্যতম প্রধান কারণ পানির দুষ্প্রাপ্যতা ও পানিদূষণ। নদ-নদীর নাব্যতাসংকট মূলত নদীর তলদেশ পলি দ্বারা ভরাট হয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই নদীর নাব্যতাসংকট দূর করার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা আবশ্যক।
খাদ্য ও পানির নিরাপত্তার জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ, পানির সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যেমন আবশ্যক, তেমনি সংযোগ খাল, রিজার্ভার খনন করাও দরকার। এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে পানিসংকট ও পানিদূষণ কিছুটা লাঘব করা সম্ভব। অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করে খাদ্য ও পানিসংকট মোকাবিলা করা জরুরি। আমাদের দেশে অপরিকল্পিত সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এগুলোর যথাযথ তদারকির মাধ্যমেও পানি ও খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে এ বিষয়েও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। আমাদের দেশে প্রায় প্রতিবছর নদীভাঙনের ঘটনা ঘটে। নদীভাঙনের ফলে মানুষের খাদ্য ও পানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। ফলে নদীভাঙন রোধেও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
সুতরাং নদী খননের মাধ্যমে নদীর নাব্যতাসংকট দূর করার পাশাপাশি উপরিউক্ত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করে খাদ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষক, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা