চলচ্চিত্রের জন্যই নায়ক রাজ 'রাজ্জাক'

রাজ্জাক
রাজ্জাক

চলচ্চিত্রই তাঁর প্রাণ। চলচ্চিত্রের কল্যাণে তিনি আজ নায়ক রাজ। চিরদিন তাই থাকতে চান তিনি। ৭৩ বছর বয়সে পা দিতে যাচ্ছেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী রাজ্জাক। জন্মদিনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথোপকথনে রাজ্জাক জানিয়েছেন, আমৃত্যু চলচ্চিত্রশিল্পের সঙ্গে থাকতে চান তিনি আর যে দর্শকদের জন্য তিনি নায়ক রাজ হতে পেরেছেন তাঁদের জন্য কাজ করে যেতে চান।
রাজ্জাক জানিয়েছেন, আমি এই ৭২ বছর বয়সে এসেও কাজ করে যাচ্ছি। সব ধরণের চরিত্রে অভিনয় করছি। অভিনয় না থাকলে পরিচালনার কাজটি নিয়মিত করে যাচ্ছি। চলচ্চিত্রশিল্পের সুখে-দুখে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করছি। চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ ডাকলে তাতে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি আমৃত্যু এই শিল্পের সঙ্গেই থাকতে চাই।
রাজ্জাক এও বলেন, ‘আমি রাজ্জাক হয়তো অন্য কোনো চাকরী করতাম অথবা ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু ছোটবেলার অভিনয় প্রচেষ্টাকে আমি হারাতে দেইনি। আমি নাটক থেকে চলচ্চিত্রে এসেছি। সবাই আমাকে চিনেছে। পেয়েছি সাফল্যও। বাংলার মানুষজন আমাকে একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবেই দেখেন ও আমাকে ভালোবাসেন। আজকে আমার যা কিছু হয়েছে সবই এই চলচ্চিত্রশিল্পের কল্যাণে।
রাজ্জাক আরও জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের ছোট একটি দেশ হতে পারে, তারপরও এই দেশের একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। যাঁদের জন্য আমি রাজ্জাক হয়েছি আমি সবসময় তাঁদের কাছাকাছি থাকতে চাই।’
জন্মদিন প্রসঙ্গে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী এই অভিনেতা বলেন, জন্মদিনে তেমন কোন আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না। একেবারেই ঘরোয়াভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। ঘরোয়া অনুষ্ঠানের পাশাপাশি চ্যানেল আইয়ের তারকাকথন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। সারাদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালেও সন্ধ্যায় রাজ্জাক ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে তিনি সুচিত্রা সেনকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করবেন।

বর্তমান সময়ে তিনি চলচ্চিত্রে খুব কমই অভিনয় করছেন নায়করাজ রাজ্জাক। শুধু নায়ক হিসেবেই নয়, পরিচালক হিসেবেও বেশ সফল। সর্বশেষ ‘আয়না কাহিনী’ ছবিটি নির্মাণ করেন রাজ্জাক। নায়ক হিসেবে নায়করাজ প্রথম অভিনয় করেন জহির রায়হান পরিচালিত ‘বেহুলা’ ছবিতে। এতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সুচন্দা।
নায়করাজ রাজ্জাক প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন ‘কি যে করি’ ছবিতে অভিনয় করে। এরপর আরও চারবার তিনি জাতীয় সম্মাননা পান। ২০১১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার পেয়েছেন অসংখ্যবার।
ভবিষ্যত্ নিয়ে নায়ক রাজ বলেন, বয়স হয়েছে। এখন আসলে সুস্থ থাকাটাই জরুরি। সবার কাছে দোয়া চাই যেন সুস্থ থাকি, ভাল থাকি। সবার জন্য আমারও শুভ কামনা থাকবে যেন সবাই সব সময় ভাল থাকেন।