default-image

ধারাবাহিক নাটক আগুন খেলায় অভিনয় করেছিলেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিতা নূর। কিন্তু নিজের অভিনীত নাটকটি দেখে যাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। আগুন খেলার প্রচার শুরুর আগেই গত বছরের জুলাই মাসে রহস্যজনক মৃত্যু হয় তাঁর। অবশেষে নাটকটির প্রচার শুরু হচ্ছে। আগামীকাল ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সপ্তাহের প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে চ্যানেল আইতে প্রচারিত হবে আগুন খেলা। নিঃসন্দেহে নাটকটিতে মিতা নূরের অভিনয় দেখে স্মৃতিকাতর হবেন তাঁর অগণিত ভক্ত ও দর্শক।  
চ্যানেল আই সূত্রে জানা গেছে, শফিকুর রহমান শান্তুনুর রচনায় আগুন খেলা নাটকটি পরিচালনা করেছেন ইমরান হালদার। এর বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন জাহিদ হাসান, মীর সাব্বির, মিতা নূর, বন্যা মির্জা, আলীরাজ, নওশীন, মিমো, অহনা, আবিদ রেহান, তারিক স্বপন, তোফা আহসান, শেলী আহসান, লিনা ফেরদৌসী, নয়ন, রিমু, ওয়াসিম হাওলাদার প্রমুখ।
নাটকের গল্পে দেখা যাবে, গ্রামের একজন যুবক ফাতু। তিন কুলে তার কেউ নেই। তাকে দেখে যার দিন শুরু হয়, তার সারা দিনটাই খারাপ যায়। একটা না একটা অঘটন ঘটেই। তাই গ্রামের লোকজন ফাতুকে পিটিয়ে গ্রাম থেকে বের করে দেয়। এজন্য মনের দুঃখে সে একদিন অজানার পথে পাড়ি জমায়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পার হতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীর গাড়ির সঙ্গে আচমকা তার ধাক্কা লাগে। আশপাশ থেকে লোকজন ছুটে এসে গাড়ি ভাঙচুর করতে চায়। কিন্তু গাড়ির মালিক ফাতুর চিকিত্সার ব্যবস্থা করবেন বলে কথা দেন। এভাবে কৌশলে জনরোষ থেকে বেঁচে গিয়ে তিনি ফাতুকে তাঁর গাড়িতে তুলে ঢাকার পথে রওনা দেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ জুলাই ভোরে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসার ড্রইংরুম থেকে মিতা নূরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সকাল পৌনে সাতটার দিকে পুলিশ মিতা নূরের বাসায় গিয়ে ড্রইংরুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। তাঁর গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। পরে ফ্যান থেকে তাঁর নিথর দেহ নামায় পুলিশ। সে সময় বাড়িতে মিতা নূরের পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

মৃত্যুর দুদিন আগে নিকেতনে স্বামী শাহনূর রহমানের বায়িং হাউসের অফিসে গিয়েছিলেন মিতা নূর। সেখানে তাঁদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে একপর্যায়ে সেখানে পুলিশ গিয়ে হাজির হয়। পুলিশের মধ্যস্থতায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতাও হয়েছিল।

রহস্যজনক মৃত্যুর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মিতা নূরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে মিতা নূরের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে শরীরের অন্য কোথাও কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

১৯৮৯ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সাপ্তাহিক সাগর সেচার সাধ  নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনেত্রী হিসেবে মিতা নূরের অভিষেক হয়। শেখ রিয়াজউদ্দিন বাদশার প্রযোজনায় ওই নাটকে মিতা নূরের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন প্রয়াত সদরুল পাশা। তবে ১৯৯২ সালে আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় অলিম্পিক ব্যাটারির বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়ে তারকাখ্যাতি পান মিতা নূর। ওই বিজ্ঞাপনের ‘আলো আলো বেশি আলো’ জিঙ্গেলটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় তখন। এরপর তাঁকে নিয়মিত বিভিন্ন নাটকে দেখা যেতে থাকে।

১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মিতা নূর। ১৯৮৮ সালে তিনি শাহনুর রহমান রানাকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই ছেলে শেহজাদ নূর তাওস ও সাদমান নূর তাহমিদ। বড় ছেলে শেহজাদ সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির সর্বোচ্চ পেশাদারি স্বীকৃতি ‘জেন্ড সার্টিফায়েড প্রকৌশলী ২০১১’ অর্জন করে। আর ছোট ছেলে সাদমান রাজধানীর সি-ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র।  

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন