যৌন নিপীড়ন, গোপনে ভিডিও ধারণ, অশালীন ভঙ্গিসহ অভিনেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

নোয়েল ক্লার্ক
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

ব্রিটিশ অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ‘ডক্টর হু’খ্যাত তারকা নোয়েল ক্লার্কের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, জনসমক্ষে অশালীন ভঙ্গি প্রদর্শনসহ একাধিক যৌন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গোয়েন্দারা এমন ঘটনা প্রমাণের নথি জমা দেওয়ার পর বুধবার যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশকে ক্লার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার অনুমোদন দেয়।

নোয়েল ক্লার্ক
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

গত বছর এই তারকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লার্ককে গ্রেপ্তার করে তাঁর লন্ডনের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালানোর প্রায় এক বছর পর নতুন করে এই অভিযোগ আনা হলো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে গোয়েন্দারা এ অভিনেতার বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই সময় ক্লার্ককে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তার করলেও সে সময় এই অভিনেতাকে গ্রেপ্তারের কারণ অজানাই ছিল। পুলিশ জানায়নি। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে জানা যায়, ওই মাসের শুরুতে তাঁকে নিয়ে একটি তদন্ত শুরু হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিল পুলিশের সেন্ট্রাল স্পেশালিস্ট ক্রাইম কমান্ড।

নোয়েল ক্লার্ক
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

এদিকে ২০২৫ সালের আগস্টে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলায় হেরে যান ক্লার্ক। ২০২১ সালে পত্রিকাটি ২০ জনের বেশি নারীর কাছ থেকে পাওয়া যৌন অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন ক্লার্ক। তাঁকে দ্য গার্ডিয়ানের আইনি খরচ বাবদ ৩০ লাখ পাউন্ড (৪০ লাখ ডলার) দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ছয় সপ্তাহের ওই বিচার চলাকালে এক ডজনের বেশি নারী ক্লার্কের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন। তাঁদের প্রত্যেকে দাবি করেন, অভিনেতার কাছ থেকে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে অসদাচরণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবে ক্লার্ক অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আরও পড়ুন
নোয়েল ক্লার্ক
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

এবার ক্লার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার অনুমোদনের পরে গার্ডিয়ান নিউজ অ্যান্ড মিডিয়ার প্রধান সম্পাদক ক্যাথরিন ভিনার ভ্যারাইটিকে বলেন, ‘এই রায় নোয়েল ক্লার্কের আচরণের কারণে ভুক্তভোগী নারীদের জন্য একটি প্রাপ্য বিজয়।’

তিনি আরও বলেন, আদালতে যাওয়া কঠিন ও মানসিক চাপের বিষয়। তারপরও ২০ জনের বেশি নারী উচ্চ আদালতে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন এবং তাঁরা ভয় দেখানো বা ভীত করার কাছে নতি স্বীকার করেননি।’