default-image

মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ২০১৮-তে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেতা আলী যাকের। তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলী যাকেরকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

এরপর মেরিল-প্রথম আলো ফেম ফ‍্যাক্টরি আয়োজিত ‘আগামীর নির্মাতা’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন তাসমিয়া আফরিন। তিনি যাবেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন লস্কর নিয়াজ মাহমুদ। আর তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তানভীর মাহমুদ চৌধুরী। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা ও পরিচালক আকরাম খান।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বসেছে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের ২১তম এই আসর। বিকেল চারটা থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন দেশের নবীন-প্রবীণ তারকারা। এরপর তারায়-তারায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। তারকাদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিরাও বাহারি পোশাকে এসেছেন মেরিল-প্রথম আলো অনুষ্ঠানে। সেখানে প্রিয়জন ও সহকর্মীদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বলভাবে কুশল বিনিময় করতে দেখা যায় অনেককেই।

default-image

‘আজীবন সম্মাননা’ পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি এ অনুষ্ঠানে পাঠকদের ভোটে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও সংগীত বিভাগে তারকা জরিপ পুরস্কার এবং বিচারকদের রায়ে দেওয়া হবে সমালোচক পুরস্কার। প্রতিবারের মতো পাঠকের ভোটে নির্বাচিত সেরা নবীন অভিনয়শিল্পীর পুরস্কারও দেওয়া হবে এ আসরে। বিজয়ী তারকারা প্রকাশ করবেন তাঁদের পুরস্কার জয়ের অনুভূতি। পুরস্কার তুলে দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে থাকবে তারকাদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও কৌতুক পরিবেশনা।

যেভাবে তিনি আজকের আলী যাকের

বাবার ছিল বদলির চাকরি। পৈতৃক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে হলেও বেঙ্গল সিভিল সার্ভিসের কাজে এক শহর থেকে আরেক শহরে ঘুরতে থাকে গোটা পরিবার। আলী যাকেরের প্রথম স্মৃতি ফেনীর। সেন্ট গ্রেগরি থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হলেন নটর ডেমে, সেখান থেকে পাস করলেন ১৯৬২ সালে। পরে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক করেন তিনি। অনার্স পড়াকালেই ছাত্ররাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। অনার্স শেষ হওয়ার পর গেলেন করাচি। করাচিতে থাকতেই প্রথম অভিনয় করেছিলেন আলী যাকের। সেখানে জাহাঙ্গীর কোর্টে থাকত ছোট–বড় সরকারি আমলারা। বাঙালিদের সংখ্যাও কম ছিল না। সেখানেই নাটকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ১৯৬৭ সালে করাচি গিয়ে ১৯৬৯ সালে ঢাকায় ফিরলেন।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে গেলেন। প্রশিক্ষণ নিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র একটা ইংরেজি সার্ভিস শুরু করে সেখানেই ছিলেন তিনি। প্রচারণা চালিয়েছেন। হয়েছেন শব্দসংগ্রামী।

মুক্তিযুদ্ধের পর দেশে ফিরে আরণ্যক নাট্যদলে যোগ দেন। ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মুনীর চৌধুরীর কবর নাটকে প্রথম অভিনয়। ওই বছরেরই জুন মাসে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ে যোগ দেন। তখন থেকে নাগরিকই তাঁর নাটকসংক্রান্ত ঠিকানা। বাকি ইতিহাস, সৎ মানুষের খোঁজে, দেওয়ান গাজীর কিসসা, কোপেনিকের ক্যাপটেন, গ্যালিলিও, ম্যাকবেথসহ অনেক মঞ্চসফল নাটকের সঙ্গে নির্দেশনা বা অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। বিশ্বখ্যাত মঞ্চনাটক রূপান্তর করেছেন। মঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। টেলিভিশনে আজ রবিবার, বহুব্রীহি, তথাপি, পাথর দেয়ালসহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। ৫০টির বেশি বেতার নাটক করেছেন। বেশ কিছু চলচ্চিত্রেও করেছেন অভিনয়। টেলিভিশনের জন্য মৌলিক নাটক লিখেছেন। সমসাময়িক বিষয়ে পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখিও করেন। বের হয়েছে বই, যার মধ্যে আছে সেই অরুণোদয় থেকে, নির্মল জ্যোতির জয়সহ বই। একজন শৌখিন ফটোগ্রাফারও তিনি।

বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটি গ্রুপের চেয়ারম্যান তিনি। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি। যুক্তরাজ্যের রয়াল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির পূর্ণ সদস্য। পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী পদক, নরেন বিশ্বাস পদকসহ অনেক পুরস্কার। স্ত্রী স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পী সারা যাকের, পুত্র ইরেশ যাকের ও কন্যা শ্রেয়া সর্বজয়াকে নিয়ে তাঁর সংসার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0