সাইমনের 'ব্ল্যাক মানি'

তেজগাঁও। কোক ফ্যাক্টরি স্টুডিও। গেট দিয়ে সাঁই করে একটি গাড়ি ঢোকে। স্টুডিওর কাছাকাছি গিয়ে থামে গাড়িটি। গাড়ি থেকে নামলেন সাইমন সাদিক। ঘড়িতে তখন রাত আটটা। এখানে চোখের দেখা ছবির শুটিং হচ্ছে। এই ছবিতে অভিনয় করছেন সাইমন। আলোচনার শুরুতেই জানালেন, শুটিংয়ের ফাঁকে তাঁর নতুন ছবি ব্ল্যাক মানির প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। কিছুক্ষণ আগে একটি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
কাল ৭ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সাইমন অভিনীত ব্ল্যাক মানি ছবিটি। এই ছবিতে সাইমনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ ও কেয়া। পরিচালক সাফি উদ্দিন। মৌসুমী হামিদ এখন ভারতের হায়দরাবাদে রামুজি ফিল্ম সিটিতে আরেকটি ছবির শুটিং করছেন। ছবির নাম পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনি ২। তাই সাইমন আর কেয়া অংশ নিচ্ছেন সব প্রচারণায়। সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। কথা বলছেন পত্রিকার সঙ্গে।
সাইমন বলেন, ‘ছবিটির কথা পাঠক আর দর্শকদের কাছে আমরা তুলে ধরছি।’
ব্ল্যাক মানি ছবিটি নিয়ে খুবই আশাবাদী সাইমন। বললেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। কারণ, ছবির গল্প একেবারেই নতুন, ছবির আয়োজন বড়। আমাদের এখানে অনেক ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছবির নামের সঙ্গে গল্পের তেমন মিল থাকে না। কিন্তু এই ছবির প্রতিটি ফ্রেমে ব্ল্যাক মানির বিষয়টি চলে এসেছে। আর আমরা যাঁরা কাজ করেছি, তাঁরা শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
ছবিটির বিশেষত্ব কী? সাইমন বলেন, ‘ছবির বিশেষত্ব একটাই। আর তা হলো, কালো সমাজের জন্য শুভ নয়। এই বিষয়টি ব্ল্যাক মানি ছবির মধ্য দিয়ে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।’
এর আগে পোড়া মন ছবিতে সাইমনের অভিনয় দর্শকের কাছে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। সাইমন বলেন, ‘ব্ল্যাক মানি ছবিটি পোড়া মনকে ছাপিয়ে যাবে। ব্ল্যাক মানি ছবিটি দেখার পর দর্শক বলবেন, ব্ল্যাক মানি সাইমনের ছবি।’
সাইমন জানান, একটি ভালো ছবি নির্মাণ করা ছিল মূল উদ্দেশ্য। ব্ল্যাক মানি ছবিটির ক্ষেত্রে কোনো বিষয়েই নির্মাতারা আপস করেননি। গল্পের প্রয়োজন যা যা দরকার, সবকিছুই করেছেন। শুধু একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের জন্য কক্সবাজার যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় পড়তে হয়েছিল তাঁকে।
সাইমন বলেন, ‘তখন দেশে অবরোধ চলছে। ছবির পুরো ইউনিট একটি বাসে করে কাপ্তাই থেকে কক্সবাজার যাচ্ছি। রাত তিনটা নাগাদ কক্সবাজারের কাছাকাছি আমাদের বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। গ্লাস বন্ধ থাকায় বোমাটি গাড়িতে আঘাত করে। যা ক্ষতি হয়েছে, তা বাসের বাইরের অংশে। বোমাটি ভেতরে পড়লে যে কী হতো, তা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে।’
এই মুহূর্তের ব্যস্ততা নিয়ে সাইমন বলেন, ‘চোখের দেখা, নদীর বুকে চাঁদ, পুড়ে যায় মন—এই তিনটি ছবির শুটিং করছি। শিগগিরই শুরু হবে কত স্বপ্ন কত আশা আর প্রবাসী ডন ছবির কাজ।’
জানালেন, তাঁর অভিনীত রানা প্লাজা, চুপি চুপি প্রেম, মাটির পরী, অজান্তে ভালোবাসা, তোমার জন্য মন কাঁদেসহ তাঁর অভিনীত ১০টি ছবি শিগগিরই মুক্তি পাবে।
আলোচনার ফাঁকে একজন সহকারী এসে মেকআপ নেওয়ার তাগিদ দিলেন সাইমনকে। কিছুক্ষণ পরই তাঁর অংশের শুটিং শুরু হবে।
ফিরে আসার আগে সাইমন জানালেন, তাঁর সমসাময়িক ববি আর মাহিয়া মাহি এরই মধ্যে চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন। সামনে তিনিও অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করবেন। তবে প্রযোজনার জন্য আরও একটু সময় নেবেন তিনি।