অপেক্ষার পালা শেষ। এবার মেরিল–প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়েছেন কোন শিল্পীরা এখন তা–ই জানার পালা। ঝটপট জেনে নিন মনোনয়নপ্রাপ্ত শিল্পীদের অনুভূতি...

default-image

শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র

অনিল বাগচীর একদিন

আবুল খায়ের, চেয়ারম্যান, বেঙ্গল ক্রিয়েশনস লি.

বেঙ্গল শিল্প পরিবার সংস্কৃতির নানা শাখার মতো চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে এসেছে। বেঙ্গল সিনেমার দ্বিতীয় উদ্যোগ প্রয়াত হ‌ুমায়ূন আহমেদের কাহিনি অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত অনিল বাগচীর একদিন মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের মনোনয়ন পাওয়ায় বেঙ্গল শিল্প পরিবারসহ আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সামনে বেঙ্গল সিনেমার পক্ষ থেকে শিল্পমানসম্পন্ন ও সুস্থ বিনোদন মানসম্পন্ন আরও নতুন নতুন চলচ্চিত্র দর্শকদের উপহার দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

ছুঁয়ে দিলে মন

সারা যাকের, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ধ্বনিচিত্র

ছুঁয়ে দিলে মন আমাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রথম চলচ্চিত্র। ছবিটিতে আমরা একদিকে যেমন শিল্পের দিকটিকে গুরুত্ব দিয়েছি, তেমনি বাণিজ্যিক ব্যাপারটিও মাথায় ছিল। পাশাপাশি আমরা দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে আনতে চেয়েছি। এই তিনটি দিকেই আমরা সফল হয়েছি। ছুঁয়ে দিলে মন ২০১৫ সালের অন্যতম ব্যবসাসফল একটি ছবি। এই সাফল্য আমাদের আরও নতুন নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যাপারে উৎসাহিত করছে।

শিহাব শাহীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মনফড়িং

প্রথম ছবিতেই সমালোচক পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছি, এটাই আমার জন্য দারুণ আনন্দের। এই অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না।

জিরো ডিগ্রি

মাহফুজ আহমেদ

আমি কিন্তু এই ছবির অন্যতম প্রযোজক। আমার সঙ্গে আরও আছেন আনসারুল আলম ও অনিমেষ আইচ। আমরা একান্ত আমাদের মতো করে একটি ছবি বানাতে চেয়েছিলাম। এর নির্মাণ, আয়োজন কিংবা প্রচারে কোনো কমতি রাখিনি। ছবিটা দর্শক পছন্দ করেছেন এবং সমালোচকেরাও পছন্দ করেছেন—দুই দিকেই আমরা সফল হয়েছি।

default-image

শ্রেষ্ঠ পরিচালক
অনিমেষ আইচ (জিরো ডিগ্রি)
জিরো ডিগ্রি আমার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র। আমি তো ছোট পর্দায় অনেক দিন কাজ করছি। ছোট পর্দার সঙ্গে বড় পর্দার অনেক পার্থক্য আছে। আমি দর্শকদের এমন একটা ছবি উপহার দিতে চেয়েছি, যা দেখে দর্শক আনন্দ পাবেন। মুক্তির পর আমি অনেক প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখেছি। সেখানে পর্দায় বিভিন্ন দৃশ্য দেখে দর্শকেরা যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, হাততালি দিয়েছেন, তা দেখে আমি মুগ্ধ। এবার মনোনয়ন পেয়ে এই মুগ্ধতা আরও বেড়ে গেল।
মোরশেদুল ইসলাম (অনিল বাগচীর একদিন)
এই পুরস্কার নিয়ে আমার মনে কিছু কষ্ট আছে। আমি এর আগে আরও কয়েকবার মনোনয়ন পেয়েছি। কিন্তু পুরস্কার পাইনি। আমি আসলে মনোনয়নের মাঝেই সীমাবদ্ধ আছি।

শিহাব শাহীন (ছুঁয়ে দিলে মন)
সৃষ্টির স্বীকৃতির আনন্দ যে কী, তা বেশ বুঝতে পারছি। গত বছর অনেক নতুন পরিচালকের ছবি এসেছে। তার মধ্য থেকে আমি মনোনয়ন পেয়েছি, আমি আপ্লুত। আশা করছি, আমার পরের কাজগুলোতে এই স্বীকৃতির প্রভাব পড়বে।

default-image

শ্রেষ্ঠ অভিনেতা
আরিফিন শুভ (ছুঁয়ে দিলে মন)
সমালোচক পুরস্কার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত থাকেন দেশের গুণী কিছু মানুষ। তাঁরা চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমাকে মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করেছেন, ব্যাপারটি নিঃসন্দেহে অনেক আনন্দের ও সম্মানের। গত বছর কিন্তু প্রথম সমালোচকদের রায়ে ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা’ নির্বাচিত হয়েছিলাম। আমি মনে করি, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আমাদের দেশে যেকোনো অভিনয়শিল্পীর কাজের প্রতি দায়িত্ব অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
আরেফ সৈয়দ (অনিল বাগচীর একদিন)
বলেন কী! আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না! ২০ এপ্রিল দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল, এখন দেখছি যাওয়াটা পেছাতে হবে। মনোনয়ন পেয়েছি, এটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। আর কী লাগে?
মাহফুজ আহমেদ (জিরো ডিগ্রি)
আমি টিভি নাটকের জন্য এর আগে পাঠকের ভোটে জনপ্রিয় বিভাগে কয়েকবার পুরস্কার পেয়েছি। এবার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সমালোচকেরা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমাদের এখানে বছরে করার মতো দু-একটির বেশি ছবি হয় না। এদিকে ছোট পর্দায়ও তেমন চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পাইনি। তাই অভিনেতা মাহফুজ আহমেদকে লালন করার জন্য নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিই। এবার সমালোচকেরা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, আমার আর কী চাওয়ার আছে? চলচ্চিত্রে আরও অভিনয় করার পেছনে এই মনোনয়ন আমাকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

default-image

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী
অপর্ণা ঘোষ (সুতপার ঠিকানা)
এবারই প্রথম মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আয়োজনে মনোনয়ন পেয়েছি। তাও আবার বড় পর্দার কাজের জন্য। খুবই খুশি হয়েছি। যখন কাজটি করেছিলাম, তখনই মনে হয়েছিল, কাজটি দর্শক ও সমালোচকেরা পছন্দ করবেন। এবার সমালোচকদের কাছ থেকে আমার কাজের সেই স্বীকৃতি পেয়েছি। এই বিভাগে আমার সঙ্গে যে দুজন মনোনয়ন পেয়েছেন, তাঁরা বড় মাপের অভিনেত্রী। আমি তাঁদের কাজের ভক্ত। তাঁদের পাশে আমার নাম দেখে নিজেকে খুব সম্মানিত মনে হচ্ছে।
জয়া আহসান (জিরো ডিগ্রি)
যখনই মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়েছি, ভালো লেগেছে। পরিচালক অনিমেষ আইচ ছবিটি অনেক যত্ন করে তৈরি করেছেন। আমরা যারা অভিনয় করেছি, তারাও ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছি। সমালোচকেরা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, অভিনয়শিল্পী হিসেবে তা অনেক আনন্দের। সমালোচক বিভাগে যাঁরা জুরি ছিলেন, তাঁদের কাছে আমার অভিনয় ভালো লেগেছে, এটাও কিন্তু অনেক সম্মানের।
মম (ছুঁয়ে দিলে মন)
সমালোচকদের কাছ থেকে মনোনয়ন আমার জন্য বিশেষ পাওয়া। আমি মনে করি, যাঁরা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তাঁরা সবাই চলচ্চিত্রের বিজ্ঞ বিচারক। তাঁদের কাছ থেকে এ প্রাপ্তি আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাবে। অভিনয়ের সময় নিজের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করি। বিচারকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আরও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ছবির পরিচালক, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর কলাকুশলীদের। তাঁদের কারণেই ভালো একটি ছবিতে কাজের সুযোগ পেয়েছি এবং ভালোভাবে কাজটি করতে পেরেছি।

default-image

সেরা টিভি নাটক নির্দেশক
অনিমেষ আইচ (অনুগমন)
মনোনয়ন পাওয়া তো অবশ্যই আনন্দের। আমি এখানে কৃতিত্ব দেব গল্পটির লেখক মশিউল আলমকে। তাঁর গল্পটা অসম্ভব সুন্দর। এই সুন্দর গল্পটা আমাকে একটা ভালো কাজ করার ব্যাপারে উৎসাহ জুগিয়েছে। আর নাটকে অভিনয়শিল্পী রওনক হাসান ও ভাবনা খুবই কষ্ট করেছেন। তাঁরা নিজেদের চরিত্রকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে খুব চেষ্টা করেছেন। তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।
আশরাফুল চনচল (অনিন্দিতা)
অনেক ভালো লাগছে। নাটক নির্মাণ করা খুবই কঠিন। বাজেটসহ সবকিছুতে নানা প্রতিবন্ধকতা। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার থাকার কারণে একটা উত্সাহ পাওয়া যায়। ভালো কাজের স্বীকৃতির একটা জায়গা আছে। আমার জন্য সত্যি তা খুব আনন্দের সংবাদ। পুরস্কার পেলে আরও ভালো লাগবে।
রেদওয়ান রনি (জেগে ওঠার গল্প)
নাটকটি নির্মাণ করার সময়ই অন্য রকম একটা ভালো লাগা কাজ করেছে। এটা একটি সচেতনতামূলক কাজ। আর এমন কাজের স্বীকৃতি পাওয়া তো আরও আনন্দের।

default-image

সেরা টিভি চিত্রনাট্যকার
অনিমেষ আইচ (অনুগমন)
মশিউল আলমের গল্পটা যেমন ছিল, তাঁর সঙ্গে আমি নিজের কল্পনাকে যুক্ত করেছি। গল্পটা অনেক আগে পড়েছি। তা প্রায় বছর তিনেক আগে তো হবেই। তখন থেকেই এর নাট্যরূপটা ভেবেছি। ভেবেছি অন্য রকম কিছু লিখতে।
আশরাফুল চনচল (অনিন্দিতা)
অনিন্দিতা নাটকটি কাব্যনাট্য আকারে লেখা। টেলিভিশনে এ ধরনের কাজ খুব কম হয়। নাটকে ২০ জন কবির কবিতা ব্যবহার করা হয়েছে। আমি দর্শকদের ভিন্ন স্বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন মনে হচ্ছে এটা দর্শকসহ বিচারকেরা পছন্দ করেছেন। তাই মনোনয়ন পেয়ে অনেক ভালো লাগছে।
রেদওয়ান রনি (জেগে ওঠার গল্প)
পুরস্কার পাব কি না জানি না। তবে বিচারকেরা আমার কাজ কষ্ট করে দেখেছেন ও আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, এটাই আমার জন্য অনেক কিছু। আমি দারুণ খুশি।

default-image

সেরা টিভি অভিনেতা
ইরেশ যাকের (ফিরে এল রূপবান)
২০১৫ সালে নানা কারণে খুব কম কাজ করেছি। কিন্তু আমি জানি নাটক নির্মাণ হয়েছে প্রচুর। এর মধ্য থেকে বিচারকেরা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন, এটা সত্যিই খুব আনন্দের। আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
খন্দকার লেনিন (জেগে ওঠার গল্প)
এটা আমার জন্য একটি খুব ভালো খবর। আমার কাজের সংখ্যাও বেশি না। আমি খুবই রোমাঞ্চিত। সন্মানিত বিচারকেরা আমাকে পছন্দ করেছেন। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
রওনক হাসান (অনুগমন)
অনুগমন নাটকের কাজ শেষ করার পর মনে হয়েছিল, নাটকটি দর্শক পছন্দ করবেন। আমার ধারণা ভুল হয়নি। নাটকটি প্রচারের পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। শুনেছি নাটকটি দেখতে বসে নাকি অনেকেরই চোখ ভিজে গিয়েছিল। এবার মনোনয়ন পাওয়ার পর আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে। এখন বলছি, এই নাটকের জন্য যদি আমি পুরস্কার পাই, তাহলে এতটুকু অবাক হব না।

default-image

সেরা টিভি অভিনেত্রী
অপি করিম (এ শহর মাধবীলতার না)
দর্শকের পাশাপাশি সমালোচক, এই দুই দলকে সন্তুষ্ট করার মতো একটি কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য পরিচালক সাগর জাহানকে ধন্যবাদ। সমালোচকেরা কষ্ট করে আমার নাটক দেখেছেন, তাঁদের কাছে ভালো লেগেছে, এটাই অনেক বড় সম্মাননা।
তিশা (শেফালি)
সমালোচক বিভাগে যাঁরা জুরি থাকেন, তাঁরা সবাই গুণীজন। তাঁদের কাছে আমার অভিনয় ভালো লেগেছে জেনেই বেশি ভালো লাগছে। শেফালি নাটকের জন্য পরিচালক সুমন আনোয়ার থেকে শুরু করে ইউনিটের সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। নাটকটির পুরো কাজ আমরা করেছি কালিয়াকৈরে। এখন মনে হচ্ছে, আমরা সবাই যে পরিশ্রম করেছি, তা বিফলে যায়নি। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের সমালোচক বিভাগে সেরা অভিনয়শিল্পী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারটিতে তা-ই মনে হচ্ছে।
 নাদিয়া (অনিন্দিতা)

আমি তো অনেক বছর অভিনয় করছি, তবে এবারই প্রথম মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়েছি। আমি রোমাঞ্চিত। পুরস্কার না পেলেও কোনো দুঃখ নেই। মঞ্চে চূড়ান্ত পুরস্কার ঘোষণার আগে মনোনয়নের তালিকায় আমার নাম দেখানো হবে, এটাই আমার জন্য বড় পুরস্কার। তাতেই আমি খুশি। যে নাটকের জন্য আমি সমালোচকদের দৃষ্টিতে সেরা অভিনয়শিল্পীর মনোনয়ন পেলাম, তার জন্য এর নির্মাতার প্রতিও রইল কৃতজ্ঞতা।

default-image

সেরা গায়ক
ইমরান (ফিরে আসো না)
বলতে বলতে চলতে চলতে অ্যালবামের গান এটি। ভেবেছিলাম এই গানটির জন্যই মনোনয়ন পাব। কিন্তু মনোনয়ন পেয়েছি আরেকটি গানের জন্য। গানটির কথা খুব সুন্দর। শ্রোতারা আমার গান পছন্দ করেছেন, আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমি তাঁদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
জেমস (এত কষ্ট কষ্ট লাগে)
নিঃসন্দেহে ভালো লাগছে। ওয়ার্নিং ছবির জন্য গানটি গেয়েছিলাম। দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে গানটি। ভক্ত-শ্রোতারা মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপ পুরস্কারের চূড়ান্ত পর্বে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। বাকিটাও তাঁদের ওপরই নির্ভর করছে।
তাহসান (ছুঁয়ে দিলে মন)
ছুঁয়ে দিলে মন ছবির ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ গানটি ছিল ছবির শিরোনাম সংগীত। আমি তো বলব, এটি ছিল আমার যুদ্ধ। বছর দু-এক আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, আমি প্লেব্যাক করব। এরপর দেখি ফেসবুকে প্রায় সবাই আমাকে নিরুৎসাহিত করছেন। অনেক নেতিবাচক মন্তব্যও পেয়েছি। এমনও বলেছেন, সিনেমার গান করলে আমি নাকি পচে যাব। এরপর আমার মনেও জেদ চেপে বসে, প্লেব্যাক করবই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, যদি ভালো গান করি, দর্শক-শ্রোতারা অবশ্যই তা গ্রহণ করবেন। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, সবাই আমার গান পছন্দ করেছেন। সব ধরনের মানুষ শুনেছে। এই গানের জন্য পাঠকদের ভোটে মনোনয়ন পেয়েছি। এই যুদ্ধে আমি জিতে গেছি।
 হাবিব ওয়াহিদ (হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা)
ভালো লাগছে। আমার অন্য সব গানের চেয়ে এই গানের মধ্যে অন্য আহ্বান আছে। আর এ কারণেই আমি খুশি হয়েছি। আগামী দিনে এ ধরনের গান তৈরির ব্যাপারে আরও বেশি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পাচ্ছি। দর্শক-শ্রোতাদের জন্য গান করছি। তাঁদের ভালোবাসা সঙ্গে থাকলে নিজের মধ্যে কাজের গতি আরও বেড়ে যায়। ভালো কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়।

default-image

সেরা গায়িকা
কনকচাঁপা (পদ্মপুকুর)
মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারটি বড় পুরস্কার। আমার ৩২ বছরের সংগীতজীবনে মানুষের কাছ থেকে এ ধরনের ভালোবাসার ব্যাপারটি অনেক সুন্দর অনুভূতি। আমি আবেগাপ্লুত। মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের শুরুর দিকে আমি মনোনয়ন পেয়েছি রুনা লায়লা আর সাবিনা ইয়াসমীনদের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে। পুরস্কারও পেয়েছি। এখনো দর্শক আমাকে ভালোবেসে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে ভোট দিয়ে মনোনয়ন দিয়ে যাচ্ছেন, ব্যাপারটি সত্যিই সম্মানের।
কনা (এক জোড়া চোখের দাবি)
গত কয়েক বছর ধারাবাহিকভাবে সেরা গায়িকা বিভাগে মনোনয়ন পাচ্ছি। এবারাও পেলাম। এটা যোগ্যতার প্রমাণও বলতে পারেন। যত দূর মনে পড়ে, এবার নিয়ে পরপর ছয়বার মনোনয়ন পেয়েছি। পুরস্কার পাওয়ার চেয়ে মনোনয়ন পাওয়াটাই এখন বেশি উপভোগ করছি। মনোনয়ন পাওয়া চারজনের মধ্যে নিজের নামটি আছে, এটাই আমার কাছে এক ধরনের পুরস্কার পাওয়া।
 ন্যান্‌সি (ডানা কাটা পরী)
এর আগে পর পর সাতবার মনোনয়ন পেয়ে ছয়বার ‘মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপ পুরস্কার’ পেয়েছি। এবার যে গানটির জন্য মনোনয়ন পেয়েছি, গানটি একজন তরুণ সংগীতশিল্পীর সঙ্গে গেয়েছি। এটা তাঁর জন্যও বড় অনুপ্রেরণা। গানটি শ্রোতাদের কাছে যেমন প্রিয়, তেমনি আমার কাছেও। আমি আনন্দিত। ‘লাকি সেভেন’ পূর্ণ করার অপেক্ষায় আছি।
 সামিনা চৌধুরী (একটা বন্ধু চাই)
আমি অনেক খুশি হয়েছি। প্রথম আলোর পাঠক আর আমার শ্রোতাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই, তাঁরা আমাকে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনীত করেছেন। সবাইকে ধন্যবাদ। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতেও আমি আপনাদের এমনিভাবে পাশে পাব।

default-image

সেরা টিভি অভিনেতা
জাহিদ হাসান (লটারি)
আমি এখন কাজই কম করি। এরপরও যে আমার ভক্তরা আমাকে মনে রেখেছেন, আমাকে ভোট দিয়েছেন এটা সত্যিই ভালো লাগার ব্যাপার। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তাহসান (চিনিগুঁড়া প্রেম)
চিনিগুঁড়া প্রেম নাটকটির পরিচালক কিবরিয়া ফারুকী। এটা তাঁর সঙ্গে প্রথম কাজ ছিল। তাঁর কাজের ধরনটা ভিন্ন। শুটিংয়ে গিয়ে দেখি, পুরো একটি দৃশ্য এক টেকে দিতে হবে। এমনটা আগে আমার করা হয়নি। চেষ্টা করলাম। দেখি তাতে অভিনয়টা খুব বাস্তবসম্মত হয়। প্রতিটি কাজ থেকেই তো শেখা যায়। এই নাটক থেকেও শিখেছি। আমার সঙ্গে ছিলেন জেনি। তাঁর সঙ্গে ১৩ বছর আগে প্রথম বিজ্ঞাপনচিত্র করেছিলাম। এত বছর পর আবার আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি।
মাহফুজ আহমেদ (লাইক অ্যান্ড কমেন্টস)
পরিচালক মাসুদ সেজানের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। স্যাটায়ার কিংবা কমেডি চরিত্রে আমি বেশি কাজ করিনি। আসলে এ ধরনের চরিত্রে আমাকে ঠিক মানায় না। কাজটা করার সময় বারবার মনে হয়েছে, দর্শক গ্রহণ করবেন তো? মাসুদ সেজান আমাকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। এখন দেখছি, কাজটি দর্শক পছন্দ করেছেন। ভালো লাগছে।মোশাররফ করিম (সিকান্দার বক্স এখন নিজ গ্রামে)
‘সিকান্দার বক্স’ খুবই জনপ্রিয় একটি চরিত্র। নাটকটিও দর্শক পছন্দ করেছেন। নাটকটির দর্শকপ্রিয়তা দেখে আমি বিস্মিত! আবার এই নাটকের জন্য মনোনয়ন পেয়ে আরও ভালো লাগছে।

default-image

সেরা টিভি অভিনেত্রী
অপি করিম (এ শহর মাধবীলতার না)
এ নাটকে গল্পটা অন্য রকম। এ নাটকের জন্য নাট্যকার ও পরিচালক আমাকে ভেবেছেন, তাঁদেরকে ধন্যবাদ। আমার কাছে মনোনয়ন মানেই পুরস্কার। সারা বছর দর্শক অনেক নাটক দেখেন। এসব নাটক থেকে ৩-৪টা নাটক আলাদা করা মানেই পুরস্কারের সমান। প্রথম আলোরপাঠকেরা কষ্ট করে আমাকে ভোট দিয়ে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন, এ জন্য আমি তাঁদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ।
তিশা (তিলোত্তমা তোমার জন্য)
এর আগে কয়েকবার পাঠক ভোটে ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’ পেয়েছি। আমার কাছে মনে হয়, পাঠক ভোটে মনোনয়ন পাওয়াটা অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। আমার কাজ দর্শক মন দিয়ে দেখেন, তারপর সেটা তাঁদের ভালো লাগে এবং কুপন কেটে তা পূরণ করে পত্রিকা অফিসে পাঠান, এটা সত্যিই ভাগ্য ছাড়া সম্ভব না। পুরস্কার পাব কি না, জানি না। আমার কাছে প্রথম আলোর পাঠক ভোটে মনোনয়ন পাওয়াটাই বড় পুরস্কার।
মিথিলা (সুখের ছাড়পত্র)
মনোনয়ন পেয়ে ভালো লেগেছে, পুরস্কার পেলে আরও ভালো লাগবে। আশফাক নিপুণের এই কাজটি কিন্তু দুর্দান্ত হয়েছে। এর আগে তাঁর ল্যান্ডফোনের দিনগুলোতে প্রেম নাটকে কাজ করেছি। তাঁর গল্পগুলো অন্য রকম। আর ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’ বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। সেখানে আমার কাজের স্বীকৃতি পেয়েছি, এটা অনেক বড় পাওয়া। যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন, সবাইকে ধন্যবাদ।
মেহ্‌জাবীন (সুপারস্টার)
ভালো লাগছে। জনপ্রিয় তিনজন অভিনেত্রীর সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছি। তাঁদের সঙ্গে আমার নাম আছে। এটা আমার জন্য বড় পাওয়া। আমি দারুণ খুশি।

default-image

সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতা
আরিফিন শুভ (ছুঁয়ে দিলে মন)
প্রথম আলোরসব পাঠক এবং আমার সব দর্শকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাঁদের ভালোবাসার কারণে আমি আরিফিন শুভ। ছুঁয়ে দিলে মন ছবিটি যখন মুক্তি পায়, তখন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা চলছিল। ওই সময়ে অনেকেই ছবিটি মুক্তি না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। ছবিটিও দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িকভাবেও সফল হয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরের দর্শকেরা আগ্রহ নিয়ে ছবিটি দেখেছেন। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি বলেই ছবিটি সবার ভালো লেগেছে। এর পুরো কৃতিত্ব ছবির পরিচালক শিহাব শাহীন আর পুরো ইউনিটের।
মাহফুজ আহমেদ (জিরো ডিগ্রি)
পাঠকদের ভোটে এই বিভাগে আমার সঙ্গে যাঁরা মনোনয়ন পেয়েছেন, তাঁরা সবাই খুবই জনপ্রিয়। আর আমি একটা মাত্র কাজ করেছি। পুরস্কার পাব কি না, জানি না। তবে দর্শক ভালোবেসে আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাতেই আমি খুশি হয়েছি। দর্শকের ভালোবাসাই বড় পুরস্কার।
মোশাররফ করিম (জালালের গল্প)
জালালের গল্প ছবির জন্য এর আগে পর্তুগাল থেকে পুরস্কার পেয়েছি। এবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছি। সব মিলিয়ে দারুণ অনুভূতি।
শাকিবখান (এই তো প্রেম)
শাকিব খান শিকারী ছবির শুটিং করছেন ভারতের বিভিন্ন স্থানে। নানাভাবে চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুভূতি জানা সম্ভব হয়নি।

default-image

সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
অপুবিশ্বাস(লাভম্যারেজ)
সপ্তাহ দুয়েক ধরে অপু বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নানাভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বিদ্যা সিনহা মিম (পদ্মপাতার জল)
ভালো লাগছে। তবে বেশি ভালো লাগছে পদ্মপাতার জল ছবিতে অভিনয়ের জন্য পাঠক জরিপে মনোনয়ন পেয়ে। এই ছবিতে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় দিয়েছি, কষ্ট করেছি। যেসব দর্শক আমার অভিনয় পছন্দ করে আমাকে ভোট দিয়ে এ পর্যায়ে এনেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
মম (ছুঁয়ে দিলে মন)
ছুঁয়ে দিলে মন ছবিটি নিয়ে আমার সব সময়ই অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। এই ছবিতে কাজ করে আমি আমার চলচ্চিত্রের অভিনয়জীবনে সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি। ছবিটি দর্শকেরা অনেক পছন্দ করেছেন। প্রায় এক বছর হয়ে গেল ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। অথচ এখনো দেশ-বিদেশে ছবিটির প্রদর্শন চলছে। ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য পাঠকদের ভোটে মনোনয়ন পেয়েছি। ভালো কিছু করার চেষ্টা যেন সার্থক হয়েছে। আমি অনেক খুশি।
মাহিয়া মাহি (রোমিও বনাম জুলিয়েট)
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আয়োজনে মনোনয়ন পাওয়াই আমার কাছে চূড়ান্ত পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ। এত এত ভালো ছবি, এত ভালো ভালো অভিনেত্রীর মধ্যে রোমিও বনাম জুলিয়েট ছবিতে অভিনয়ের জন্য জন্য পাঠকেরা ভোট দিয়ে আমাকে মনোনয়নে জায়গা করে দিয়েছেন। আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। আর যেসব পাঠক আমার অভিনয় পছন্দ করে ভোট দিয়ে আমাকে এগিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

default-image

সেরা নবীন অভিনয়শিল্পী
নুসরাত ফারিয়া (আশিকি)
মার অভিনীত প্রথম ছবির জন্যই মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপে নবীন অভিনয়শিল্পী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছি। খুব খুশি হয়েছি। চূড়ান্তভাবে এ পুরস্কার পাব কি না, জানি না। তবে এই পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়াটাই আমার কাছে বড় অর্জন বলে মনে করছি। আর যেসব পাঠক আমাকে ভালোবেসে ভোট দিয়ে এ পর্যায়ে এনেছেন, তাঁদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
পরীমনি (ভালোবাসা সীমাহীন)

ভালোবাসা সীমাহীন আমার প্রথম ছবি। ছবিটি মুক্তির আগে আমার মধ্যে যে ভালো লাগা কাজ করছিল, এবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার আয়োজনে মনোনয়ন পেয়ে তেমনি অনুভূতি হচ্ছে। এই অনুভূতি কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। পুরস্কার আমার কাছে মুখ্য নয়, মনোনয়ন পেয়েছি এটাই বড় ব্যাপার, বড় আনন্দের।

 মৌসুমী হামিদ (ব্ল্যাক মানি)

পুরস্কার পাওয়া বড় কথা নয়, নবীন অভিনয়শিল্পীর চারজনের নামের তালিকায় আমার নামটি আছে, তাতেই নিজেকে ধন্য মনে করছি। এত অল্প সময়ে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাব, কল্পনাও করতে পারছি না।

 মোহনা মিম (লাল চর)

মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অনেক সম্মানের। এই পুরস্কারের জন্য আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমি সম্মানিত বোধ করছি। চলচ্চিত্রে আমার প্রথম কাজ লালচর। প্রথম ছবির জন্যই পাঠকের ভোটে মনোনয়ন পেয়েছি। এর জন্য পাঠকের কাছে কৃতজ্ঞ। এ ছাড়া আমার সঙ্গে আর যে তিনজন মনোনয়ন পেয়েছেন, তাঁদেরকেও শুভেচ্ছা।

 মন্তব্য নিয়েছেন: মেহেদী মাসুদ, মনজুর কাদের, হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক ও​ শফিক আল মামুন

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন