কঙ্গনার বিরুদ্ধে পাঁচ ধারায় মামলা
কঙ্গনার বিরুদ্ধে পাঁচ ধারায় মামলাইনস্টাগ্রাম

তাঁর নামের আগে ‘বিতর্কিত বলিউড তারকা’ ব্যবহার করা হয়েছে নানা সময়ে। বলিউড দুনিয়া তো আছেই, ভারতে এমন কোনো বিষয় নেই, যেখানে এই তারকা তির্যক বক্তব্য করেননি। তিনি কঙ্গনা রনৌত। সমকালীন আন্দোলন, রাজনীতি, মাদক থেকে শুরু করে কৃষকের অধিকার—সব বিষয়ে তাঁর মন্তব্য করা চাই। বিশেষ করে টুইটারে বিতর্ক তুলে থাকেন তিনি। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর যেন তাঁর কথা বলার তৃষ্ণা আরও বেড়ে গেছে।

বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে কৃষক বিক্ষোভ। ভারতে কৃষি বিল নিয়ে এই বিক্ষোভ। এই বিলে সরকারকে সায় না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল সে দেশের বিরোধী দল। তবে সেই অনুরোধে সাড়া দিলেন না রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তিনটি কৃষি বিলেই অনুমোদন দিলেন তিনি। তারপর তড়িঘড়ি করে নতুন তিনটি আইনের বিজ্ঞপ্তিও জারি করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সে দেশের বহু আলোচিত কৃষি বিলের বিরোধিতা করে পথে নামা প্রতিবাদকারীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে উল্লেখ করেছেন বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌত। তাঁর এ মন্তব্য ‘মৌচাকে ঢিল’ ছোড়ার মতোই হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

default-image
বিজ্ঞাপন

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস সূত্রে জানা গেছে, কর্নাটকের টুমকুর জেলায় বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কঙ্গনার বিরুদ্ধে অপরাধ আইনের ৪৪ (মর্যাদাহানি), ১০৮ (অপরাধমূলক কাজে মদদ দেওয়া), ১৫৩ (দাঙ্গায় উসকানি), ১৫৩–এ (ভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতার ইন্ধন জোগানো) এবং ৫০৪ (সামাজিক শান্তি–শৃঙ্খলা লঙ্ঘিত হয় এমন অবমাননাকর মন্তব্য করা) ধারায় মামলা হয়েছে। এই অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় এক আইনজীবী রমেশ নায়েক। তাঁর মতে, কঙ্গনার এই মন্তব্য ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্ররোচনামূলক।’

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহেই সংসদের অধিবেশন চলাকালীন ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটে সংসদে কৃষি বিল পাস করিয়ে নেয় কেন্দ্রের মোদি সরকার। কিন্তু সেই বিলের বিরোধিতা করে দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ, গণ–আন্দোলন। যদিও পরবর্তীকালে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্দেশ্যে সবাইকে আশ্বস্ত করে টুইটারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, নতুন বিল আইনে পরিণত হলেও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য চালু থাকবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই টুইটকেই রিটুইট করে নিজের বক্তব্য দেন কঙ্গনা।

জানা গেছে, ২০ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীদের আক্রমণ করে টুইটারে কঙ্গনা লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রীজি, কেউ ঘুমালে তাঁকে জাগানো যায়। কেউ না বুঝলে তাঁকে বোঝানো যায়। কিন্তু যিনি ঘুমানোর অভিনয় করেন, বুঝেও না বোঝার ভান করেন, আপনার বোঝানোয় তাঁর কী যায় আসে? তাঁরা সেই সন্ত্রাসবাদী, সিএএর আওতায় কারও নাগরিকত্ব না গেলেও, তাঁরা রক্তবন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন।’

default-image
বিজ্ঞাপন

কঙ্গনার এই মন্তব্যে ভারতে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। একাধিক জায়গা থেকে তীব্র সমালোচনা ভেসে আসতে থাকে এই বলিউড অভিনেত্রীর প্রতি। যদিও নিজের মন্তব্য থেকে সরেননি তিনি। বরং দাবি করেন, তিনি কৃষকদের সন্ত্রাসবাদী বলে কখনোই অভিহিত করেননি। এমনকি তাঁর অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে টুইটার থেকে সরে যাবেন, এমন খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কঙ্গনা।

একই দিন যৌন হয়রানি নিয়েও টুইটারে সরব ছিলেন কঙ্গনা। এক টুইটে কঙ্গনার অভিযোগ, বলিউডের কিছু বড় অভিনেতা তাঁর সঙ্গে বাজে আচরণ করেছেন। এই বলিউড তারকা জানিয়েছেন, বলিউডের প্রথম সারির কিছু অভিনেতা শুটিংভ্যানে, বাসায় বা পার্টিতে ডেকে তাঁকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর টুইটে আছে, অনেক নামীদামি অভিনেতা নাকি কঙ্গনাকে শুটিংভ্যানে ও বন্ধঘরে ডেকে যৌন হয়রানি করতেন। এমনকি পার্টিতে নাচের সময় ভিড়ের আড়ালেও কঙ্গনার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেছেন, কাজের বাহানায় বাড়িতে এসে অনেকেই নাকি কঙ্গনাকে যৌন হেনস্তা করেছেন।

default-image
বিজ্ঞাপন

২০ সেপ্টেম্বর পরপর কয়েক ভাগে দেওয়া কঙ্গনার ‘যৌন হয়রানির অভিযোগ’–বিষয়ক টুইটগুলো দ্রুত ভাইরাল হয় টুইটারে। এর আগে এই নায়িকা অনুরাগ কাশ্যপের টুইট নিয়ে বলেন, ‘পায়েলের সঙ্গে তিনি যা করেছেন, বলিউডে তা প্রায়ই হয়। ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে আসা মেয়েদের সঙ্গে যৌনকর্মীর মতো ব্যবহার করা তাঁদের কাছে খুবই সাধারণ ব্যাপার।’

এর আগে তাঁর কটু মন্তব্যের তির ছিলো একসময়ের বলিউড তারকা ঊর্মিলা মার্তন্ডকারকে নিয়ে। সেবার অবশ্য ইটটা ছুড়েছেন ঊর্মিলাই। ঊর্মিলা কটাক্ষ করেন কঙ্গনার রাজ্য ‘হিমাচল প্রদেশই মাদকের জন্মস্থান’। পাটকেল হিসেবে কঙ্গনা তাঁকে পর্নো তারকা বলতেও এতটুকু দ্বিধা করেননি। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস নাউকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি রীতিমতো যুদ্ধ করছি সময়ের সঙ্গে। আর তিনি আমার এই যুদ্ধ নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। তিনি কে? তিনি তো পর্নো তারকার মতো (সফট পর্নো স্টার) কী করেছেন জানি আমরা।’

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0