default-image

‘হামিদুর রাহমান আমার বন্ধু। কিন্তু শিল্পী হিসেবে আমি তাঁর কাছে ঋণী। ছবির বেসিক কনস্ট্রাকশন হামিদ আমাকে শিখিয়েছে। যা দেখা যায় না, সেই ইনার আউট লাইন। এটা হাতে ধরে তিনি আমাকে শিখিয়েছেন।’ গতকাল ছায়ানট মিলনয়াতনে ‘হামিদুর রাহমান পুরস্কার ২০১৫’ নেওয়ার পর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শিল্পী মুর্তজা বশীর এসব কথা বলেন।
পঞ্চাশের ও ষাটের দশকের কীর্তিমান শিল্পী, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থাপত্য-নকশার প্রধান রূপকার ও আধুনিক শিল্প-আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হামিদুর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ‘হামিদুর রাহমান পুরস্কার’ ২০০৭ সাল থেকে প্রবর্তন করা হয়েছে। এ পুরস্কার প্রদানের সার্বিক ব্যবস্থা ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। ২০১৫ সালের ‘হামিদুর রাহমান পুরস্কার’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন বরেণ্য শিল্পী মুর্তজা বশীর।

default-image

এর আগে শিল্পী মনিরুল ইসলাম ২০০৭ সালে, শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর ২০১১ সালে এবং শিল্পী রফিকুন নবী ২০১৩ সালের ‘হামিদুর রাহমান পুরস্কার’ পেয়েছেন।
আজ শনিবার বিকেলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী রফিকুন নবী, শিল্পী মাহমুদুল হক এবং হামিদুর রাহমানের ভাই সাঈদ আহমদের স্ত্রী পারভীন আহমদ। সভাপতিত্ব করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের। সঞ্চালনায় ছিলেন ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ২০০৫ সালে নির্মিত, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন প্রযোজিত ও সৈয়দ তানভীর আহমেদ এবং পল জেমস গোমেজ পরিচালিত ‘মুর্তজা বশীর: শিল্প অন্বেষার ৫৫ বছর’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রটি দেখানো হয়।
শিল্পী মাহমুদুল হক বলেন, মুর্তজা বশীর শুধু চিত্রশিল্পী নন। সাহিত্যিক, কবি; সিনেমা জগতেও ছিল তাঁর বিচরণ। ডাকটিকিট ও মুদ্রা সংগ্রাহক তিনি। এ নিয়েও তাঁর গবেষণা রয়েছে।
রফিকুন নবী বলেন, মুর্তজা বশীর ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনে মুর্তজা বশীরসহ সেই সময়ের অনেক তরুণ শিল্পীর সংশ্লিষ্টতা ছিল। তাঁদের সেই সম্পৃক্ততা পরবর্তীকালে চারুকলার ছাত্রদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়েছে। দেশের যেকোনো আন্দোলনে শিল্পীরা তাই সবসময় নিজেদের যুক্ত করেছে।

default-image

মুর্তজা বশীর বাংলাদেশের আধুনিক শিল্প-আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। শক্তিশালী ড্রয়িং, রঙের সুমিত ব্যবহার এবং সমাজচেতনায় উদ্দীপিত দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর সৃজন বৈভবে প্রাণময় হয়ে ওঠে। শিল্পী মুর্তজা বশীর দীর্ঘদিনের চিত্র সাধনা ও চর্চার মধ্যে দিয়ে এ দেশের চিত্রকলা প্রয়াসকে মনীষা ও শিল্পগুণে সমৃদ্ধ করেছেন। এ ছাড়া তাঁর কবিতা চর্চা ও কথাসাহিত্যের ভুবনে বিচরণ, মুদ্রা সংগ্রহ ও পোড়ামাটির কাজ নিয়ে যে গবেষণা এ দেশের সাংস্কৃতিক প্রবাহে নব মাত্রা দান করেছে। শিল্পী মুর্তজা বশীর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩২ সালে। ১৯৫৪ সালে গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে প্রথম বিভাগে পাশ করেন। ১৯৫৬-৫৮ সাল পর্যন্ত ইতালির ফ্লোরেন্সে আকাদেমিয়া দ্য বেলি­ আর্টিতে অধ্যয়ন করেন। একক প্রদর্শনী করেছেন ১৮ টি। ১৯৮০ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৫ বছরের শিক্ষকতা শেষে অধ্যাপক হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন
বিনোদন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন