বিশ্ব বেতার দিবসে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা বের হয়
বিশ্ব বেতার দিবসে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা বের হয়ছবি: পিআইডি

ক্লান্ত দুপুরে বিশ্রাম নিতে নিতে কানের কাছে ছোট্ট রেডিও সেট রেখে নাটক শোনার স্মৃতি ভোলার নয়। এমন স্মৃতি অনেকেরই আছে, বিশেষ করে এখন যাঁরা যুবক কিংবা প্রৌঢ়। স্যাটেলাইট আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যস্ততার এই যুগে অনেক দিন হয়তো শোনা হয়নি বেতারের নাটক।
সেই দিনগুলো কি চলে গেছে? না, একেবারে চলে যায়নি। কান পেতে নাটক শোনার দিন এখনো আছে। হারিয়ে যায়নি বেতার, বেতারের নাটক। বেতারে খেলার বিবরণী শোনা, অনুরোধ করে গান শোনা হয়তো কিছুটা কমেছে কিন্তু আছে এখনো। এখনো দেশের তারকা শিল্পীদের কণ্ঠ শোনা যায় বেতারে। নানা মাধ্যমে শোনা যায় বেতারের সম্প্রচার। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানা উদ্যোগ চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। বেতার এখন তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। এই অ্যান্ড্রয়েড–আইফোনের দুনিয়ায় যতটা টিকে থাকা সম্ভব, বাংলাদেশ বেতার সেই চেষ্টা করছে।

default-image

বিশ্ব বেতার দিবস আজ। বেতারের গুরুত্বকে তুলে ধরে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটির উদ্দেশ্য হলো, বেতারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, বেতারের মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহ সহজতর করা। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘নতুন বিশ্ব, নতুন বেতার’।
বিশ্ব বেতার দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের জাতীয় বেতার ভবনে আজ করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বেতার ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান, তথ্যসচিব খাজা মিয়া, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক আহম্মদ কামরুজ্জামান প্রমুখ।

default-image

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, এ দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে বেতারের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ সারা দেশের মানুষের কাছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতির নানা বিষয় বেতার পৌঁছে দিচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে মাঝিমাল্লাদের কাছে বেতারই সম্বল। পাহাড়ের চূড়াতেও বেতারই শোনা যায়। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে বার্তা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ বেতার।

default-image

মাঝে বেশ কিছুদিন স্থবির ছিল বেতারের নানা কার্যক্রম। ২০১৮ সাল থেকে জমে ওঠে বেতারের বিভিন্ন কার্যক্রম। বিশেষ করে নাটকগুলোতে তারকা শিল্পীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। নিয়মিতই মামুনুর রশীদ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, শম্পা রেজা, তারিক আনাম খান, সুবর্ণা মুস্তাফা, আজিজুল হাকিম, আজাদ আবুল কালাম, হৃদি হক, তমালিকা কর্মকার, নাজনীন চুমকির মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা অংশ নেন। জ্যেষ্ঠ সংগীতশিল্পীদের পাশাপাশি সমকালীন নবীন তারকা শিল্পীরা বেতারের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন, গান করেন।

শুধু সম্প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বাংলাদেশ বেতারের কার্যক্রম। মঞ্চনাটক নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেতারের মঞ্চনাটক ধারণের পাশাপাশি বেতার ভবনের মিলনায়তনে নাটক সরাসরি দেখারও ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। সাড়াও পড়েছিল। মঞ্চস্থ হয় আরণ্যক নাট্যদলের ‘ভঙ্গবঙ্গ’। সেদিন রীতিমতো উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল বেতার ভবনে। ২০০ আসনের অত্যাধুনিক মিলনায়তনটির সব আসন ভরে গিয়েছিল।

default-image

বেতারের বর্তমান নাটকের কার্যক্রমগুলোয় অংশ নিয়েছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘একসময় রেডিওই ছিল আমাদের একমাত্র অবলম্বন, রেডিও থেকে শিখেছি। এত বছর পর এ যুগেও বেতার নাটককে জনপ্রিয় করার জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।’

default-image
বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ‘নতুন বিশ্ব, নতুন বেতার’ স্লোগানকে প্রতিষ্ঠিত করতে বেতারের সার্বিক কার্যক্রমকে সময়োপযোগী করার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন মুঠোফোনে অ্যাপসের সাহায্যে বেতারের নানা কার্যক্রম শোনা যাচ্ছে। ফেসবুকে লাইভ হচ্ছে। এ পর্যন্ত দেশের আটটি বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান অ্যাপসের আওতায় এসেছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান দেশব্যাপী সম্প্রচার করা শুরু হয়েছে। অনলাইনে অডিও আর্কাইভ থেকে শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন স্বাদের গান। নিয়মিত-অনিয়মিত অনুষ্ঠানের আগে-পরে ট্রাফিক কার্যক্রমও প্রচারিত হচ্ছে।

default-image

ধ্বনি বিস্তার কেন্দ্র নামে এ দেশে প্রথম স্বল্প পরিসরে বেতারের কার্যক্রম শুরু হয়। মূলত ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর নাজিমুদ্দীন রোডে ভাড়া করা বাড়িতে ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’ নামে বেতারের সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৬০ সালে শাহবাগে বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র স্থানান্তরিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাসংগ্রামে অনন্য ভূমিকা পালন করে। ১৯৮৩ সালের ৩০ জুলাই শাহবাগের সম্প্রচার কেন্দ্রটি আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগরে জাতীয় বেতার ভবন হিসেবে স্থানান্তরিত হয়।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন