শুদ্ধসংগীতের প্রথম সন্ধ্যা ছিল খেয়াল, সেতার, তবলা লহরার
বৃন্দ পরিবেশনায় মুলতানি রাগে গাইলেন ছায়ানটের একদল শিল্পী। খেয়াল দিয়ে শুরু হলো দুই দিনের শুদ্ধসংগীত উৎসবের প্রথম সন্ধ্যা। ছায়ানটের আয়োজনে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুদ্ধসংগীত উৎসবে ছিল খেয়াল, সেতার ও তবলা লহরা।
২০০৯ সাল থেকে নিয়মিত শুদ্ধসংগীতের এই আসর আয়োজন করছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শুরু করা উৎসবে অংশ নেওয়া শ্রোতাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা।
নিয়মমাফিক সম্মেলক কণ্ঠে জাতীয়সংগীত পরিবেশনার পর স্বাগত কথনে তিনি জানান, শুদ্ধসংগীতের প্রচার ও প্রসারে এই উত্সবের আয়োজন করছে ছায়ানট।
এ উত্সবের মধ্য দিয়ে একদিকে শুদ্ধসংগীতের শিল্পীদের বাড়ছে আত্মবিশ্বাস।
অন্যদিকে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে সমঝদার শ্রোতা। শাস্ত্রীয় সংগীতকে বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে করা এই উৎসব নতুন শ্রোতা ও শিল্পী তৈরি করলে নিজেদের সার্থক মনে করবে ছায়ানট।
আজ প্রথম সন্ধ্যায় পুরিয়া রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন দীপ্তি সমাদ্দার, মারবা রাগে ধামার শোনান সৌমিতা বোস এবং শুদ্ধ কল্যাণ রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন সিলেটের পারমিতা মুমু্। সেতারে যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করেন এবাদুল হক, তবলা লহরা কুমার প্রতিবিম্ব। একদল শিল্পী সঙ্গত করেন এই শিল্পীদের। ছায়ানট মিলনায়তন পূর্ণ করে উৎসবে যোগ দেন সংগীতপিপাসু মানুষেরা।
শুক্রবার উত্সবের শেষ দিন। কণ্ঠসংগীত ছাড়াও এদিন শোনা যাবে মো. মনিরুজ্জামানের বাঁশি, শৌনক দেবনাথের সারেঙ্গীবাদন। কণ্ঠসংগীত পরিবেশন করবেন খায়রুল আনাম শাকিল, লতিফুন জুলিও, সুপ্রিয়া দাশসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী। দ্বিতীয় ও শেষ দিনের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে সকাল ৯টায়, চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। বিরতির পর আবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে থাকবে পরের অধিবেশন। এই অধিবেশন চলবে সারা রাত। এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে সংগীতগুরু মিথুন দেকে।
ছায়ানটের এই উৎসবে প্রতিবছর অংশ নেন ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তের শিল্পীরা। সংগীতের সাধারণ শ্রোতা ছাড়াও সংগীতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই উৎসব নিয়ে রয়েছে বিশেষ উৎসাহ। প্রতিবছর ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেশকিছু সংখ্যক শিল্পীকে এই উৎসবের মাধ্যমে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন।