বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভারতের ছোট শহর ও গ্রামে নিয়মিতই ঘটছে এমন ঘটনা। ভারতের ২০ শতাংশ মানুষ দলিত। তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আইন আছে, তারপরও বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন তাঁরা। ছবির নাম ‘জয় ভীম’, যেটি স্লোগান হিসেবে ভারতে জনপ্রিয় বি আর অম্বেদকরের অনুসারীদের কাছে। অম্বেদকর নিজেও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ। তিনি ভারতের খসড়া সংবিধানের কার্যনির্বাহী কমিটির প্রধান, ছিলেন ভারতের প্রথম আইনমন্ত্রী।

default-image

টি জে নান্নেভালের পরিচালনায় ‘জয় ভীম’ ছবিতে আইনজীবী চন্দ্রুর চরিত্রে অভিনয় করেন সুরিয়া। গ্রামের এক ধনী ব্যক্তির বাড়ি থেকে গয়না চুরির জন্য অভিযুক্ত হন নির্দোষ রাজাকান্নু। তাঁকে জেলে নিয়ে নির্যাতন চালায় পুলিশ। এক ভোরে আচমকাই জানা যায়, পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন রাজাকান্নু। এই রহস্যজনক অন্তর্ধানের পর রাজাকান্নুর স্ত্রী সেনগানি আইনজীবী চন্দ্রুর কাছে ছুটে যান। হাইকোর্টে মামলা করেন চন্দ্রু। শুরু হয় রাজাকান্নুকে ফিরে পাওয়ার লড়াই।

default-image

সত্য ঘটনা অবলম্বন করে গড়ে উঠেছে ছবির গল্প। খলনায়ক ছাড়া বাকি চরিত্রগুলোর নাম পর্যন্ত অবিকৃত রাখা হয়েছে। এ নিয়েও অবশ্য সমালোচনা শুরু হয়েছে। তামিলনাড়ুর ভন্নিয়ার ‘সঙ্গম’ নামে একটি সংগঠন আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। তাদের দাবি, ছবিতে সব চরিত্র আসল রাখা হলেও ছবির খল চরিত্র পুলিশের সাব ইন্সপেক্টরের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্ন রাখা হয়েছে। তাঁর নাম ছিল অ্যান্থনি সামি। আর ছবিতে রাখা হয়েছে গুরুমূর্তি। ভন্নিয়ার সঙ্গমের দাবি, ছবিতে অসৎ উদ্দেশ্যে ভন্নিয়ার সম্প্রদায়ের গুরুমূর্তিকে খলনায়ক করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভন্নিয়ার সম্প্রদায়ের নানা প্রতীক দেখানো হয়েছে। এতে নষ্ট হয়েছে সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি।

চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ এস থিওডোর বাস্কারান বলেন, ১৯৯১ সালে অম্বেদকরের জন্মশত বর্ষ উদ্‌যাপন থেকে শুরু করে গত ৩০ বছর তামিলনাড়ুতে দলিত আন্দোলন বেড়ে চলেছে। সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ প্রিয়ার ও অম্বেদকরের আন্দোলন অনেক দলিত লেখকের মাধ্যমে ছড়াতে থাকে।

default-image

আর এই দলিতদের নিয়ে বানানো বিভিন্ন ভাষার ছবি এখন ভারতের স্বাধীনধারা চলচ্চিত্রে দারুণভাবে জায়গা করে নিচ্ছে। পাঞ্জাবি ছবি ‘আনে গোরে দা দান’ এক দলিত শিখকে নিয়ে। হিন্দি ছবি ‘মাসান’ এক উঁচু জাতের মেয়ের সঙ্গে শ্মশানঘাটের শ্রমিকের প্রেম নিয়ে। এ ছাড়া মারাঠি ছবি ‘ফান্ড্রে’ ও ’সাইরাট’-এ উঠে এসেছে দলিত সম্প্রদায়। শেষ ছবি দুটির পরিচালক নাগরাজ মানজুলে নিজেও একজন দলিত।
সিনেমা হলে মুক্তি পায়নি ‘জয় ভীম’, তাই বক্স অফিসে হিসাবও নেই, যার ভিত্তিতে যাচাই করা যায় জনপ্রিয়তা। কিন্তু আমাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়ার পর অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা বুঝিয়ে দেয় ছবিটি কতটা আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ। আর আইএমডিবির গ্রাহকদের রেটিংয়ে ৯ দশমিক ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে সিনেমাটি বুঝিয়ে দিল ভারতের দলিত সম্প্রদায়কে নিয়ে কনটেন্টের ক্রমাগত আগ্রহ বাড়ছে।
সূত্র: বিবিসি

বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন