
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের অধ্যায়-১ থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরের নমুনা দেওয়া হলো।
অধ্যায়-১
প্রশ্ন: ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাঙালির প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ঘটনাগুলো উল্লেখ করো।
উত্তর: পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণের ওপর নানা রকম অত্যাচার ও নিপীড়ন শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিচে দেওয়া হলো—
১. ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা এই উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যায় এবং পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান গঠিত হয়।
২. ১৯৫২ সালে বাঙালিরা বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন করে।
৩. ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য ছয় দফা আন্দোলন করে।
৪. ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থান হয়।
৫. ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়।
৬. ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সব প্রতিবাদ ও আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে এবং একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। মুজিবনগর সরকারের ভূমিকাগুলো উল্লেখ করা হলো।
১. মুক্তিযুদ্ধকে সঠিক পথে পরিচালনা করা ছিল মুজিবনগর সরকারের প্রধান ভূমিকা।
২. এ সরকার দেশ ও দেশের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন করে।
৩. মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে এ সরকার সফলতা লাভ করে।
৪. মুজিবনগর সরকার গঠনের পর মুক্তিযুদ্ধের গতি বৃদ্ধি পায়।
৫. এই সরকারের নেতৃত্বে সব শ্রেণির বাঙালিরা দেশকে শত্রুমুক্ত করার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকারের উদ্যোগে ১৯৭১ সালের ১১ জুলাই মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়।
প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধে নারীরা কীভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে। অগণিত সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবন বিপন্ন করে যুদ্ধে সহায়তা করেন। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা—
১. নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, আশ্রয় ও তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন।
২. অনেক নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
৩. ভারতের শরণার্থী শিবিরে ডাক্তার, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অসংখ্য নারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের সেবা করেন।
৪. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন অনেক নারী শিল্পী।
৫. যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে এ দেশের অগণিত নারী নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম (৪ নম্বর সেক্টর) ও তারামন বিবিকে (১১ নম্বর সেক্টর) বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়।
# বাকি অংশ ছাপা হবে আগামীকাল
শিক্ষক
বিয়াম ল্যবরেটরি স্কুল, ঢাকা