ইরফান খান (জানুয়ারি ৭, ১৯৬৭- এপ্রিল ২৯, ২০২০)।
ইরফান খান (জানুয়ারি ৭, ১৯৬৭- এপ্রিল ২৯, ২০২০)। প্রথম আলো

ষষ্ঠ ফিল্মফেয়ারটি আর হাতে তোলা হলো না প্রয়াত ইরফান খানের। বাবার পক্ষ থেকে সেই পুরস্কার নিয়েছেন বড় ছেলে বাবিল। বাড়ি ফিরে আর পাঁচটি ফিল্মফেয়ারের পাশেই রেখেছেন সদ্য পাওয়া এই ফিল্মফেয়ারটিকে। ওই পাঁচটির সঙ্গে এর পার্থক্য একটাই, ওগুলো পেয়েছে গুণী এই অভিনেতার স্পর্শ। ইনস্টাগ্রামে সেই ছবি পোস্ট করে বাবিল লিখেছেন, ‘ফিল্মফেয়ার, তোমাকে ধন্যবাদ। আমার বাবা আজ নেই। তারপরেও বাবার কাজের প্রতি যে সততা আর আত্মোৎসর্গ—সেটাকে সম্মান জানানোর জন্য আবারও ধন্যবাদ।’

default-image

আংরেজি মিডিয়াম সিনেমায় একা বাবার চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য ইরফান পেলেন জনপ্রিয় সেরা অভিনেতার পুরস্কার। অন্যদিকে সমালোচকদের ভোটে কে সেরা অভিনেতা হবেন, তা যেন জানাই ছিল। তিনি আর কেউ নন, অমিতাভ বচ্চন। এই সব পুরস্কার যেন ডাল–ভাত হয়ে গেছে অমিতাভের কাছে। পুরস্কার যেন নিজে পুরস্কৃত হয় অমিতাভ বচ্চনের হাতে ওঠে। তাই বাড়ি ফিরে পুরস্কারের একটা ছবিও পোস্ট করেননি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গুলাবো সিতাবো সিনেমায় এক কৃপণ লোভী বুড়োর চরিত্র তাঁকে এনে দিয়েছে এই পুরস্কার।

default-image
বিজ্ঞাপন

এদিকে ‘থাপ্পড়’ সিনেমায় এক সাধারণ স্ত্রীর ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয় তাপসী পান্নুর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে ফিল্মফেয়ারে সেরা জনপ্রিয় অভিনেত্রীর পুরস্কার। অন্যদিকে সেরা অভিনেত্রীর সমালোচনা বিভাগে জয়ী হয়েছেন তিলোত্তমা সোম। অন্য সব নামের তুলনায় এই নামটি ‘অপরিচিত’ই। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই কাজ করছিলেন তিলোত্তমা। সেই সময় সেখানে ইরফান খানের একটা সেমিনারে যোগ দেন তিলোত্তমা। সেমিনার শেষে ইরফান তাঁকে ডেকেছিলেন।

default-image

স্টেজের পেছনে এই অভিনেতা তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি তো তোমাকে চিনি। তুমি তো অভিনয় করতে, তাই না? তোমাকে এমন বিষণ্ন দেখাচ্ছে কেন? তুমি যা চাও, তা করছ তো?’ এই কথাটুকুই বদলে দিল তিলোত্তমার জীবন। মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে তিনি ফিরে এলেন ভারতে। আবার শুরু করলেন অভিনয়শিল্পীর সংগ্রামী জীবন। ইরফান খানের সঙ্গেই অভিনয় করলেন হিন্দি মিডিয়াম সিনেমায়।

default-image

‘স্যার’ সিনেমায় রত্না নামের এক গৃহকর্মীর চরিত্র তাঁকে নিয়ে গেল কান চলচ্চিত্র উৎসবে। সেই গৃহকর্মীর সঙ্গে প্রেম হয় বাড়ির কর্তা বিবেকের। কিন্তু গৃহকর্মী আর বাড়ির মালিকের প্রেমটা হজম হয় না আশপাশের কারও। এমনকি সেই গৃহকর্মী নিজেও মেনে নিতে পারে না সেই প্রেম। বিবেক চলে যায় আমেরিকা। আর রত্না সেলাই মেশিনের কাজ শেখে। ডিজাইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে নিজেকে। তারপর একদিন ফোন করে সেই গৃহকর্তাকে। সেদিন আর তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে না। বাড়ির ছাদ থেকে সে বলে, ‘হ্যালো বিবেক?’ আর শেষ হয়ে যায় সিনেমা। সেই চরিত্রই তাঁর হাতে তুলে দিল জীবনের প্রথম ফিল্মফেয়ার।

default-image

২৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলিউডের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী পুরস্কার ফিল্মফেয়ারের ৬৬তম আসর। করোনা পরিস্থিতিতেও এদিন বলিউডের অনেক নামী তারকাদের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকাঙ্ক্ষিত সেই ‘ব্ল্যাকলেডি’।

একনজরে ৬৬তম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার


সেরা সিনেমা: থাপ্পড়
সেরা সিনেমা (সমালোচক): ইব অ্যালে ও
সেরা অভিনেতা: ইরফান খান (আংরেজি মিডিয়াম)
সেরা অভিনেতা (সমালোচক): অমিতাভ বচ্চন (গুলাবো সিতাবো)
সেরা অভিনেত্রী: তাপসী পান্নু (থাপ্পড়)
সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক): তিলোত্তমা সোম (স্যার)
সেরা পরিচালক: ওম রাউত (তানাজি: দ্য আনসাং ওয়ারিয়র)
সেরা সহ–অভিনেতা: সাইফ আলী খান (তানাজি: দ্য আনসাং ওয়ারিয়র)
সেরা সহ–অভিনেত্রী: ফারোখ জাফর (গুলাবো সিতাবো)

default-image

সেরা চিত্রনাট্য: অনুভব সুশীলা সিনহা ও মৃন্ময়ী লাগু ওয়াইকুল (থাপ্পড়)
সেরা সংলাপ: জুহি চতুর্বেদী (গুলাবো সিতাবো)
সেরা নবাগত পরিচালক: রাজেশ কৃষ্ণ (লুটকেস)
সেরা নবাগত অভিনেত্রী: আলিয়া ফার্নিচারওয়ালা (জওয়ানি জানেমান)
সেরা মিউজিক অ্যালবাম: লুডো (প্রীতম)
সেরা গায়ক: রাঘব চৈতন্য (এক টুকরা ধুপ, থাপ্পড়)
সেরা গায়িকা: আশীষ কৌর (মালাং, মালাং)
সেরা সম্পাদনা: যশা পুষ্পা রামচন্দানি (থাপ্পড়)
সেরা চিত্রগ্রহণ: অভিক মুখোপাধ্যায় (গুলাবো সিতাবো)
সেরা কোরিওগ্রাফি: ফারাহ খান (দিল বেচারা)
সেরা কস্টিউম ডিজাইন: বীরা কাপুর (গুলাবো সিতাবো)
সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন: মানসী ধ্রুব মেহতা (গুলাবো সিতাবো)
সেরা সাউন্ড ডিজাইন: কামদ খারার (থাপ্পড়)
সেরা ভিএফএক্স: প্রসাদ সুতার (এনওয়াই ভিএফএক্স ওয়ালা, তানহাজি—দ্য আনসাং

বিজ্ঞাপন
বলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন