
‘বিয়ের আসরে বরকে যেমন জড়োসড়ো দেখায়, হাসান ভাইকে তেমনটা দেখাচ্ছে। অবশ্য লায়লা ভাবিকে স্বাভাবিকই দেখাচ্ছে’, বললেন রামেন্দু মজুমদার। সৈয়দ হাসান ইমামের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অভিনন্দনপত্র পাঠ করতে বক্তৃতামঞ্চে এসেছেন তিনি।
গতকাল সোমবার ছিল অভিনেতা, আবৃত্তিকার, স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রণী ব্যক্তি সৈয়দ হাসান ইমামের ৮০তম জন্মবার্ষিকী৷ এ উপলক্ষে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল হাসান ইমামের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন পরিষদ।
হাসান ইমামের গায়ে মেরুন পাঞ্জাবি, গলায় ফুলের মালা। ‘তোমায় করিব নমস্কার’ গানের সঙ্গে উদ্বোধনী নৃত্যের মাধ্যমে নাচের দলটি দর্শকসারি থেকে তাঁকে মঞ্চে তুলে আনে৷ তাঁর পাশে এসে বসেন পরিষদের আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, আমিরুল ইসলাম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, রাশেদ খান মেনন, আসাদুজ্জামান নূর, গোলাম কুদ্দুছ৷
মিলনায়তন-ভর্তি মানুষ, মিলনায়তন-ভর্তি ফুল৷ সবাই শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন তাঁদের শ্রদ্ধেয় অভিভাবক, বয়োজ্যেষ্ঠ বন্ধু ও সহযোদ্ধাকে৷
সমবেত কণ্ঠে ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’ গানটি গাওয়া হলো, একে একে গ্রহণ করা হলো অসংখ্য ফুলের শুভেচ্ছা৷ ১০১টি সংগঠন ছিল তালিকায়৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা নিয়ে আসেন তাঁর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা৷
তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে এসে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘তাঁকে প্রথম দেখি সিনেমায়৷ ঢাকায় মামার বাসায় এলে তাঁকে দেখার জন্য রমনা থানার পেছনে তাঁর বাসার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম, হাসান ভাই কখন বাসায় ঢুকবেন৷’
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন, হাসান ইমাম তাঁদের একজন৷ তাঁকে অভিনন্দন৷ অভিনন্দন লায়লা হাসানকে, তাঁকে দেখে-শুনে রাখার জন্য৷’
তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে একটি স্মরণিকারও মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা৷ অনুষ্ঠানে গান, আবৃত্তি ছাড়াও তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়৷