অমৃতার অভিষেক

অমৃতা খান। ছবি: প্রথম আলো
অমৃতা খান। ছবি: প্রথম আলো

: ‘আপনি কোথায়?’
: ‘মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহে।’
: ‘ওখানে কী করছেন?’
: ‘শুক্রবার আমার প্রথম ছবি মুক্তি পেয়েছে। নাম গেইম । এখানে এসেছি, দর্শকদের সঙ্গে বসে ছবিটি দেখব। আমি খুব এক্সাইটেড। এই অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না।’
৩ জানুয়ারি (শনিবার) বিকেলে মুঠোফোনে কথা হয় অমৃতা খানের সঙ্গে। শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তাঁর গেইম ছবিটি। অমৃতার মতে, ‘রুপালি পর্দায় আমার অভিষেক হলো।’
মধুমিতার পাশাপাশি আরও দুটি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবি দেখেছেন অমৃতা, ব্লকবাস্টার সিনেমাস আর আনন্দ প্রেক্ষাগৃহে। শনিবার সন্ধ্যায় কথা হলো তাঁর সঙ্গে, প্রথম আলোর কার্যালয়ে। দর্শকদের সঙ্গে বসে ছবি দেখার অভিজ্ঞতা বললেন এভাবে, ‘দর্শকদের সাড়া পেয়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আমার খুব আনন্দ হচ্ছে।’
জানালেন, গত শতকের নব্বইয়ের দশকের সালমান শাহ-মৌসুমী জুটির ব্যবসাসফল ছবি অন্তরে অন্তরে নতুন করে তৈরি হচ্ছে। এবার পরিচালনা করছেন আতিক রহমান। এই ছবিতে অভিনয় করছেন অমৃতা। বললেন, ‘এমন জনপ্রিয় একটা ছবির রিমেকে আমি নায়িকা হব, ভাবতেই পারিনি। এখন আমার সব ভাবনা এই ছবিকে ঘিরে।’
মজার ব্যাপার হলো, এখন যে মেয়েটি চলচ্চিত্র নিয়ে এত ব্যস্ত, বছর কয়েক আগেও বড় পর্দায় কাজের ব্যাপারে কোনো আগ্রহ ছিল না তাঁর। ভেবেছিলেন মডেলিং করবেন। এরপর কখনো সুযোগ পেলে অভিনয় করবেন চলচ্চিত্রে। গোড়াতেই সব হিসাব পাল্টে গেল।
গেইম ছবিতে কীভাবে সুযোগ পেলেন অমৃতা? জানালেন, প্রথম আলোর মঙ্গলবারের ক্রোড়পত্র ‘নকশা’–র এক সংখ্যায় তাঁর ছবি প্রকাশিত হয়। তা দেখে গেইম ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে যোগাযোগ করা হয় তাঁর সঙ্গে। তখন অমৃতা রাজি হননি। তত দিনে ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন নিরব। এই নিরবের সঙ্গে ওয়ালটনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ করেন অমৃতা। কাজের ফাঁকে গেইম ছবি নিয়ে নিরবের সঙ্গে আলোচনা হয় তাঁর। পরে ব্যাপারটি নিয়ে অমৃতা কথা বলেন তাঁর মা-বাবার সঙ্গে। সব শুনে মা-বাবা রাজি হলেন।
অমৃতা বললেন, ‘মনের মধ্যে কেমন যেন ভয় কাজ করছিল। যেদিন শুটিং শুরু হবে, তার আগের রাতে ঘুমাতে পারিনি।’
এরপর আর মানসিক চাপ অনুভব করেননি অমৃতা। ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) মুক্তি পেয়েছে গেইম। পাগলা দিওয়ানা নামে আরেকটি ছবির শুটিং শেষ হয়েছে। টার্গেট, অসম প্রেম ও গুন্ডা দ্য টেরোরিস্ট ছবিতে অভিনয় করছেন। শিগগিরই মিশন আফ্রিকা নামে তাঁর আরও একটি ছবির কাজ শুরু হবে।
চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও অমৃতা মনের মধ্যে পুষে রেখেছেন নৃত্যশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন। বললেন, ‘তিন বছর বয়স থেকে নাচ শিখছি। বুলবুল ললিতকলা একাডেমী থেকে নাচের ওপর সাত বছরের কোর্স করেছি। মুনমুন আহমেদ, সোহেল রহমান, রিয়া, সাজু আর কুস্তুরি মুখার্জির কাছে নাচ শিখেছি।’
এবার ও লেভেল পরীক্ষা দেবেন অমৃতা। জানালেন অভিনয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নেবেন তিনি। তাঁর চাচা খালেদ খান ছিলেন একজন বলিষ্ঠ অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক। আরেক চাচা শাহীন খান এখনো সময় পেলেই অভিনয় করেন। অমৃতা খান নিজেও একদিন স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।