default-image

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচনার পরিমাণ সংখ্যায় বেশি না হলেও প্রত্যেকটিই গুরুত্বপূর্ণ এবং দিক-উন্মোচনকারী। উপন্যাস, গল্প, নাটক-সর্বক্ষেত্রেই তিনি বিশিষ্টতার দাবিদার। ‘একটি তুলসীগাছের কাহিনি’র মতো গল্প সমগ্র বাংলা সাহিত্যেই বিরল।

বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ যত বড় মানের সাহিত্যিক সে অনুযায়ী প্রাপ্য স্বীকৃতি তিনি এখনো পাননি। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চয়ই তাঁকে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করবে।

আজ বুধবার দুপুরে কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্: রাষ্ট্র ও রাজনীতির অন্তঃ স্বর শীর্ষক একক বক্তৃতা দেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

স্বাগত ভাষণে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ তাঁর সাহিত্যকর্মে ধর্মের নামে ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন যা আজকের দিনেও সমান প্রাসঙ্গিক।

আজকের অনুষ্ঠানের একক বক্তা ইমতিয়ার শামীম বলেন, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ইতিহাসের এক ক্রান্তিকালে সাহিত্যসাধনা শুরু করেছেন। শিক্ষাজীবনে বামপন্থী চিন্তার সংস্রব সমকালীন সমাজে তাঁর স্বতন্ত্র মানস-ভূগোল নির্মাণে ভূমিকা রাখে। তিনি নিজে অগ্রসর হয়েও তাঁর সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য নিজের রচনাকে সচেতনভাবে পিছিয়ে রাখতেও দ্বিধাহীন ছিলেন অর্থাৎ লেখক হিসেবে গণমানুষের সমানুপাতিক অগ্রযাত্রায় বিশ্বাসী ছিলেন তিনি।

ইমতিয়ার শামীম বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, দেশভাগ ইত্যাদির নেতিমূলক অভিঘাত তাঁর সাহিত্যে উঠে এসেছে অনন্য মাত্রায়। একই সঙ্গে তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার বিষয়টিও ‘লালসালু’ থেকে ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসের পরম্পরায় বিস্তৃত। কাঁদো নদী কাঁদো-তে তিনি নদীর রূপকে ভূখণ্ডের অব্যক্ত কান্নাকে ভাষারূপ দিয়েছেন। তেমনি তাঁর ইংরেজি উপন্যাস আগলি এশিয়ান্স-এ উঠে এসেছে শ্রেণি চিন্তা এবং সাম্রাজ্যবাদ-কবলিত সময়ে এক বিপন্ন জনপদের গল্প।

ইমতিয়ার শামীম আরও বলেন, তলস্তয়কে যেমন ‘রুশ সমাজের দর্পণ’ বলা হয় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্কেও আমরা বাঙালি সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে তেমন আসনেই অধিষ্ঠিত করতে পারি অনায়াসে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0