
গল্পটি অনেকেরই জানা। এই গল্প নিয়ে আগেও অনেকবার নাটক হয়েছে। মূল গল্পটির চিত্রনাট্য সত্যজিৎ রায়ের। গানগুলোও রাখা হয়েছে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত গুপী গাইন বাঘা বাইন চলচ্চিত্রের অনুরূপ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীর পরীক্ষণ থিয়েটারে এ নাটকটিতে অভিনয় করলেন প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইনের ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
গত সন্ধ্যায় ছিল তাঁদের ২৮তম কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা। কোর্স শেষে এভাবে নাটক প্রযোজনার মধ্য দিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠান করে স্কুলটি।
নাটকের গল্প এ রকম: আমলকী গ্রামের সাদাসিধে ছেলে গুপীনাথ ভীষণ গানপাগল। মজা করে গ্রামের মুরব্বিরা তাকে পরামর্শ দেয়—যাও, রাজার বাড়ির সামনে গিয়ে গান গাওগে। বোকা গোপী সেটাই করে আর অপমানিত হয়ে ফিরে আসে।
উত্তরকুট গ্রামের ছেলে বাঘানাথের অবস্থাও একই রকম। তার ঢোল বাজানোর শখ। বাঘার ঢোলের আওয়াজে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী তাকে গ্রাম থেকে বের করে দেয়। এই দুই হতভাগ্যের দেখা হয় গ্রাম থেকে দূরের এক বনে। সেই রাতে ভূতের রাজার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় তাদের। ভূতরাজ তাদের তিনটি বর দেয়। বদলে যায় দুই বোকার জীবন।
এরপর শুণ্ডি রাজ্যে গানের প্রতিযোগিতায় যোগ দেয় তারা। মহামারিতে ওই রাজ্যের মানুষ বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। অন্য এক রাজ্য থেকে সেখানে যুদ্ধের ফরমান আসে। আত্মসমর্পণ করতে বলা হয় শুণ্ডিরাজকে। গুপী-বাঘা আতঙ্কিত রাজাকে আশ্বস্ত করে, এ সংকট থেকে তারা শুণ্ডি রাজ্যকে বাঁচাবে। নাট্য ব্যক্তিত্ব গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘নাটকের ওপর প্রশিক্ষণটা বেশ দেরিতে শুরু হয়। আমরা প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর অনেকে ফোড়ন কাটত, “ওই দেখ্ নাট্যপণ্ডিত যায়”।’ তিনি প্রত্যাশা করেন, ‘আমাদের নাটক আরও উন্নত হবে।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইনামুল হক, অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত প্রমুখ।