default-image

চলচ্চিত্রের গোত্রীয় কিছু লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্যের দাবিতে এস এ হক অলীকের আরো ভালোবাসব তোমায় একটি রোমান্টিক ধারার চলচ্চিত্র, যে চলচ্চিত্রের আখ্যানভাগ রচিত হয়েছে চারপাশের চেনাজানা বাস্তবের চেয়ে কিছুটা সত্য অদ্ভুত কল্পনাকে আশ্রয় করে। কাহিনি বর্ণনায় দর্শক দেখতে পায় বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খান এবং তার একজন ভক্ত প্রেমিকা নোলকের (পরীমনি) প্রেম-পরিণতি। শত শত ভক্তের মতো পরীমনিকে না দেখেই নায়ক শাকিব খান প্রেমে পড়ে। সাক্ষাতের ইচ্ছা পোষণ করলে পরীমনি শর্ত জুড়ে দেয়। সাধারণ মানুষের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে ট্রেনে চড়ে তাকে দেখতে সিলেট আসতে হবে। কমলাপুর স্টেশনে চাদর মুড়ি দিয়ে নিজেকে আড়াল করে উপস্থিত হয় শাকিব খান। গল্পে চমক দেখাতে পরীমনিকেও স্টেশনে হাজির করে পরিচালক। স্টেশনের প্রতিটি ঘটনার দৃশ্যায়ন পরিচালকের মুনশিয়ানায় হাস্য ও কৌতুক রসে অনুরণিত।
নায়ক শাকিব খানের চলচ্চিত্রজীবনের কর্মব্যস্ততার মাঝে পরীমনির প্রেম, সন্ধিযোগ এবং বিয়ে নামক শুভপর্বে বাধা-বিপত্তি। পরীমনির বাবার স্পষ্ট উচ্চারণ, ‘সিনেমা-শিল্পীদের সঙ্গে ছবি তোলা যায়, বসে এক বেলা আহার করা যায়, কিন্তু সামাজিক সম্পর্ক গড়া যায় না।’
তথাকথিত সমাজবদ্ধ মানুষ দ্বারা সিনেমার শিল্পীদের এই অবমূল্যায়ন-অবজ্ঞা এবং অপমানকেই পরিচালক আলোকিত করার প্রয়াস নিয়েছেন। যার পরিণতিতে গল্পটি বিচ্ছেদের করুণ রসে ইতি ঘটে। একজন পরিচালক নিজের ভাবনাকে অনুসরণ করে ছবি নির্মাণ করেন। তিনি সমালোচকের কাছ থেকে নতুন জ্ঞান আশা করেন না। তবু একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে কিছু কথা রয়ে যায়।
* সিনেমার যে নায়কের ওপর কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ, তার প্রেম নামক ব্যক্তিস্বার্থে আত্মহত্যা করা কতটা যুক্তিসংগত। কারণ, শিল্পের প্রতি শিল্পীর দায়বদ্ধতাই তার নৈতিক মূল্যবোধ। এ কথা সবাই স্বীকার করেন।
* চলচ্চিত্রের গান দর্শক প্রথমে চোখ দিয়ে ধরতে চায়, পরে আশা করে কানে শুনতে। আলোচ্য চলচ্চিত্রটির প্রতিটি গানের দৃশ্য পরিকল্পনা সৌন্দর্য-সুষমায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। তবে জনমনোরঞ্জনের তাগিদ প্রসূত রিপুরোচক পরীমনির হাফপ্যান্ট পরা নৃত্যমুদ্রার গানটি আগের সব গানের সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়।
* চলচ্চিত্র একটি যৌথ শ্রমজাত মানবিক শিল্পকলা। দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতায়। বিনোদিত করার দায়িত্ব সব নির্মাণ-কুশলীর।
* বিরহকাল পর্বের দৃশ্যে শাকিব খানের রূপসজ্জায় আরও বিষণ্নতা রূপসজ্জাকর আনতে পারতেন। পরীমনি ও শাকিব খানের শেষ টেলিফোন আলাপ দৃশ্যের আবহ আরও শৈল্পিক ও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণে চিত্রগ্রাহক রচনা করতে পারতেন। প্রচুর শট ও দৃশ্য থাকা সত্ত্বেও সম্পাদনা ভাষারীতি প্রয়োগের অভাবে চলচ্চিত্রটি সিনেমাটিক মুড, মুমেন্ট অথবা দ্বান্দ্বিক সংঘাত সৃষ্টিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।
* পরীমনির অভিনয় এককথায় অপূর্ব! শাকিব খানকে পরিচালক ধরিয়ে দিতে পারতেন। সিনেমার নায়ক ও প্রেমিক—এই দুটি চরিত্রের মাঝে একধরনের সূক্ষ্ম ট্রান্সফরমেশন বা রূপান্তর আছে। আমাদের সমাজ-সংস্কৃতিকে ধ্বংসের উপকরণে ঠাসা অন্য দুই-চারটি চলচ্চিত্র থেকে আরো ভালোবাসবো তোমায় সুস্থ সহনীয় উপস্থাপন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন