অধ্যায় ১০
প্রশ্ন: গণতান্ত্রিক মনোভাব কাকে বলে?
উত্তর: আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন রকম কাজ করি। এসব কাজ করতে গিয়ে আমাদের নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিতে পারে। কিন্তু বিভিন্ন মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। আবার কারও একার মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিলে তা সঠিক না–ও হতে পারে। অন্যরাও সিদ্ধান্তটি গ্রহণে আপত্তি করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন ঐকমত্য। অধিকাংশ লোকের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সে সিদ্ধান্তকে সম্মান করাকেই বলে গণতান্ত্রিক মনোভাব। গণতান্ত্রিক মনোভাব একটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক গুণ। সমাজের সব সদস্যের এ গুণটি থাকা উচিত।
প্রশ্ন: সমাজের সদস্যদের গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন হওয়া উচিত কেন?
উত্তর: আমাদের সমাজটাকে সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য সবাইকে গণতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন হওয়া উচিত এবং এর চর্চা করা উচিত। গণতান্ত্রিক মনোভাব একটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক গুণ। এতে অধিকাংশের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। গণতান্ত্রিক মনোভাবের ফলে সমাজে সবাই মিলেমিশে চলতে শেখে, যা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি নিয়ে আসে। এ জন্য আমরা বাড়ি, বিদ্যালয়, খেলার মাঠ—সব জায়গায় গণতান্ত্রিক আচরণ করব। ফলে আমাদের দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।
প্রশ্ন: গণতন্ত্র কীভাবে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়তা করে?
উত্তর: গণতন্ত্রের অর্থ জনগণের শাসন। এর মূলকথা হলো সবার মতকে সম্মান করা এবং অধিকাংশের মত অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়া। নিচে উল্লিখিত উপায়ে গণতন্ত্র শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়তা করে। যেমন—
১. অধিকাংশ ব্যক্তির মতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সবাই এতে খুশি থাকে।
২. সমাজের সবাইকে পরমতসহিষ্ণু ও সহনশীল হতে শেখায়।
৩. সবাই মিলেমিশে চলতে শেখে, যা সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি নিয়ে আসে।
৪. গণতন্ত্র মানুষকে মত প্রকাশের সুযোগ করে দেয়।
৫. নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সবাইকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়।
তাই গণতান্ত্রিক মনোভাব শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।
বাকি অংশ ছাপা হবে আগামীকাল