গাজী কালু চম্পাবতীর কাহিনি

পটচিত্র, পটের গান, যাত্রাপালা, গাজীর গান—যশোর, খুলনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে গাজী পীরকে নিয়ে এমন নানা মাধ্যম ও আঙ্গিকের লোকশিল্প গড়ে উঠেছে বহুকাল ধরে। এবার গাজী পীরকে নিয়ে নাটক করছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যকলা বিভাগ। নাটকের নাম গাজী কালু চম্পাবতী। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পরীক্ষণ থিয়েটার মঞ্চে নাটকগাজী কালু চম্পাবতীর মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হলো। এটি ছিল এ নাটকের নবম প্রদর্শনী।পরীক্ষণ থিয়েটার মঞ্চের চারপাশে দর্শক। মাঝখানে গোল হয়ে বসেছেন শিল্পীরা। নানা বাদ্যযন্ত্র তাঁদের হাতে। তাঁদের মধ্যে গাজী চরিত্রে সাইদুর রহমান, কালু চরিত্রে খন্দকার তাজমী নূর কথা— গানে এগিয়ে নেন নাটকটি।বৈরাট নগর রাজ্যে বাদশা ছিল সিকান্দর। বাদশার ঘরনি বিবি ওসমা সুন্দরীর তিন ছেলে। বড় ছেলের নাম জুলহাস, মেজটার নাম কালাচাঁদ আর ছোট ছেলের নাম রেখেছিলেন দয়াল মুরশিদ গাজী। দয়াল মুরশিদ গাজীই গাজী জিন্দাপীর হিসেবে পরিচিত। খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতকের এই পীরের জীবন আখ্যান সাধারণের কাছে খুব জনপ্রিয়তা লাভ করে। রচিত হয় নানা লোককাহিনি। দক্ষিণ বাংলার অতি জনপ্রিয় একটি কাহিনি ‘গাজী কালু চম্পাবতী’। সব ধর্েমর, সব স্তরের মানুষ সমানভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এই গাজী জিন্দাপীরকে। তাই ইসলাম ধর্েমর একজন বড় সাধক হয়ে আজও তিনি সাধারণের কাছে হয়ে আছেন হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার চতুর্থ প্রযোজনা গাজী কালু চম্পাবতী নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন সাইদুর রহমান, জুনায়েদ ইউসুফ ও সাইমন জাকারিয়া। নির্দেশনা দিয়েছেন গোলাম সারোয়ার। অভিনয়ে করেছেন গাজী- সাইদুর রহমান, কালু- খন্দকার তাজমি নূর এবং চম্পাবতী- শামিমা লাভলী।প্রিমিয়ার ব্যাংক গর্বের বাছাই চলছেশিল্পীরা সবাই পোশাকশ্রমিক। সুঁইসুতার সঙ্গে তাঁদের নিত্য বসবাস। কাপড় বুনতে বুনতেই আনমনে গেয়ে চলেন গান। কিন্তু সেই গানের সুর বন্দী থাকে কারখানার চারদেয়ালের ভেতরেই। জীবনের শখ-স্বপ্নকে তাঁরা উৎসর্গ করেন পোশাক তৈরির কাজেই। তাই উদ্যোগ নেওয়া হলো তাঁদের সংগীত-প্রতিভার স্বীকৃতি দেওয়ার। পোশাকশ্রমিকদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে গানের প্রতিযোগিতা ‘প্রিমিয়ার ব্যাংক গর্ব’। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতায় গতকাল বুধবার ছিল প্রাথমিক বাছাইয়ের তৃতীয় দিন। মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো বাছাইপর্ব। সেখানে গিয়ে দেখা গেল বনানী, কাকলী, গুলশান ও মহাখালী এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা অংশ নিয়েছেন। সকাল থেকেই ‘প্রিমিয়ার ব্যাংক গর্ব’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসেন তাঁরা। রাত পর্যন্ত চলে প্রাথমিক প্রতিযোগিতা। গলায় ঝুলছে নিবন্ধন কার্ড। চোখেমুখে উত্তেজনা। গানের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও গানের প্রতি তাঁদের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। এখন তাঁদের প্রাণ খুলে গাওয়ার পালা। ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢোকার পর দেখা গেল অন্য চিত্র। মনের সুখে গান করছেন সবাই। জীবনের সব পাওয়া না-পাওয়ার হিসেবের বাইরের মুহূর্ত এটি। কেবল মনের সুখে কণ্ঠের জাদুতে বিচারকদের মুগ্ধ করেছেন শিল্পীরা।একাধিক কক্ষে হচ্ছে প্রতিযোগিতা। দেখা গেল, প্রতিযোগীদের গান শোনার পাশাপাশি তাঁদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিচ্ছেন বিচারকেরা, পরামর্শও দিচ্ছেন। বিভিন্ন ঢঙের গান করছেন প্রতিযোগিরা। তবে লোকগানের সংখ্যাই ছিল বেশি। কেউ কেউ নিজের লেখা গানও করছেন। যাঁদের গান পছন্দ হচ্ছে তাঁদের দেওয়া হচ্ছে ‘গর্ব কার্ড’। গতকাল ‘গর্ব কাড’ পেয়েছেন ১১জন।বিচারকের প্যানেলে ছিলেন সংগীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা, মোহাম্মদ মান্নান, আজম বাবু, মান্নান মোহাম্মদ, লাবু রহমান, সুমনা বর্ধন প্রমুখ।বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পোশাকশিল্পের বৃহৎ কর্মী বাহিনীকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতেই বিজিএমই আয়োজন করেছে নতুন এ সংগীত প্রতিযোগিতা।প্রিমিয়ার ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত প্রতিযোগিতা পরিচালনা করছে গানচিল মিডিয়া লিমিটেড। গানচিলের প্রধান নির্বাহী, গীতিকার আসিফ ইকবাল জানান, আজ বৃহস্পতিবার কাঁচপুর ও মিরপুর এলাকার প্রতিযোগীদের প্রাথমিক বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে। গবেষণাপত্র থেকে গল্পের বইগবেষণা কাজ থেকে গল্প লেখার কৌশল শেখাতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিডিআই) আয়োজন করেছে একটি কর্মশালা। লন্ডনপ্রবাসী কবি ও লেখক শামীম আজাদের পরিচালনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ব্র্যাক সেন্টারে শুরু হয়েছে এই কর্মশালা।বিডিআই মূলত একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান। তাদের গবেষণার বিষয় হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। নানা এলাকার বিভিন্ন অভিজ্ঞতার নারীদের জীবনসংগ্রাম থেকে তৈরি করা হয় একেকটি কেস স্টাডি আর প্রতিবেদন। গ্রামেগঞ্জে ঘুরেফিরে তৈরি করা এসব গবেষণাপত্র দেখার সুযোগ হয় কেবল প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। কিন্তু যাদের নিয়ে এসব কাজ সেই নারীরাই জানতে পারে না তাদের গল্প। এসব প্রতিবেদন থেকে যায় বৃহৎ জনসাধারণেরও জানার বাইরে। এ থেকেই বিডিআই উদ্যোগ নিয়েছে সেই গবেষণার প্রতিবেদনকে গল্পে রূপ দেওয়ার। কী করে কেস স্টাডি এবং প্রতিবেদন থেকে তৈরি হতে পারে পূর্ণাঙ্গ গল্প, সেই কৌশল শেখাতেই এই কর্মশালার আয়োজন। ১৭ জন তরুণ লেখক কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। কীভাবে গবেষণাপত্র থেকে গল্প হতে পারে, সেই কৌশল শিখছে তারা। গল্প লেখার কৌশল শেখানোর কাজটি করছেন শামীম আজাদ। অপরদিকে প্রশিক্ষণার্থীদের গবেষণা সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন বিডিআইয়ের গবেষক শাহিদা ইসলাম খন্দকার। সৃজনশীল লেখার মাধ্যমে সাধারণ নারীদের কথা গল্প আকারে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য। কর্মশালা শেষে ১৭ জন অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে নেওয়া হবে গবেষণা প্রতিবেদনের আলোকে লেখা ১৭টি গল্প। এরপর ১৭টি থেকে বাছাই করা হবে ১০টি। এই ১০টি গল্প এবং আরও কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত গল্পকারের লেখা গল্প নিয়ে প্রকাশ করা হবে একটি বই। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় বইটি প্রকাশ হবে। এখানে আরও যারা লিখবেন, তাঁদের মধ্যে আছেন— সেলিনা হোসেন, রুবি রহমান, ইমদাদুল হক মিলন, অদিতি ফাল্গুনী, ইরাজ আহমেদ ও শাহনাজ মুন্নী।কখনো মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার, কখনো ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে হচ্ছে এই কর্মশালা। মাসব্যাপী এ কর্মশালা চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত।পূজায় বইমেলা ‘সর্বজনীন পূজায় বইমেলা অসাম্প্রদায়িক চেতনার উন্মেষ ঘটাবে। দেশের শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনচর্চা বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে।’পিবিএস লিমিটেড ও পাঞ্জেরী পাবলিকেশনসের যৌথ উদ্যোগে গতকাল রাজধানীর শান্তিনগর পিবিএসএর নিজস্ব প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বইমেলার উদ্বোধনকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল এ কথা বলেন। গতকাল থেকে সেখানে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বইমেলা।বইমেলায় আগামী প্রকাশনী, অন্যপ্রকাশ, ঐতিহ্য, অন্বেষা প্রকাশন, বিশ্ব সাহিত্য ভবন, অনন্যা, হাতেখড়ি, পার্ল পাবলিকেশনস, ওয়ার্ল্ড চিল্ড্রেন বুকস ও কাকলী প্রকাশনী অংশগ্রহণ করছে। ১৭ অক্টোবর বইমেলা শেষ হবে।গ্যটে ইনস্টিটিউটে যানজটজার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গ্যটে ইনস্টিটিউটে চলছে ‘ঢাকা ট্রাফিক, দ্য সিটি ক্যান নট ওয়েট’ নামের স্থাপনাশিল্পের প্রদর্শনী।প্রদর্শনীর মূল বিষয় রাজধানীতে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তোলা যানজট। শিল্পী সুলেখা চৌধুরী তাঁর প্রদর্শনীতে নগরজীবনের এই নিত্যদিনের সমস্যাটিকেই বেছে নিয়েছেন শিল্পকর্মের বিষয় হিসেবে।ব্যতিক্রমী এই প্রদর্শনীতে যানজটের পাশাপাশি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ দূষণ, সড়ক দুর্ঘটনার মতো সমাজের সমসাময়িক সমস্যাগুলোও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। ফলে দর্শকেরা সেখানে চেনা জীবনের প্রতিদিনের প্রতিচ্ছবিই দেখেতে পেয়েছেন। এরই মধ্যে একতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত সিঁড়ির পাশের দেয়ালে প্লাইবোর্ডে অ্যাক্রেলিকে আঁকা সাতটি চিত্রকর্ম। প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। ‘মাথা গরম’-এর সেন্সর সনদ বাতিলমাথা গরম নামের পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্রটিতে সেন্সরবিহীন অশ্লীল দৃশ্য সংযোজনের দায়ে এর সেন্সর সনদপত্র স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে এ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।গতকাল বুধবার তথ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘দি সেন্সরশীপ অব ফিল্মস এ্যাক্ট ১৯৬৩’ এর ৭ ধারা অনুযায়ী সরকার এ ব্যবস্থা নিয়েছে। মাথা গরম চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।