বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা | সৃজনশীল প্রশ্ন

অধ্যায় ২

মিথিলা গ্রাম থেকে চাচার সাথে চট্টগ্রামে বেড়াতে গেল। সেখানে গিয়ে সে দেখল, শহরের প্রশস্ত সোজা ও পাকা রাস্তা, সুন্দর সুন্দর নকশা করা দালানকোঠা এবং রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ লাইট পোস্ট এবং পানিনিষ্কাশনের জন্য সুব্যবস্থা করা রয়েছে। রাস্তাগুলো পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন। এগুলো দেখে মিথিলা অবাক হলো।

ক. পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন কারা?

খ. মিসরীয়রা পিরামিড তৈরি করেছিল কেন?

গ. মিথিলার দেখা শহরের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন প্রাচীন সভ্যতার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. তুমি কি মনে করো, উক্ত সভ্যতার অধিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ এবং চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন রেখেছেন? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

ক. পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম আঁকেন গ্রিক বিজ্ঞানীরা।

খ. মমিকে রক্ষা করার জন্য মিসরীয়রা পিরামিড তৈরি করেছিল। প্রাচীন মিসরীয় সভ্যতার অনন্য স্থাপত্যকর্ম পিরামিড। এর বেশ কয়েকটি এখনো সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাচীন মিসরীয়রা মনে করতেন, মৃত ব্যক্তি আবার একদিন বেঁচে উঠবে। সে কারণে সম্রাটসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দেহ অবিকৃত রাখার জন্য বিশেষ কায়দায় মমি করা হতো। আর এই মমিকে সুরক্ষিত রাখার জন্যই মিসরীয়রা পিরামিড তৈরি করেছিলেন।

গ. উদ্দীপকের মিথিলার দেখা শহরের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে আলোচিত সিন্ধু সভ্যতার বিলুপ্ত নগরের মিল লক্ষ করা যায়।

সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতা। এটা বিশ্বের নগর সভ্যতার ইতিহাসের একটি অমূল্য নিদর্শন। সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা উন্নত নগরকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন।

এ সভ্যতার উল্লেখযোগ্য দুটি শহর হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো। শহর দুটির নগর পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত উন্নত। সেখানে ছিল প্রশস্ত সোজা ও পাকা রাস্তা, সুন্দর নকশা করা দালানকোঠা, রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ লাইটপোস্ট এবং পানিনিষ্কাশনের সুব্যবস্থা। উদ্দীপকের মিথিলা চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে প্রশস্ত, সোজা ও পাকা রাস্তা, সুন্দর নকশা করা দালানকোঠা, রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ লাইটপোস্ট, পানিনিষ্কাশনের জন্য সুব্যবস্থা দেখতে পায়। এর ভিত্তিতে বলা যায়, মিথিলার দেখা শহরের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের সিন্ধু সভ্যতার মিল রয়েছে।

ঘ. হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত সভ্যতা, অর্থাৎ সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ এবং চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন রেখেছে।

সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরাই এ অঞ্চলে প্রথম আধুনিক বাড়িঘর তৈরি করেছিলেন। সেখানে দুই থেকে পঁচিশ কক্ষের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। আবার কোথাও দুই–তিনতলা বাড়ির সন্ধানও পাওয়া গেছে। মহেঞ্জোদারোর স্থাপত্যের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ৮০ ফুট জায়গা জুড়ে নির্মিত ‘বৃহৎ মিলনায়তন’। এ ছাড়া সেখানে ‘বৃহৎ স্নানাগার’–এর নিদর্শনও পাওয়া গেছে। সিন্ধু সভ্যতায় নির্মিত শহরগুলো পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী উঁচু ভিতের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। শহরগুলোর এক পাশে উঁচু ভিত্তির ওপর একটি করে নগর দুর্গ নির্মাণ করা হতো। ভাস্কর্যশিল্পেও এ সভ্যতার অধিবাসীদের দক্ষতা ছিল। তাই আমি মনে করি, সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন রেখেছেন, যা ওই সভ্যতাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।


মিজান চৌধুরী, শিক্ষক
লালমাটিয়া উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা