
*সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় পরীক্ষার্থী, আজ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের অধ্যায়ভিত্তিক একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে গিয়ে দৈনিক ২০ ডলারে ‘ম্যালকম’ কোম্পানিতে চুক্তিবদ্ধ হন সাদেক মিয়া। সাদেক মিয়ার আক্ষেপ, কোম্পানি তাঁকে আরও বেশি পারিশ্রমিক দিতে পারত।
ক. সম্পদ কত প্রকার?
খ. জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো?
গ. উদ্দীপকের ঘটনায় কোন ধরনের অর্থব্যবস্থার চিত্র দেখা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সাদেক মিয়ার আক্ষেপ কি শুধু এ ধরনের অর্থব্যবস্থাতেই হয়ে থাকে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর-ক
সম্পদ চার প্রকার—ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক।
উত্তর-খ
কোনো বস্তুদ্রব্য, প্রতিষ্ঠান, সম্পত্তি যত্নসহকারে রক্ষা ও তত্ত্বাবধান করাকে সংরক্ষণ বলে। রাস্তাঘাট, সেতু, হাসপাতাল, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন যানবাহন—এগুলো সব জাতীয় সম্পদ। রাষ্ট্র ও জনগণ সম্মিলিতভাবে এসব সম্পদের অধিকারী। জনগণ এগুলো ব্যবহার ও ভোগ করে। তাই এসব সমষ্টিগত সম্পদ সংরক্ষণে প্রত্যেক নাগরিককেই যত্নবান হতে হবে। জাতীয় সম্পদের সংরক্ষণ বলতে এগুলো অরক্ষিত হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো, সম্পদের কেউ ক্ষতিসাধন করতে চাইলে তা রোধ করা, অপব্যবহার ও অপচয় রোধ—এসব কর্মকাণ্ডকে বোঝায়। জাতীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
উত্তর-গ
উদ্দীপকের ঘটনায় ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার চিত্র দেখা যায়।
বিশ্বে চার প্রকারের অর্থব্যবস্থা আছে। যথা: ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, মিশ্র ও ইসলামিক অর্থব্যবস্থা। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উত্পাদনের উপাদান যেমন ভূমি, শ্রম, মূলধন ব্যক্তিমালিকানাধীন। ব্যক্তি তাঁর সম্পদের দ্বারা শ্রমিক নিয়োগ দিতে পারেন, পুঁজি গঠন করতে পারেন। এসব ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ নেই।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো সর্বাধিক মুনাফা অর্জন। এই সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যক্তি দ্রব্যের উত্পাদন ব্যয় কম ও মূল্য বেশি পেতে চান। এ জন্য উত্পাদন ব্যয় কম রাখতে শ্রমিককে তাঁর ন্যায্য মজুরির চেয়ে যতটা সম্ভব কম মজুরি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই উদ্বৃত্ত মুনাফা হিসেবে সঞ্চিত হয় এবং ব্যক্তি লাভবান হতে থাকেন। ফলে শ্রমিকেরা শোষিত ও বঞ্চিত হন। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদ বণ্টনে অসমতা ও বৈষম্য তৈরি হয়। এ ঘটনাটিই উদ্দীপকে দেখা যায়। উদ্দীপকের সাদেক সাহেব মাত্র ২০ ডলারে ম্যালকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। ম্যালকম কোম্পানি ব্যক্তিমালিকানাধীন, তাই এটি বেশি মুনাফা লাভের আশায় সাদেক মিয়ার মতো শ্রমিকদের পারিশ্রমিক কম দিয়ে তাঁদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করছে। এতে ম্যালকম কোম্পানি লাভবান হচ্ছে। কিন্তু শ্রমিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সুতরাং উদ্দীপকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।
উত্তর-ঘ
সাদেক মিয়ার আক্ষেপ শুধু ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় নয়, মিশ্র অর্থব্যবস্থাতেও হয়ে থাকে। বর্তমানে বিশ্বে প্রধানত চার ধরনের অর্থব্যবস্থা কার্যকর আছে। এগুলো হলো ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক, মিশ্র ও ইসলামিক অর্থব্যবস্থা।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উত্পাদনের উপাদানগুলো যথা: ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন ব্যক্তিমালিকানাধীন। ব্যক্তিই সম্পদ ভোগ ও হস্তান্তর করতে পারেন। এ জন্য ব্যক্তি অধিক মুনাফা লাভের আশায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে কম মজুরি দেন এবং উদ্বৃত্ত মজুরি মুনাফা হিসেবে সঞ্চিত থাকে। ফলে শ্রমিকেরা শোষণের শিকার হন।
ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সমন্বয়ে তৈরি হয় মিশ্র অর্থব্যবস্থা। এটি ধনতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এ ব্যবস্থায় উত্পাদন, বিনিয়োগ ও ভোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মালিকানার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি বিনিয়োগ ও উত্পাদনব্যবস্থা আছে। মিশ্র অর্থনীতিতে উত্পাদনের যে অংশ সরকারি নিয়ন্ত্রণে, সেই অংশে মুনাফা অর্জন উদ্দেশ্য নয়। বরং সামাজিক কল্যাণ প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানাধীন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে মুনাফা লাভের আশায় শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পান না। ফলে তাঁরা শোষণের শিকার হন এবং সম্পদের সুষম বণ্টন হয় না।
সুতরাং, উদ্দীপকের সাদেক মিয়ার আয়-বৈষম্যের আক্ষেপ ধনতান্ত্রিক ও মিশ্র—উভয় অর্থব্যবস্থাতেই পরিলক্ষিত হয়।
শিক্ষক
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা