
কাজলের মায়াবী জাদুতে একসময় মুগ্ধ হয়েছে পুরো বলিউড দুনিয়া। সেই কাজল, সেলুলয়েডে যার অসাধারণ অভিনয়, আহ্লাদিপনা, পাগলামি আর দুষ্টুমিষ্টি হাসি এখনো লুকিয়ে আছে বলিউড ছবিপ্রেমীদের চোখের কোণে। ফিল্মফেয়ার যাকে তুলে দিয়েছে সর্বাধিক পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার। শিশুদের মতো সরল নারী-ব্যক্তিত্ব, যাকে সব বয়সের দর্শকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় করে রেখেছে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে। বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজলের গল্পই আজ বলছি৷
বাবা ও মা—দুই সূত্রেই কাজলেরা তিন পুরুষ ধরে বনেদি ফিল্মি পরিবার। বাবা সোমু মুখার্জি ছিলেন একাধারে প্রযোজক, গল্পকার ও পরিচালক। অন্যদিকে, মা তানুজা হিন্দি ছবির একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তাই স্কুলের গণ্ডি না পেরোতেই মাত্র ১৬ বছর বয়সেই কাজলের অভিষেক বলিউড ছবিতে। ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি বেখুদি খুব একটা সাড়া জাগাতে না পারলেও পরের বছরেই মুক্তি পায় আব্বাস-মস্তানের বাজিগর। সুপারহিট এই ছবিটিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন শাহরুখের বিপরীতে। আর এই ছবির জনপ্রিয়তাই কাজল-শাহরুখের ক্যারিয়ারের বাঁক হিসেবে ধরা হয়। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় এই জুটির আরেকটি সুপারহিট ছবি দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে। রাজ-সিমরান জুটির এই প্রেমকাহিনি মুক্তির পর ভেঙে দেয় বলিউড বক্স অফিসের সব রেকর্ড। এ ছবির শেষ দৃশ্যে রেলস্টেশনে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার সময় কাজল আর শাহরুখের দৃশ্যটিকে বিবেচনা করা হয় বলিউডের সর্বকালের সেরা রোমান্টিক দৃশ্য হিসেবে। কাজলকে প্রথমবারের মতো ফিল্মফেয়ারে ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী’র পুরস্কারটিও এনে দেয় ডিডিএলজে। কাজল এরপর গুপ্ত, পেয়ার কিয়া তো ডারনা কেয়া, পেয়ার তো হোনাহি থা, দুশমন, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, হাম আপকে দিলমে রেহেতে হে, কাভি খুশি কাভি গাম-এর মতো একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের।
১৯৯৯ সালে অভিনেতা অজয় দেবগনের সঙ্গে বিয়ে হয় কাজলের। বিয়ের এক বছর পরেই অভিনয় থেকে দীর্ঘদিনের অবসর। তারপর সংসার, বাচ্চা—এসবের মধ্যেই সাজিয়ে নেন নিজেকে। ২০০৬ সালে তাঁর সুপারহিট কামব্যাক ফানা। বিপরীতে আমির খান। ২০১০ সালে মুক্তি পায় কাজল অভিনীত আরেকটি সাড়া জাগানো জনপ্রিয় ছবি মাই নেম ইজ খান। শাহরুখের বিপরীতে আবারও এক ভিন্নধর্মী প্রেমের কাহিনিতে দেখা যায় কাজলকে। ফিল্মফেয়ার কাজলের হাতে তুলে দেয় পঞ্চমবারের মতো শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার।
কাজল শুধু ছবি দিয়েই কোটি দর্শকের মন জয় করেননি বরং সংসার জীবনেও হয়েছেন সফল। স্বতঃস্ফূর্ত, সাহসী, পর্দায়-সাবলীল কাজল ছবির চেয়েও বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন নিজের সংসারকে, নিজের সন্তানদের। ১১ বছরের মেয়ে নাইসা আর তিন বছরের ছেলে যুগের জন্য নিজের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা আর ক্যারিয়ার অবলীলায় বিসর্জন দিয়েছিলেন। আর তাই তো সেই কাজলকে এবার দেওয়া হলো ‘মাইটি মম’ পুরস্কার। এই তো কদিন আগে মা দিবস উপলক্ষে বলিউডে নির্মিত হিন্দি ভাষার অ্যানিমেশন ছবি মাইটি রাজু রিও কলিং ছবির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে এই পুরস্কার। সেই পুরস্কার নিতে গিয়ে কাজল বলেছেন, ‘পৃথিবীর সব মা-ই শক্তিময়ী মা। প্রত্যেক মা-ই নিজের সন্তানদের মানুষ করতে গিয়ে কী অশেষ কষ্টটাই না করেন। জানি না আমি একজন শক্তিময়ী মা কি না। তবে হ্যাঁ, সব সময়ই নিজের সন্তানদেরই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছি।’
২০১০ সালে কাজল তানপুর কি সুপার হিরোতে অভিনয় করার পর পরই মাতৃত্বকালীন অবসরে যান। সে বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি পুত্রসন্তানের মা হন। এরপর একাধিক বিজ্ঞাপনচিত্রে দেখা গেলেও স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ছবি ছাড়া আর কোনো ছবিতে দেখা যায়নি তাঁকে। তাই কাজলকে বলিউডমুখী করতে অজয় দেবগন এবার নতুন প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। দীর্ঘ তিন বছর পর স্বামী অজয় দেবগনের ছবির মাধ্যমেই তিনি বলিউডে প্রত্যাবর্তন করবেন। অজয় নিজেই ছবিটি প্রযোজনা ও পরিচালনা করবেন। বয়স ৩৯ হলে কী হবে, কাজলের রং এতটুকু ফিকে হয়নি বলিউডের ক্যানভাসে।
সাজিদুল হক
বলিউড হাঙ্গামা, ফিল্মফেয়ার, ওয়ান ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া, উইকিপিডিয়া অবলম্বনে