নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের যুক্ত ছিলেন রুমি রহমান। এককভাবেও অনেক শিল্পীর সঙ্গে বাজিয়েছেন তিনি। লেজেন্ড, ট্রাপ, অর্থহীন, আর্ক, দলছুট, অরণ্য, সিম্পোনিয়াম ব্যান্ডের তিনি ড্রামার হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বাজিয়েছেন। ঈদের পরদিন সকালে হঠাৎ করে রুমির এই মৃত্যুর খবর ছডিয়ে পড়লে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। এই ড্রামারের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে ছুটে যান এক সময়ের পপগানের জনপ্রিয় গায়িকা কানিজ সুবর্ণা। তাঁর সঙ্গে কথা হলে জানান, ‘সকাল সকাল এমন একটা খারাপ সংবাদ পাব, ভাবতেই পারিনি। অবিশ্বাস্য!’

রুমি রহমানের মরদেহ এখন তাঁর ধানমন্ডির বাসায় রাখা আছে বলে জানান বর্ষা চৌধুরী। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বললেন, ‘আমার ছেলেটা তো ছোট। আজকে ১ মাস ৪ দিন। আমার ছোট্ট ছেলেটা বাবাহারা হয়ে গেল। ও তো আর ওর বাবাকে দেখতে পাবে না।’

রুমি রহমান দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমায় ভুগছিলেন। তাঁর স্ত্রী বলেন, ‘অ্যাজমায় ভুগলেও রুমি কিন্তু সুস্থই ছিল। ঈদের দিন আমরা একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করছি। ঘুরেছি। ভোররাতে ছেলেকে বুকে নিয়ে ঘুমাইছে। ভোররাত চারটার পরে রুমির শরীর খারাপ হতে থাকে। নেবুলাইজ করতে চেয়েছিল। একটু পর বলে, আমার খারাপ লাগছে, হাসপাতালে নাও। তখন ভোর পাঁচটা বেজে গেছে। গাড়িচালক নেই। লিফট বন্ধ। লিফট চালু করা পর্যন্ত কাজের মেয়ে ধরে রেখেছিল। এর মধ্যে সে আমার শাশুড়ির রুমে এসে পড়ে যায়। পড়ে গেলে নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। তারপর সবাই মিলে ধরে হাসপাতালে নিয়েছি। ডাক্তার বলে, আনার আগেই সে মারা গেছে।’

রুমি রহমানকে ঢাকায় দাফন করা হবে বলে জানান স্ত্রী বর্ষা চৌধুরী। পরিবারের লোকজন আজিমপুর ও বনানী কবরস্থান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও জানালেন তাঁর স্ত্রী।

২০২০ সালের ৩ মার্চ সংগীতশিল্পী বর্ষা চৌধুরীকে বিয়ে করেন রুমি রহমান। এর আগে অভিনয়শিল্পী তাজিন আহমেদের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল রুমির।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন